৭২ বছরের অপেক্ষা শেষ করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড। গতকাল শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ১২০ মিনিট গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইউরোফুটবলের এই দলটি বিশ্বমঞ্চে রোমাঞ্চ সৃষ্টির এক নজির স্থাপন করেছে।
এবার তাদের সামনে সেমিফাইনালের পথে বড় এক বাধা—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে দুই দল, যেখানে সুইসরা ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ আট পৌঁছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোকাবেলায় ইতিহাস গড়ার সুযোগ তারা হারাতে চান না।
প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেছেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলাটা তাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ, তবে সেটা কোনোভাবেই অপরাজেয় প্রতিপক্ষ নয়। তিনি জানিয়েছেন, পুরো দল জয় লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে এবং কোনো সহজস্বীকার নেই।
দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ সতর্কভাবে যোগ করেছেন, লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার তারকারা যে বিপজ্জনক সেটি তারা ভালোভাবেই জানে, তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও একাগ্রতা প্রয়োজন হবে।
তবে সুইস শিবিরে ইনজুরি প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলা থেকে অনুপস্থিত ছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইয়োহান মানজাম্বি, এবং তাঁর সেমিতে খেলার যোগ্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। কোচ ইয়াকিন জানিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট না হলে মানজাম্বিকে নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না। এ ছাড়া মিশেল এবিশার ও লুকা ইয়াকেজও চোটজনিত কারণে এখনো ফিরে আসেননি, যা দলের পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করেছে।
চ্যালেঞ্জ বড় হলেও মনোবল রয়েছে; কঠোর প্রতিরক্ষা ও সমবায় ফুটবলের ওপরই নির্ভর করে সুইজারল্যান্ড আগামি ম্যাচে দায়িত্বশীল ও সাহসী ফুটবলের আশা করছে। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ে তোলার স্বপ্নই এখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























