০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আগামী ১০ জুলাই ঢামেক পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল: মো. মনিরুল ইসলাম নিয়োগ দুদকের শীর্ষপদে রদবদল: মনিরুল ইসলাম নতুন মহাপরিচালক আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ঢামেক পরিদর্শনে যাচ্ছেন ডেঙ্গু মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা: দেশে বাড়ছে আতঙ্ক ডিজিটাল অর্থনীতির চূড়ান্ত ধাপে বাংলাদেশ: বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’ কার্যকর সিন্দুক-পাহারা নয়, সাইবার নিরাপত্তা এখন বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শ্রদ্ধাভরে শেষ বিদায় সাইবার নিরাপত্তা সিন্দুক পাহারার চেয়ে বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায়

সাদের গল্পে রায়হানের ‘আইজ’—আর্ট ও বাণিজ্যের নতুন মেলবন্ধন

বাংলাদেশের সমসাময়িক চলচ্চিত্র জগতের দুই প্রতিভাশালী নির্মাতা—আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ ও রায়হান রাফী—অপেক্ষা শেষ করে এক প্রকল্পে হাতে মিলিয়েছেন। কান উৎসবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পাওয়া সাদ ছড়াবার গল্প লিখেছেন, আর বাণিজ্যিক ধারার সফল নির্মাতা রায়হান রাফী সেই গল্পে নির্মাণ করবেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আইজ’।

প্রযোজনা করবেন গুণী প্রযোজক তানভীর হোসেন। রায়হান রাফী জানিয়েছেন, প্রজেক্টটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মর্যাদাপূর্ণ ‘কোপ্রো-অ্যাকসেস ল্যাব’-এ যৌথ প্রযোজনার জন্য জায়গা করে নিয়েছে—এটি নির্মাণরীতির দিক থেকে ইতিবাচক এবং দাবি রাখে এমন এক সূচক।

রায়হান রাফী মনে করেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পধর্মী (অফবিট) এবং বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, একটি ভালো ছবি একই সঙ্গে অনুভূতিপ্রবণ করতে পারে, নিখাদ বিনোদন দিতে পারে, জনসাধারণকে চিন্তাগ্রস্থও করতে পারে এবং দর্শকের মনোবিদ্যায় গভীরভাবে পৌঁছাতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘আইজ’-এর যাত্রা শুরু।

রাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আইজ আমাদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ ও স্বপ্নের প্রকল্প। এটি আমাকে, আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ ও তানভীর হোসেনকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে। আমরা তিনজনই তথ্যভিত্তিকভাবে ভিন্ন—চিন্তা-ধারা, সৃষ্টি প্রবণতা ও চলচ্চিত্র দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। সেই ভিন্নতাই এই কাজটিকে আমার কাছে রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, তাদের এই মেলবন্ধন থেকে দর্শক স্রষ্টাদের মিলিত শক্তি দিয়ে একটি মাস্টারপিস দেখতে পাবেন—সাদ যেখানে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, নীরবতা ও নৈতিক টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন, তানভীর সেখানে আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনা দক্ষতা, দূরদর্শিতা ও অধ্যবসায় তুলবেন, আর রাফী নিজের বাণিজ্যিক দক্ষতা দিয়ে ছবির গতি, স্কেল ও সাধারণ দর্শকের সঙ্গে সংযোগ ঠিক রাখবেন। রাফীর দৃঢ় বিশ্বাস, এই তিন শক্তির সমন্বয়ে ‘আইজ’ পর্দায় তার নিজস্ব ভাষা খুঁজে পাবে।

রায়হান রাফী গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক ধারায় সাফল্যের অনেক নমুনা রেখেছেন—’পরাণ’, ‘তুফান’, ‘সুড়ঙ্গ’ ও সর্বশেষ ‘তাণ্ডব’সহ তার প্রায় প্রতিটি ছবি বক্স অফিসে ঝকঝকে সাফল্য পেয়েছে। এই ব্যস্ত সময়ে ২০২৬ সালে তিনি ‘আন্ধার’ নামের ভৌতিক ছবির দৃশ্যধারণ শেষ করেছেন এবং শিগগিরই ‘সুড়ঙ্গ ২’ শুটিং শুরু করতে যাচ্ছেন; উভয়ই চলতি বছর বিভিন্ন উৎসবে মুক্তি পাবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।

অপর পাশে, সাদও দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাঁর প্রথম মাস্টারপিস ‘রেহানা মরিয়ম নূর’এর পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি করেছেন ‘অ্যানি’ শিরোনামের একটি মিনি সিরিজ। জুনে জার্মানির খ্যাতনামা ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যালে’ এর আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার হয়েছে এই সিরিজটির। নির্মাতা সূত্র বলছে, শিগগিরই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সাদের গল্প ও রাফীর পরিচালনায় বানানো ‘আইজ’ সিনেমা কি রূপালী পর্দায় একটি নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারবে—চলমান শিল্পধর্মী ও বাণিজ্যিক ধারার সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে কি না—এ প্রশ্নে দেশের সিনেমাপ্রেমীরা উৎসুক ও প্রতীক্ষায় রয়েছে। প্রজেক্টের পরবর্তী ঘোষণা ও শুটিং শিডিউল নিয়ে দ্রুতই আরও খবর আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল: মো. মনিরুল ইসলাম নিয়োগ

সাদের গল্পে রায়হানের ‘আইজ’—আর্ট ও বাণিজ্যের নতুন মেলবন্ধন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সমসাময়িক চলচ্চিত্র জগতের দুই প্রতিভাশালী নির্মাতা—আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ ও রায়হান রাফী—অপেক্ষা শেষ করে এক প্রকল্পে হাতে মিলিয়েছেন। কান উৎসবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পাওয়া সাদ ছড়াবার গল্প লিখেছেন, আর বাণিজ্যিক ধারার সফল নির্মাতা রায়হান রাফী সেই গল্পে নির্মাণ করবেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আইজ’।

প্রযোজনা করবেন গুণী প্রযোজক তানভীর হোসেন। রায়হান রাফী জানিয়েছেন, প্রজেক্টটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মর্যাদাপূর্ণ ‘কোপ্রো-অ্যাকসেস ল্যাব’-এ যৌথ প্রযোজনার জন্য জায়গা করে নিয়েছে—এটি নির্মাণরীতির দিক থেকে ইতিবাচক এবং দাবি রাখে এমন এক সূচক।

রায়হান রাফী মনে করেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পধর্মী (অফবিট) এবং বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, একটি ভালো ছবি একই সঙ্গে অনুভূতিপ্রবণ করতে পারে, নিখাদ বিনোদন দিতে পারে, জনসাধারণকে চিন্তাগ্রস্থও করতে পারে এবং দর্শকের মনোবিদ্যায় গভীরভাবে পৌঁছাতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘আইজ’-এর যাত্রা শুরু।

রাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আইজ আমাদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ ও স্বপ্নের প্রকল্প। এটি আমাকে, আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ ও তানভীর হোসেনকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে। আমরা তিনজনই তথ্যভিত্তিকভাবে ভিন্ন—চিন্তা-ধারা, সৃষ্টি প্রবণতা ও চলচ্চিত্র দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। সেই ভিন্নতাই এই কাজটিকে আমার কাছে রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, তাদের এই মেলবন্ধন থেকে দর্শক স্রষ্টাদের মিলিত শক্তি দিয়ে একটি মাস্টারপিস দেখতে পাবেন—সাদ যেখানে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, নীরবতা ও নৈতিক টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন, তানভীর সেখানে আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনা দক্ষতা, দূরদর্শিতা ও অধ্যবসায় তুলবেন, আর রাফী নিজের বাণিজ্যিক দক্ষতা দিয়ে ছবির গতি, স্কেল ও সাধারণ দর্শকের সঙ্গে সংযোগ ঠিক রাখবেন। রাফীর দৃঢ় বিশ্বাস, এই তিন শক্তির সমন্বয়ে ‘আইজ’ পর্দায় তার নিজস্ব ভাষা খুঁজে পাবে।

রায়হান রাফী গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক ধারায় সাফল্যের অনেক নমুনা রেখেছেন—’পরাণ’, ‘তুফান’, ‘সুড়ঙ্গ’ ও সর্বশেষ ‘তাণ্ডব’সহ তার প্রায় প্রতিটি ছবি বক্স অফিসে ঝকঝকে সাফল্য পেয়েছে। এই ব্যস্ত সময়ে ২০২৬ সালে তিনি ‘আন্ধার’ নামের ভৌতিক ছবির দৃশ্যধারণ শেষ করেছেন এবং শিগগিরই ‘সুড়ঙ্গ ২’ শুটিং শুরু করতে যাচ্ছেন; উভয়ই চলতি বছর বিভিন্ন উৎসবে মুক্তি পাবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।

অপর পাশে, সাদও দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাঁর প্রথম মাস্টারপিস ‘রেহানা মরিয়ম নূর’এর পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি করেছেন ‘অ্যানি’ শিরোনামের একটি মিনি সিরিজ। জুনে জার্মানির খ্যাতনামা ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যালে’ এর আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার হয়েছে এই সিরিজটির। নির্মাতা সূত্র বলছে, শিগগিরই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সাদের গল্প ও রাফীর পরিচালনায় বানানো ‘আইজ’ সিনেমা কি রূপালী পর্দায় একটি নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারবে—চলমান শিল্পধর্মী ও বাণিজ্যিক ধারার সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে কি না—এ প্রশ্নে দেশের সিনেমাপ্রেমীরা উৎসুক ও প্রতীক্ষায় রয়েছে। প্রজেক্টের পরবর্তী ঘোষণা ও শুটিং শিডিউল নিয়ে দ্রুতই আরও খবর আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।