০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী

দুই চুলার গ্যাসের দাম ৫১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে তিতাস

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পর এবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস। এতে এক চুলার বিল ৩৮৯ টাকা বেড়ে হবে ১ হাজার ৩৭৯ টাকা এবং দুই চুলার বিল ৫১২ টাকা বেড়ে হবে ১ হাজার ৫৯২ টাকা। গত ২ মে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব পাঠিয়েছে তিতাস।

এর আগে গত জুনে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। এ সময় প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মিটার ছাড়া গ্রাহকদের জন্য মাসে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার ও এক চুলায় ৫৫ ঘনমিটার ধরা হয়। এতে দুই চুলার মাসিক বিল ১ হাজার ৮০ টাকা ও এক চুলার বিল ৯৯০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিশনের এ ঘোষণার ১০ মাস পর এতে আপত্তি জানিয়েছে তিতাস।

তিতাসের প্রস্তাবে বলা হয়, কমবেশি ২৫ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে কোনো সমীক্ষা বা তথ্য বিশ্লেষণ না করেই ঘনমিটারের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এতে কারিগরি ক্ষতি বেড়েছে এবং তিতাস আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তবে বিইআরসি বলছে, তিতাসের অভিযোগ সঠিক নয়। গত বছর গ্যাসের দাম নিয়ে শুনানির সময় তিতাসের ৩ লাখ ২০ হাজার ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ৫০ হাজার প্রিপেইড মিটার গ্রাহকের গ্যাস বিল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রতিমাসে দুই চুলার গ্রাহকরা গড়ে ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। কিন্তু মিটার ছাড়া গ্রাহকদের জন্য তা কিছুটা বাড়িয়ে ৬০ ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ সময় বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে ঘনমিটারের পরিমাণ আরও কমানো হবে।

অপরদিকে তিতাস দাবি করছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং রাজস্ব ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে চার শ্রেণির ব্যবহারকারীর জন্য গ্যাসের দাম ১৭৯% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার। সে সময় আবাসিক, সিএনজি, সার এবং চা বাগানের ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। তিতাসের চিঠিতে পোস্টেজ মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে গত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বিলের হিসাব দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, দুই চুলার মিটারযুক্ত আবাসিক গ্রাহকরা প্রতিমাসে গড়ে ৯৭ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। মার্চে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৭৪৪। বর্তমানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিতাসের ২৮ লাখ ৫৭ হাজার আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ লাখ ২৫ হাজার মিটারবিহীন ও ৩ লাখ ৩২ হাজার প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, কমিশনের হিসাবেই দেখা যায়, মিটারবিহীন দুই চুলার গ্রাহকের মাসে ৫০ ঘনমিটার এবং এক চুলার গ্রাহকরা মাসে ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন।বাস্তবে অনেক গ্রাহক সে পরিমাণে গ্যাস ব্যবহার করেন না। তিতাস এই সীমা পরিবর্তনের যে দাবি করেছে তা অযৌক্তিক। নিজেদের দুর্নীতি ও গ্যাস চুরি বৈধ করতে গ্যাসের দাম বাড়াতে চায়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন বলেন, তিতাসের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কমিশন। বিধি মোতাবেক এ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার

দুই চুলার গ্যাসের দাম ৫১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে তিতাস

প্রকাশিতঃ ১২:০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পর এবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস। এতে এক চুলার বিল ৩৮৯ টাকা বেড়ে হবে ১ হাজার ৩৭৯ টাকা এবং দুই চুলার বিল ৫১২ টাকা বেড়ে হবে ১ হাজার ৫৯২ টাকা। গত ২ মে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব পাঠিয়েছে তিতাস।

এর আগে গত জুনে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। এ সময় প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মিটার ছাড়া গ্রাহকদের জন্য মাসে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার ও এক চুলায় ৫৫ ঘনমিটার ধরা হয়। এতে দুই চুলার মাসিক বিল ১ হাজার ৮০ টাকা ও এক চুলার বিল ৯৯০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিশনের এ ঘোষণার ১০ মাস পর এতে আপত্তি জানিয়েছে তিতাস।

তিতাসের প্রস্তাবে বলা হয়, কমবেশি ২৫ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে কোনো সমীক্ষা বা তথ্য বিশ্লেষণ না করেই ঘনমিটারের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এতে কারিগরি ক্ষতি বেড়েছে এবং তিতাস আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তবে বিইআরসি বলছে, তিতাসের অভিযোগ সঠিক নয়। গত বছর গ্যাসের দাম নিয়ে শুনানির সময় তিতাসের ৩ লাখ ২০ হাজার ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ৫০ হাজার প্রিপেইড মিটার গ্রাহকের গ্যাস বিল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রতিমাসে দুই চুলার গ্রাহকরা গড়ে ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। কিন্তু মিটার ছাড়া গ্রাহকদের জন্য তা কিছুটা বাড়িয়ে ৬০ ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ সময় বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে ঘনমিটারের পরিমাণ আরও কমানো হবে।

অপরদিকে তিতাস দাবি করছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং রাজস্ব ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে চার শ্রেণির ব্যবহারকারীর জন্য গ্যাসের দাম ১৭৯% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার। সে সময় আবাসিক, সিএনজি, সার এবং চা বাগানের ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। তিতাসের চিঠিতে পোস্টেজ মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে গত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বিলের হিসাব দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, দুই চুলার মিটারযুক্ত আবাসিক গ্রাহকরা প্রতিমাসে গড়ে ৯৭ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। মার্চে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৭৪৪। বর্তমানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিতাসের ২৮ লাখ ৫৭ হাজার আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ লাখ ২৫ হাজার মিটারবিহীন ও ৩ লাখ ৩২ হাজার প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, কমিশনের হিসাবেই দেখা যায়, মিটারবিহীন দুই চুলার গ্রাহকের মাসে ৫০ ঘনমিটার এবং এক চুলার গ্রাহকরা মাসে ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন।বাস্তবে অনেক গ্রাহক সে পরিমাণে গ্যাস ব্যবহার করেন না। তিতাস এই সীমা পরিবর্তনের যে দাবি করেছে তা অযৌক্তিক। নিজেদের দুর্নীতি ও গ্যাস চুরি বৈধ করতে গ্যাসের দাম বাড়াতে চায়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন বলেন, তিতাসের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কমিশন। বিধি মোতাবেক এ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।