ভোলা সদর: স্বপ্নে দেখানো কারণে দাফনের ১৮ দিন পর ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ গ্রামে ২০ বছরীয়া মরিয়মের কবর খুঁড়ে দেখেন স্বজনরা। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
মরিয়ম একই গ্রামের দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে একমাত্র দুই মেয়ে ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। কুরবানীর ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে কয়েকদিন অসুস্থ হলে পরিবার ঘরেই চিকিৎসা শুরু করে। ঈদের ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার পর কিছুক্ষণ পর মারা যান এবং পরদিন বাড়ির সামনের মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কয়েকদিনের মধ্যে কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে মরিয়ম তাঁর বড় ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে বলেছেন কবরের মধ্যে তিনি জীবিত—এই অভিযোগও ওঠে। এসব কজ নিয়ে প্রতিদিন উৎসুক জনতা কবরের আশপাশে ভিড় করতে থাকে।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম বলেন, আমি মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। পরিবারের লোকেরা আমাকে জানায়, তারা স্বপ্নে দেখেছেন মরিয়ম কবরের ভিতরে জীবিত আছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে জানানোর পর তারা এটিকে অবাস্তব হিসেবে বলেছেন। কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়া নিজেও শুনেছেন; এরপর কবরের উপর পড়ে থাকা মাটিতে পুনরায় মাটি দেবার ফতোয়া দিলে স্বজনরা তা মেনে নেন।
অবশেষে গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রায় ৩০০-৪০০ জনের উপস্থিতিতে মরিয়মের স্বজনরা কবর খোঁড়ে দেখতে যান। কবর খোলার পর মরিয়মের দেহ পচনধর্মী অবস্থায় পান; পরে দেহকে আবার কবরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কবর খোঁড়ার কাজে সঙ্গে থাকা স্থানীয় মো.কালু বলেন, ‘‘আমার কাছে তারা বলেছিল কবরের ভিতরে সে বেঁচে আছে কি না দেখা হবে, সেজন্যই সহায়তা করেছি। কবর খোলার পর আমরা দেখতে পাই সে মৃত অবস্থাতেই রয়েছে; কবর থেকে কোনো সুগন্ধিও পাইনি।’’
প্রতিবেশী মো.লোকমান লাহারি জানান, মরিয়ম কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে কাজ করত। ঈদের সময় বাড়ি এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে; পরিবারের ডাক্তার দেখানোর পর ঈদের ভোরে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে এবং সকালে দাফন করা হয়।
কবর খোলায় রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামের লোকেরা কবরটি দেখতে আসেন। মমতাজ বেগম, মো. নাজিম, সোহাগ, মিদুল ও হান্নান বলেন, ‘‘শুনেছি সে কবরের মধ্যে বাঁচে এবং কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে—এমন কথা শুনে আমরা কবরের কাছে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখি সে কবরের মধ্যে বেঁচে নেই এবং কোনো সুগন্ধিও পান না।’’
মরিয়মের পরিবার শোকাহত অবস্থায় সরাসরি বিশদভাবে কথা বলতে রাজি না হলেও জানায়, সন্দেহ কাটাতে কবর খোঁড়া হয়েছিল এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তাদের কবর থেকে সুগন্ধি আসছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন মরিয়ম কবরের ভিতরে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি—কবর খুঁড়ে দেখার আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এ বিষয়ে আমি আজকে কবর খুঁড়ার ব্যাপারে অবগত নই।’’
স্থানীয়রা ধারণা করেন, মরিয়ম পরিবারের আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন—মরণের পর পরিবারের চিন্তা-আতঙ্ক ও শোকের কারণে স্বপ্নে এমন দৃশ্য দেখা এবং গুজব ছড়ানো হতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো আলোচনা চলছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























