০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় শীঘ্রই খুলবে দীর্ঘ দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করল ভারত দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির কাছে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে পরিচয়পত্রপেশ দীর্ঘ দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন বৈষম্য কমাতে দুই ধাপে বাস্তবায়নই পথে ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন অর্থনীতির সংকট গভীর, স্থিতিশীল করতে লাগবে অন্তত দুই বছর: অর্থমন্ত্রী

জাপানের শীর্ষ ব্যাংক এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে

বিশ্বের অন্যতম বড় ও জাপানের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং গ্রুপ Mitsubishi UFJ Financial Group (এমইউএফজি) বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক শাখা স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ১৯৯০ সাল থেকেই ঢাকায় প্রতিনিধি অফিস চালিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম বিস্তৃত করতে আগ্রহী। বিষয়টি সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।

প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, তারা মূলত ‘করিডোর ব্যাংকিং’ মডেলে বাংলাদেশে কাজ করতে চায় — যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক সেতু হিসেবে কাজ করবে। এই মডেল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে কর্মরত জাপানি কোম্পানি ও বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থার জন্য করপোরেট ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং তহবিল সরবরাহে সুবিধা বাড়বে। বিশেষ করে জাইকা (JICA) মত বড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন এমইউএফজির মাধ্যমে হলে পরিচালনাগত জটিলতা ও খরচ কমবে বলে তারা আশা করছে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মতো হলেও উন্নত ব্যাংকিং সেবার ফলে এই পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে আলোচিত হয়েছে।

তবে এমইউএফজি প্রতিনিধি দল বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ থাকাকে উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা জানতে চেয়েছে যে বর্তমান খেলাপি ঋণের চাপ বজায় থাকলে বিনিয়োগ ও শাখা সম্প্রসারণের জন্য এটাই উপযুক্ত সময় কি না। পাশাপাশি তারা বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রতিনিধিদল বলেছে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ তাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

প্রতিপ্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে খেলাপি ঋণের তথ্যগুলোর স্বচ্ছতা বাড়ানো হচ্ছে এবং ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’-এর মাধ্যমে পুরো খাতের সংস্কার কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারের মোট চিত্র বিবেচনায় অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং তারা সন্তোষজনক মুনাফা অর্জন করছে। গভর্নর ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ কমে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ শাখা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। দুই পক্ষই অর্থনীতিগত সুরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্য লেনদেন সহজীকরণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এমইউএফজির আগ্রহ বাস্তবে রূপ নেয় কি না — তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কারগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নীতিমালার বাস্তবায়নের ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় শীঘ্রই খুলবে

জাপানের শীর্ষ ব্যাংক এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম বড় ও জাপানের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং গ্রুপ Mitsubishi UFJ Financial Group (এমইউএফজি) বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক শাখা স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ১৯৯০ সাল থেকেই ঢাকায় প্রতিনিধি অফিস চালিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম বিস্তৃত করতে আগ্রহী। বিষয়টি সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।

প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, তারা মূলত ‘করিডোর ব্যাংকিং’ মডেলে বাংলাদেশে কাজ করতে চায় — যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক সেতু হিসেবে কাজ করবে। এই মডেল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে কর্মরত জাপানি কোম্পানি ও বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থার জন্য করপোরেট ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং তহবিল সরবরাহে সুবিধা বাড়বে। বিশেষ করে জাইকা (JICA) মত বড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন এমইউএফজির মাধ্যমে হলে পরিচালনাগত জটিলতা ও খরচ কমবে বলে তারা আশা করছে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মতো হলেও উন্নত ব্যাংকিং সেবার ফলে এই পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে আলোচিত হয়েছে।

তবে এমইউএফজি প্রতিনিধি দল বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ থাকাকে উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা জানতে চেয়েছে যে বর্তমান খেলাপি ঋণের চাপ বজায় থাকলে বিনিয়োগ ও শাখা সম্প্রসারণের জন্য এটাই উপযুক্ত সময় কি না। পাশাপাশি তারা বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রতিনিধিদল বলেছে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ তাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

প্রতিপ্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে খেলাপি ঋণের তথ্যগুলোর স্বচ্ছতা বাড়ানো হচ্ছে এবং ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’-এর মাধ্যমে পুরো খাতের সংস্কার কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারের মোট চিত্র বিবেচনায় অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং তারা সন্তোষজনক মুনাফা অর্জন করছে। গভর্নর ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ কমে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ শাখা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। দুই পক্ষই অর্থনীতিগত সুরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্য লেনদেন সহজীকরণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এমইউএফজির আগ্রহ বাস্তবে রূপ নেয় কি না — তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কারগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নীতিমালার বাস্তবায়নের ওপর।