১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এডিবি তিন প্রকল্পে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান দেবে

খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা দূর করে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশে তিনটি প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মোট ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ এবং অনুদান দেবে। এই অর্থ রূপান্তর করবে খুলনা শহরের পানির অবকাঠামো উন্নয়নে ও মানবজীবনের মান উন্নতিতে। গতকাল সোমবার নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো খারাপ জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যেও শহরের সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পানির সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা মোকাবিলায় ১৫ কোটি ডলার ঋণ থাকবে, যার সঙ্গে থাকবে ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান। এডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা শহরের ভূ-পৃষ্ঠের পানির রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে যাবে। ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় নির্ভরযোগ্য এবং অব্যাহত পানি সরবরাহ পাবেন, যা শহরের পানি উন্নয়ন অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি সিস্টেম তৈরি করবে, যাতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য পানি সরবরাহের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি উৎসের লবণাক্ততা কমানোর জন্য এডিবির এই উদ্যোগ জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই। স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা, উন্নত তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও ডেটা সংগ্রহের প্রযুক্তি এই প্রকল্পের অঙ্গ। এ ছাড়া, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের মান বৃদ্ধি, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উন্নয়নের জন্য ৯ কোটি ১ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এডিবির প্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিকল্পনায় স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোকে ডিজিটাল রূপ দিতে সক্ষম হবে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ পাবেন উন্নত জীবনমানসহ জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, আর দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত নদী উপকূলীয় অঞ্চলে সৌর শক্তির ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকায় দুর্যোগের সময় সুবিধা পাবেন মানুষ। নারীদের জন্য জীবনযাত্রার উন্নতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার ব্যবস্থা তৈরি হবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এডিবি আরও জানায়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তারা ৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০১৮ সাল থেকে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা, যা জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কাজে আসছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এডিবি তিন প্রকল্পে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান দেবে

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা দূর করে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশে তিনটি প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মোট ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ এবং অনুদান দেবে। এই অর্থ রূপান্তর করবে খুলনা শহরের পানির অবকাঠামো উন্নয়নে ও মানবজীবনের মান উন্নতিতে। গতকাল সোমবার নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো খারাপ জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যেও শহরের সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পানির সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা মোকাবিলায় ১৫ কোটি ডলার ঋণ থাকবে, যার সঙ্গে থাকবে ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান। এডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা শহরের ভূ-পৃষ্ঠের পানির রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে যাবে। ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় নির্ভরযোগ্য এবং অব্যাহত পানি সরবরাহ পাবেন, যা শহরের পানি উন্নয়ন অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি সিস্টেম তৈরি করবে, যাতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য পানি সরবরাহের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি উৎসের লবণাক্ততা কমানোর জন্য এডিবির এই উদ্যোগ জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই। স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা, উন্নত তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও ডেটা সংগ্রহের প্রযুক্তি এই প্রকল্পের অঙ্গ। এ ছাড়া, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের মান বৃদ্ধি, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উন্নয়নের জন্য ৯ কোটি ১ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এডিবির প্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিকল্পনায় স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোকে ডিজিটাল রূপ দিতে সক্ষম হবে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ পাবেন উন্নত জীবনমানসহ জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, আর দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত নদী উপকূলীয় অঞ্চলে সৌর শক্তির ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকায় দুর্যোগের সময় সুবিধা পাবেন মানুষ। নারীদের জন্য জীবনযাত্রার উন্নতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার ব্যবস্থা তৈরি হবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এডিবি আরও জানায়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তারা ৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০১৮ সাল থেকে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা, যা জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কাজে আসছে।