০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গুগল ভারতে ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করে

আগামী পাঁচ বছর ধরে গুগল ভারতে বিশাল পরিমাণে বিনিয়োগ করবে ১৫০০ কোটি ডলার, যা দেশের প্রযুক্তি খাতে বড় আঘাত হতে চলেছে। এই ঘোষণা মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই বিনিয়োগের আওতায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি বৃহৎ ডেটা কেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নয়াদিল্লি থেকে এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গুগল ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থমাস কুরিয়ান নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গত কয়েক বছরে আমরা যে সমস্ত এআই হাব-এ বিনিয়োগ করেছি, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।’ তিনি উল্লেখ করেন, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে একটি গিগাওয়াট-স্কেল এআই হাব তৈরি করা হবে। কুরিয়ান আরও জানান, গুগলের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রকে একাধিক গিগাওয়াটে উন্নীত করা।

এশিয়ার এই বৃহৎ বিনিয়োগের কারণে ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এই বছর শেষে ৯০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশাল বাড়তি অনুভূত হচ্ছে, বিশেষ করে এআই টুলসের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই বিনিয়োগের জন্য গুগলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটাল অবকাঠামো আমাদের ‘ইন্ডিয়া এআই ভিশন’-এর লক্ষ্য অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এই দিনটিকে ‘খুবই আনন্দের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজ্যের প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ এক্স-এ লিখেছেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ। এক বছরের নিরলস আলোচনা এবং প্রচেষ্টার ফলাফল এটি। এই বিনিয়োগ আমাদের রাজ্যের জন্য ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক মর্যাদার জন্য বিশাল অগ্রগতি এনে দেবে। এটি শুধুমাত্র শুরুর কথা।’

অন্যদিকে, এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্ট-আপ ‘অ্যানথ্রপিক’ এ বছরই ভারতে একটি অফিস খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মোদি তাদের এআই উদ্ভাবনের সুযোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘ভারতের প্রাণবন্ত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম এবং প্রতিভাবান যুবসমাজ এআই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘একসাথে আমরা উন্নয়নের জন্য এআই-র পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে চাই।’

অ্যানথ্রোপিকের আগে ভারতের বাজারে আগ্রহ দেখিয়েছে আরও বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এ বছরের শেষের দিকে ভারতে একটি অফিস খোলার পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্যাম অল্টম্যান উল্লেখ করেছেন, গত এক বছরে ভারতে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার চারগুণ বেড়ে গেছে।

অপরদিকে, পারপ্লেক্সিটি জুলাইয়ে এয়ারটেলের সঙ্গে একটি বড় পার্টনারশিপের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় এয়ারটেলের ৩৬ কোটি গ্রাহক এক বছরের জন্য ফ্রিতে পারপ্লেক্সিটি প্রো সাবস্ক্রিপশন উপভোগ করবেন। এই সব উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখানোর পাশাপাশি ভারতের ডিজিটাল গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

গুগল ভারতে ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

আগামী পাঁচ বছর ধরে গুগল ভারতে বিশাল পরিমাণে বিনিয়োগ করবে ১৫০০ কোটি ডলার, যা দেশের প্রযুক্তি খাতে বড় আঘাত হতে চলেছে। এই ঘোষণা মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই বিনিয়োগের আওতায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি বৃহৎ ডেটা কেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নয়াদিল্লি থেকে এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গুগল ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থমাস কুরিয়ান নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গত কয়েক বছরে আমরা যে সমস্ত এআই হাব-এ বিনিয়োগ করেছি, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।’ তিনি উল্লেখ করেন, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে একটি গিগাওয়াট-স্কেল এআই হাব তৈরি করা হবে। কুরিয়ান আরও জানান, গুগলের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রকে একাধিক গিগাওয়াটে উন্নীত করা।

এশিয়ার এই বৃহৎ বিনিয়োগের কারণে ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এই বছর শেষে ৯০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশাল বাড়তি অনুভূত হচ্ছে, বিশেষ করে এআই টুলসের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই বিনিয়োগের জন্য গুগলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটাল অবকাঠামো আমাদের ‘ইন্ডিয়া এআই ভিশন’-এর লক্ষ্য অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এই দিনটিকে ‘খুবই আনন্দের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজ্যের প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ এক্স-এ লিখেছেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ। এক বছরের নিরলস আলোচনা এবং প্রচেষ্টার ফলাফল এটি। এই বিনিয়োগ আমাদের রাজ্যের জন্য ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক মর্যাদার জন্য বিশাল অগ্রগতি এনে দেবে। এটি শুধুমাত্র শুরুর কথা।’

অন্যদিকে, এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্ট-আপ ‘অ্যানথ্রপিক’ এ বছরই ভারতে একটি অফিস খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মোদি তাদের এআই উদ্ভাবনের সুযোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘ভারতের প্রাণবন্ত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম এবং প্রতিভাবান যুবসমাজ এআই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘একসাথে আমরা উন্নয়নের জন্য এআই-র পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে চাই।’

অ্যানথ্রোপিকের আগে ভারতের বাজারে আগ্রহ দেখিয়েছে আরও বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এ বছরের শেষের দিকে ভারতে একটি অফিস খোলার পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্যাম অল্টম্যান উল্লেখ করেছেন, গত এক বছরে ভারতে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার চারগুণ বেড়ে গেছে।

অপরদিকে, পারপ্লেক্সিটি জুলাইয়ে এয়ারটেলের সঙ্গে একটি বড় পার্টনারশিপের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় এয়ারটেলের ৩৬ কোটি গ্রাহক এক বছরের জন্য ফ্রিতে পারপ্লেক্সিটি প্রো সাবস্ক্রিপশন উপভোগ করবেন। এই সব উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখানোর পাশাপাশি ভারতের ডিজিটাল গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে যাচ্ছে।