০৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জাপানের এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খুলতে আগ্রহী

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জাপানি ব্যাংক Mitsubishi UFJ Financial Group (এমইউএফজি) বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক শাখা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকায় কেবল প্রতিনিধি অফিস চালানো এই ব্যাংকটি এখন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশেও তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়েছে।

এমইউএফজি প্রতিনিধি দল বলেছে, তারা মূলত ‘করিডোর ব্যাংকিং’ মডেলে কাজ করতে আগ্রহী — অর্থাৎ দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে সহজ ও দ্রুত করার জন্য আর্থিক সেবা সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের বাজারে পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপিত হলে দেশজুড়ে কার্যরত জাপানি কোম্পানিগুলো করপোরেট ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বাণিজ্য তহবিল পাওয়া আরও সহজ হবে। জাইকা (JICA) মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক লেনদেনও এই ব্যাংকের মাধ্যমে হলে পরিচালনাগত জটিলতা ও খরচ দুটোই কমবে বলে তারা মনে করছে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার হলেও উন্নত ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এমইউএফজি পক্ষ।

তবে প্রতিনিধিদল একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ (NPL) নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও শাখা সম্প্রসারণের জন্য এটি কি উপযুক্ত সময় কি না। প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংক পরিচালনার ভবিষ্যত সুযোগ-সুবিধা, নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ও বাজারের স্থিতিশীলতা সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান এবং বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখছেন।

প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র এখন স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’ ও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো খাতটি শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশে কার্যরত অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং লাভবান কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং আইনি-নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে এগোনোর সুযোগ রাখা হবে। এমইউএফজি পক্ষ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য ও প্রতিশ্রুতির আলোকে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন এবং স্থানীয় বাজারে আরও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলে, তা জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ও পরিষেবার প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। তবে এটা নির্ভর করবে নীতিগত স্থিতিশীলতা, খেলাপি ঋণ হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নীতিমালার উপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জাপানের এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খুলতে আগ্রহী

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জাপানি ব্যাংক Mitsubishi UFJ Financial Group (এমইউএফজি) বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক শাখা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকায় কেবল প্রতিনিধি অফিস চালানো এই ব্যাংকটি এখন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশেও তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়েছে।

এমইউএফজি প্রতিনিধি দল বলেছে, তারা মূলত ‘করিডোর ব্যাংকিং’ মডেলে কাজ করতে আগ্রহী — অর্থাৎ দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে সহজ ও দ্রুত করার জন্য আর্থিক সেবা সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের বাজারে পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপিত হলে দেশজুড়ে কার্যরত জাপানি কোম্পানিগুলো করপোরেট ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বাণিজ্য তহবিল পাওয়া আরও সহজ হবে। জাইকা (JICA) মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক লেনদেনও এই ব্যাংকের মাধ্যমে হলে পরিচালনাগত জটিলতা ও খরচ দুটোই কমবে বলে তারা মনে করছে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার হলেও উন্নত ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এমইউএফজি পক্ষ।

তবে প্রতিনিধিদল একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ (NPL) নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও শাখা সম্প্রসারণের জন্য এটি কি উপযুক্ত সময় কি না। প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংক পরিচালনার ভবিষ্যত সুযোগ-সুবিধা, নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ও বাজারের স্থিতিশীলতা সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান এবং বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখছেন।

প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র এখন স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’ ও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো খাতটি শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশে কার্যরত অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং লাভবান কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং আইনি-নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে এগোনোর সুযোগ রাখা হবে। এমইউএফজি পক্ষ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য ও প্রতিশ্রুতির আলোকে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন এবং স্থানীয় বাজারে আরও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলে, তা জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ও পরিষেবার প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। তবে এটা নির্ভর করবে নীতিগত স্থিতিশীলতা, খেলাপি ঋণ হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নীতিমালার উপর।