০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: বাংলাদেশিসহ সব বিদেশিকে ভ্রমণে নিজের খরচ নিশ্চিত করতে হবে খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশকে ১.০১৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক মালয়েশিয়া–চীন সফরের সফলতায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেনজীর ফেরানোর জন্য দুবাইয়ের জবাবের অপেক্ষায় সরকার চীন সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ফিরিয়ে আনার জন্য দুবাইয়ের জবাবের অপেক্ষায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুমের শিকারদের পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আজ রাতেই ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী — শোডাউন, র‌্যালি ও গণজমায়েত নিষেধ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় শীঘ্রই খুলবে

উরুগুয়ে হারিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপ সেরা স্পেন

বিশ্বকাপের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে ২০১০ সালের বিশ্বজয়ী স্পেন। গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্পেনের জয়ের একমাত্র গোলটি করেছেন তরুণ মিডফিল্ডার অ্যালেক্স বায়েনা, যা তার কন্যাশীতে বিশ্বকাপে প্রথম গোল বলে রেকর্ডে এসেছে।

এই ফলের ফলে উরুগুয়ে ফুটবলের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় রচনা করেছে; নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই আসরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই লক্ষ্যভ্রষ্ট ছিল—স্পেন বলের দখলে সামান্য এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে স্প্যানিশরা বড় কোনো সুযোগ গড়তে পারছিল না। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। ডান রাস্তায় মার্কোস লরেন্তে বাড়ানো বল বক্সে পৌঁছালে ২৪ বছর বয়সী বায়েনা ডান পায়ে জোরালো শট নেন। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরা দুই হাতে বল আটকানোর চেষ্টা করলেও গ্লাভস ফসকে বল জালে জড়িয়ে যায় এবং স্পেন এগিয়ে যায়।

প্রথম গোল হজমের মাত্র তিন মিনিট পর উরুগুয়ের জন্য বড় ধাক্কা আসে—হাঁটুর মারাত্মক চোটে তাদের প্রধান ডিফেন্ডার মানুয়েল উগার্তে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন। এই ঘটনার পর উরুগুয়ের প্রধান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা দ্বিতীয়ার্ধে মুসলেরাকে আর মাঠে নামাননি; তাঁর বদলে নামানো হয় সের্হিও রোচেতকে।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন গোলসংখ্যি বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালায়। ৬৩তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের চমৎকার পাস থেকে দানি ওলমো এক সুযোগ পান, তবে পোস্টের ওপরে দিয়ে বার করে দেন। ম্যাচের শেষ ভাগে উভয় দলই আক্রমণ-প্রতিউত্তরে কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত সৃষ্টি করে—৮৬তম মিনিটে উরুগুয়ের দে লা ক্রুসের বিপজ্জনক শট অসাধারণভাবে আটকান স্পেনীয় গোলরক্ষক উনাই সিমন। পরের মুহূর্তে কাউন্টার থেকে বক্সে ঢুকেই ওয়ান-অন-ওয়ানে সুযোগ নেয়েন ফেররান টোরেস, কিন্তু ক্রসবারে লেগে বল ফিরে আসায় গোল হল না।

যোগ করা সময়েও উরুগুয়ে একটি পেনাল্টির আবেদন করে—ফেদেরিকো ভিনাস স্পেনের বক্সে পড়ে গেলে রেফারির কাছে জোরালো জরুরি দাবি জানানো হয়, কিন্তু রেফারি তা নাকচ করে দেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উরুগুয়ের কানোবিওকে মারাত্মক ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি, যা ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেষপর্যন্ত তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বে স্পেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। আর তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট করে নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্ড। উল্টো দিকে মাত্র ২ পয়েন্ট করে পাওয়া উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশকে ১.০১৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

উরুগুয়ে হারিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপ সেরা স্পেন

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে ২০১০ সালের বিশ্বজয়ী স্পেন। গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্পেনের জয়ের একমাত্র গোলটি করেছেন তরুণ মিডফিল্ডার অ্যালেক্স বায়েনা, যা তার কন্যাশীতে বিশ্বকাপে প্রথম গোল বলে রেকর্ডে এসেছে।

এই ফলের ফলে উরুগুয়ে ফুটবলের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় রচনা করেছে; নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই আসরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই লক্ষ্যভ্রষ্ট ছিল—স্পেন বলের দখলে সামান্য এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে স্প্যানিশরা বড় কোনো সুযোগ গড়তে পারছিল না। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। ডান রাস্তায় মার্কোস লরেন্তে বাড়ানো বল বক্সে পৌঁছালে ২৪ বছর বয়সী বায়েনা ডান পায়ে জোরালো শট নেন। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরা দুই হাতে বল আটকানোর চেষ্টা করলেও গ্লাভস ফসকে বল জালে জড়িয়ে যায় এবং স্পেন এগিয়ে যায়।

প্রথম গোল হজমের মাত্র তিন মিনিট পর উরুগুয়ের জন্য বড় ধাক্কা আসে—হাঁটুর মারাত্মক চোটে তাদের প্রধান ডিফেন্ডার মানুয়েল উগার্তে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন। এই ঘটনার পর উরুগুয়ের প্রধান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা দ্বিতীয়ার্ধে মুসলেরাকে আর মাঠে নামাননি; তাঁর বদলে নামানো হয় সের্হিও রোচেতকে।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন গোলসংখ্যি বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালায়। ৬৩তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের চমৎকার পাস থেকে দানি ওলমো এক সুযোগ পান, তবে পোস্টের ওপরে দিয়ে বার করে দেন। ম্যাচের শেষ ভাগে উভয় দলই আক্রমণ-প্রতিউত্তরে কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত সৃষ্টি করে—৮৬তম মিনিটে উরুগুয়ের দে লা ক্রুসের বিপজ্জনক শট অসাধারণভাবে আটকান স্পেনীয় গোলরক্ষক উনাই সিমন। পরের মুহূর্তে কাউন্টার থেকে বক্সে ঢুকেই ওয়ান-অন-ওয়ানে সুযোগ নেয়েন ফেররান টোরেস, কিন্তু ক্রসবারে লেগে বল ফিরে আসায় গোল হল না।

যোগ করা সময়েও উরুগুয়ে একটি পেনাল্টির আবেদন করে—ফেদেরিকো ভিনাস স্পেনের বক্সে পড়ে গেলে রেফারির কাছে জোরালো জরুরি দাবি জানানো হয়, কিন্তু রেফারি তা নাকচ করে দেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উরুগুয়ের কানোবিওকে মারাত্মক ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি, যা ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেষপর্যন্ত তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বে স্পেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। আর তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট করে নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্ড। উল্টো দিকে মাত্র ২ পয়েন্ট করে পাওয়া উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে।