০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসি গঠন করল পাঁচ সদস্যের কমিটি ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত ১০, আক্রান্ত ৫ হাজার ৩৯ গাঁজা অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের তীব্র সংঘর্ষ,多人 আহত চলতি অর্থবছরে বিটিভির আয় ৮ কোটি, ব্যয় ২৫৪ কোটি: তথ্যমন্ত্রী ঢাকা-সহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আর্জি: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলুন সিপিডি: প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন আয়ের ওপর করের বোঝা অনুপাতে বেশি বেড়েছে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে নতুন রূপে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের স্ত্রীবৎসরজীকালের গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের প্রতিবাদে নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স এই গানটি সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ করেছেন এবং তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি শিল্পী মোনা মিয়ারি—নতুন সংস্করণের নাম রাখা হয়েছে ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’ (Comfortably Numb Re-Imagined)।

১৯৭৯ সালের অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর কালজয়ী গান হিসেবে খ্যাত এই ট্র্যাকটির জন্মের পেছনে আছে রজার ওয়াটার্সের ব্যক্তিগত এক অভিজ্ঞতা: ১৯৭৭ সালের এক লাইভ শোর আগে পেটের তীব্র ব্যথায় ভুগতে থাকা ওয়াটার্সকে চিকিৎসকেরা সতেজ রাখার জন্য ইনজেকশন দেন, যা তাকে সাময়িকভাবে অসাড় করে তোলে—এসবই ছিল মূল গানের বীজ, যেখানে মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও উদাসীনতার ছবি ফুটে উঠেছিল।

তবে নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত ‘অবশতা’কে পরিণত করা হয়েছে বৈশ্বিক শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের এক শক্তিশালী সূত্রে। রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি মূল গানের কথাগুলো অনেক অংশে পাল্টে দিয়ে সরাসরি প্রতিবাদসূচক বার্তা নিয়েছেন—গানে বলা হয়েছে, “আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।” পাশাপাশি গানে জোর দেওয়া হয়েছে সবার জন্য সমান মানবাধিকার, নদী থেকে সাগর পর্যন্ত ন্যায়বিচারের দাবি এবং ফিলিস্তিন মুক্তির আবেদন।

গানের অন্যতম হৃদয়আঁচড় অংশটি হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া আরবি অংশ ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি তৈরি করা হয়েছে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ষড়বছরীয়া শিশু হিন্দ রজবকে স্মরণ করে—এই অংশে একটি মা ও হারানো সন্তানের কল্পিত কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে, যা শ্রোতার মনে গভীর আবেগ জাগায়।

গানের সঙ্গে জুড়ে প্রায় নয় মিনিটের একটি শর্ট ফিল্ম করা হয়েছে, যেখানে গাজার ধ্বংসস্তূপ ও বাস্তব দৃশ্যাবলী দেখিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এ-কালের এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করে এই গান ও শর্ট ফিল্মটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন তাদের ইউটিউব চ্যানেলে অফিসিয়াল ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করা হয়।

এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত আয় সরাসরি দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’ (Palestine Children’s Relief Fund)-এর জরুরি সাহায্য তহবিলে, যা গাজার আহত ও সংকটে থাকা শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত। সংগীতের এই নতুন রূপ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী এবং ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পাচার-লুটের টাকা দিয়ে দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে নতুন রূপে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের স্ত্রীবৎসরজীকালের গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের প্রতিবাদে নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স এই গানটি সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ করেছেন এবং তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি শিল্পী মোনা মিয়ারি—নতুন সংস্করণের নাম রাখা হয়েছে ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’ (Comfortably Numb Re-Imagined)।

১৯৭৯ সালের অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর কালজয়ী গান হিসেবে খ্যাত এই ট্র্যাকটির জন্মের পেছনে আছে রজার ওয়াটার্সের ব্যক্তিগত এক অভিজ্ঞতা: ১৯৭৭ সালের এক লাইভ শোর আগে পেটের তীব্র ব্যথায় ভুগতে থাকা ওয়াটার্সকে চিকিৎসকেরা সতেজ রাখার জন্য ইনজেকশন দেন, যা তাকে সাময়িকভাবে অসাড় করে তোলে—এসবই ছিল মূল গানের বীজ, যেখানে মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও উদাসীনতার ছবি ফুটে উঠেছিল।

তবে নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত ‘অবশতা’কে পরিণত করা হয়েছে বৈশ্বিক শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের এক শক্তিশালী সূত্রে। রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি মূল গানের কথাগুলো অনেক অংশে পাল্টে দিয়ে সরাসরি প্রতিবাদসূচক বার্তা নিয়েছেন—গানে বলা হয়েছে, “আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।” পাশাপাশি গানে জোর দেওয়া হয়েছে সবার জন্য সমান মানবাধিকার, নদী থেকে সাগর পর্যন্ত ন্যায়বিচারের দাবি এবং ফিলিস্তিন মুক্তির আবেদন।

গানের অন্যতম হৃদয়আঁচড় অংশটি হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া আরবি অংশ ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি তৈরি করা হয়েছে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ষড়বছরীয়া শিশু হিন্দ রজবকে স্মরণ করে—এই অংশে একটি মা ও হারানো সন্তানের কল্পিত কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে, যা শ্রোতার মনে গভীর আবেগ জাগায়।

গানের সঙ্গে জুড়ে প্রায় নয় মিনিটের একটি শর্ট ফিল্ম করা হয়েছে, যেখানে গাজার ধ্বংসস্তূপ ও বাস্তব দৃশ্যাবলী দেখিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এ-কালের এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করে এই গান ও শর্ট ফিল্মটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন তাদের ইউটিউব চ্যানেলে অফিসিয়াল ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করা হয়।

এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত আয় সরাসরি দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’ (Palestine Children’s Relief Fund)-এর জরুরি সাহায্য তহবিলে, যা গাজার আহত ও সংকটে থাকা শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত। সংগীতের এই নতুন রূপ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী এবং ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।