০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
হাম টিকাদানে গাফিলতি ধরা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকা-মানবাধিকার লঙ্ঘন শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেশে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ রূপ বদলেছে, অনেকেই পালিয়ে গেছে

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি সাম্প্রতিক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তীব্র সমালোচনা করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মপ্রণালী ও অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক “বাণিজ্যকেন্দ্র” গড়ে উঠেছিল যেটি তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে পরিচয় দিয়েছেন এবং সেই গোষ্ঠীর বর্তমান অবস্থান, তাদের কুশাসন ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের খতিয়ান ভিডিওতে তুলে ধরেছেন।

রনি ব্যাখ্যা করেছেন, এই ‘কোম্পানি’ যেসব অংশ নিয়ে গঠিত ছিল তাদের মধ্যে কয়েকটি প্রধান শাখা ছিল। প্রথমত, শীর্ষস্থানে থাকা কিছু ব্যবসায়ি গোষ্ঠী যারা ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় সুবিধা নিয়ে লুটপাট করেছে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর এমন কিছু সদস্য যারা ব্যক্তিগতভাবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন বা চট্টগ্রামভিত্তিক ছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের এক বৃহৎ চক্র ছিল, যারা ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকা তুলে নিয়ে তা নিজেদের মত করে ব্যয় করেছে—এগুলোই, রনির ভাষ্য, ওই সময়কার অর্থনৈতিক অনিয়মের মূল চালিকাশক্তি ছিল।

অর্থনৈতিক বিষয়গুলো তুলে ধরে রনি বলেছেন, সরকারি ঋণের পরিমাণ পরে যেখানে ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ওই ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় খরচ করা হলো। একই সঙ্গে রনি অভিযোগ করেন যে বড় বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ করা, রিশিডিউলের নামে সুবিধা দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে সুবিধা করে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় অংশ নষ্ট হয়েছে।

রনির দাবি, উন্নয়ন কর্মসূচি ও এডিপি মিলিয়ে গত দু’বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ হয়নি এবং সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার দেখা যায়নি। তিনি এসব সংখ্যার উত্স ও ব্যবহার সম্পর্কেও সম্যক তদন্ত দাবি করেছেন।

ভিডিওর শেষভাগে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয় তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই ‘কোম্পানি’র শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমালোচকদের সর্বক্ষেত্রে নাজেহাল ও অপমান করেছে—ফলত: তাদের মধ্যে এখন কোনও নৈতিক সাহস বা ‘মোরাল কারেজ’ আর নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে, কিছু সদস্য নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে নিয়েছে, এবং বাকি অনেকে বিচার এড়াতে বিদেশে পালিয়ে গেছে।

গোলাম মাওলা রনি এইসব অনিয়ম, লুটপাট ও তহবিলের অপব্যবহারের ব্যাপারে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকা-মানবাধিকার লঙ্ঘন

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ রূপ বদলেছে, অনেকেই পালিয়ে গেছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি সাম্প্রতিক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তীব্র সমালোচনা করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মপ্রণালী ও অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক “বাণিজ্যকেন্দ্র” গড়ে উঠেছিল যেটি তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে পরিচয় দিয়েছেন এবং সেই গোষ্ঠীর বর্তমান অবস্থান, তাদের কুশাসন ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের খতিয়ান ভিডিওতে তুলে ধরেছেন।

রনি ব্যাখ্যা করেছেন, এই ‘কোম্পানি’ যেসব অংশ নিয়ে গঠিত ছিল তাদের মধ্যে কয়েকটি প্রধান শাখা ছিল। প্রথমত, শীর্ষস্থানে থাকা কিছু ব্যবসায়ি গোষ্ঠী যারা ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় সুবিধা নিয়ে লুটপাট করেছে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর এমন কিছু সদস্য যারা ব্যক্তিগতভাবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন বা চট্টগ্রামভিত্তিক ছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের এক বৃহৎ চক্র ছিল, যারা ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকা তুলে নিয়ে তা নিজেদের মত করে ব্যয় করেছে—এগুলোই, রনির ভাষ্য, ওই সময়কার অর্থনৈতিক অনিয়মের মূল চালিকাশক্তি ছিল।

অর্থনৈতিক বিষয়গুলো তুলে ধরে রনি বলেছেন, সরকারি ঋণের পরিমাণ পরে যেখানে ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ওই ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় খরচ করা হলো। একই সঙ্গে রনি অভিযোগ করেন যে বড় বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ করা, রিশিডিউলের নামে সুবিধা দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে সুবিধা করে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় অংশ নষ্ট হয়েছে।

রনির দাবি, উন্নয়ন কর্মসূচি ও এডিপি মিলিয়ে গত দু’বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ হয়নি এবং সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার দেখা যায়নি। তিনি এসব সংখ্যার উত্স ও ব্যবহার সম্পর্কেও সম্যক তদন্ত দাবি করেছেন।

ভিডিওর শেষভাগে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয় তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই ‘কোম্পানি’র শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমালোচকদের সর্বক্ষেত্রে নাজেহাল ও অপমান করেছে—ফলত: তাদের মধ্যে এখন কোনও নৈতিক সাহস বা ‘মোরাল কারেজ’ আর নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে, কিছু সদস্য নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে নিয়েছে, এবং বাকি অনেকে বিচার এড়াতে বিদেশে পালিয়ে গেছে।

গোলাম মাওলা রনি এইসব অনিয়ম, লুটপাট ও তহবিলের অপব্যবহারের ব্যাপারে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন।