০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

এডিবি তিন প্রকল্পে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান দেবে

খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা দূর করে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশে তিনটি প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মোট ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ এবং অনুদান দেবে। এই অর্থ রূপান্তর করবে খুলনা শহরের পানির অবকাঠামো উন্নয়নে ও মানবজীবনের মান উন্নতিতে। গতকাল সোমবার নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো খারাপ জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যেও শহরের সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পানির সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা মোকাবিলায় ১৫ কোটি ডলার ঋণ থাকবে, যার সঙ্গে থাকবে ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান। এডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা শহরের ভূ-পৃষ্ঠের পানির রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে যাবে। ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় নির্ভরযোগ্য এবং অব্যাহত পানি সরবরাহ পাবেন, যা শহরের পানি উন্নয়ন অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি সিস্টেম তৈরি করবে, যাতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য পানি সরবরাহের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি উৎসের লবণাক্ততা কমানোর জন্য এডিবির এই উদ্যোগ জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই। স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা, উন্নত তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও ডেটা সংগ্রহের প্রযুক্তি এই প্রকল্পের অঙ্গ। এ ছাড়া, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের মান বৃদ্ধি, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উন্নয়নের জন্য ৯ কোটি ১ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এডিবির প্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিকল্পনায় স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোকে ডিজিটাল রূপ দিতে সক্ষম হবে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ পাবেন উন্নত জীবনমানসহ জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, আর দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত নদী উপকূলীয় অঞ্চলে সৌর শক্তির ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকায় দুর্যোগের সময় সুবিধা পাবেন মানুষ। নারীদের জন্য জীবনযাত্রার উন্নতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার ব্যবস্থা তৈরি হবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এডিবি আরও জানায়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তারা ৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০১৮ সাল থেকে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা, যা জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কাজে আসছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

এডিবি তিন প্রকল্পে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান দেবে

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা দূর করে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশে তিনটি প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মোট ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ এবং অনুদান দেবে। এই অর্থ রূপান্তর করবে খুলনা শহরের পানির অবকাঠামো উন্নয়নে ও মানবজীবনের মান উন্নতিতে। গতকাল সোমবার নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো খারাপ জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যেও শহরের সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পানির সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা মোকাবিলায় ১৫ কোটি ডলার ঋণ থাকবে, যার সঙ্গে থাকবে ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান। এডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা শহরের ভূ-পৃষ্ঠের পানির রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে যাবে। ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় নির্ভরযোগ্য এবং অব্যাহত পানি সরবরাহ পাবেন, যা শহরের পানি উন্নয়ন অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি সিস্টেম তৈরি করবে, যাতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য পানি সরবরাহের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি উৎসের লবণাক্ততা কমানোর জন্য এডিবির এই উদ্যোগ জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই। স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা, উন্নত তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও ডেটা সংগ্রহের প্রযুক্তি এই প্রকল্পের অঙ্গ। এ ছাড়া, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের মান বৃদ্ধি, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উন্নয়নের জন্য ৯ কোটি ১ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এডিবির প্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিকল্পনায় স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোকে ডিজিটাল রূপ দিতে সক্ষম হবে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ পাবেন উন্নত জীবনমানসহ জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, আর দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত নদী উপকূলীয় অঞ্চলে সৌর শক্তির ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকায় দুর্যোগের সময় সুবিধা পাবেন মানুষ। নারীদের জন্য জীবনযাত্রার উন্নতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার ব্যবস্থা তৈরি হবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এডিবি আরও জানায়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তারা ৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০১৮ সাল থেকে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা, যা জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কাজে আসছে।