বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২৫.৯১ শতাংশ বেড়ে চাঙ্গা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪২০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের একই মাসে সেই আয় ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এক বছরে আয় বাড়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। রপ্তানিতে এ উত্থানে সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। জুনে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.৫২ শতাংশ বেশি। এর ভেতর নিটওয়্যার থেকে এসেছে ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার এবং ওভেন (বোনা নয় এমন) পোশাক থেকে এসেছে ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও শক্তিশালী বাড়তি দেখা গেছে। হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি আয় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও ৪৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে 눈ে পড়ার মতো অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে কৃষিপণ্যে — এক বছরের ব্যবধানে ৪৬.৭৭ শতাংশ বাড়তে সেখানে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাজা সবজি, ফল, মসলা ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় এই বৃদ্ধিকে অনুপ্রাণিত করেছে।
যদিও জুন মাসের ফলাফল ইতিবাচক, পুরো বছর তুলে দিলে সামান্য নেতিবাচক নামমাত্র প্রবণতা বজায় রয়েছে। ইপিবির বরাত দিয়ে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) মোট রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার — যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম। বর্ষের প্রথম দিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক চাহিদার শিথিলতা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের সমস্যার কারণে রপ্তানি প্রত্যাশিতভাবে দুর্বল ছিল। তবু অর্থবছরের শেষ মাসে দেখা এই শক্তপোক্ত পুনরুদ্ধার রপ্তানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সম্প্রতি সমাপ্ত অর্থবছরে মোট ২৭ ধরনের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ; এর মধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং হোম টেক্সটাইল উল্লেখযোগ্য। রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে নতুন ক্রয়াদেশ, উৎপাদন সক্ষমতার উন্নতি এবং বিকল্প বাজার সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া জুন মাসের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক অভিমতও ব্যক্ত করেছেন—এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খল আরও মজবুত করা হয়, তাহলে আগামী অর্থবছরে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পোরত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























