০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

সোনাইমুড়ীতে মাদরাসায় ঘুমের মধ্যে ছাত্রকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্ত ছাত্র আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে শনিবার গভীর রাতে এক মাদরাসা ছাত্রকে বিভৎসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ঘটনা স্বচক্ষে দেখে আশপাশের ছাত্র-শিক্ষকরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। ঘটনা ঘটেছে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসায়।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এই খবর নিশ্চিত করেছেন। জানান, রাতে ওই ছাত্রকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্ত ছাত্রকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

নিহত ছাত্রের নাম মো. নাজিম উদ্দিন (১৩), যিনি চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্ল্যারের ছেলে। অপরদিকে, আটক ছাত্রের নাম আবু ছায়েদ (১৬), সে ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মাদরাসার আবাসিক বিভাগে থেকে নাজিম ও ছায়েদ পবিত্র কোরআন হেফজ করছিল। কিছু দিন আগে, টুপি পরা নিয়ে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া হয়। তবে বিষয়টি মাদরাসার একজন শিক্ষক মিটিয়ে দেন। এরপরও দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই, ছায়েদ দেড় সপ্তাহ আগে একটি ধারালো ছুরি কিনে আনে, বিষয়টি পরিকল্পিত বলে ধারণা করেন অনেকে।

শনিবার রাত ২টার দিকে অন্য ছাত্ররা ঘুমিয়ে পড়লেও, ছায়েদ ঘুম থেকে উঠে অন্য ছাত্রদের অগোচরে নাজিমকে জবাই করে দেয়। নজিরবিহীন এই হত্যাকাণ্ডের সময় নাজিমের গলার শব্দ শুনে পাশে থাকা আরেকজন ছাত্র ও শিক্ষক দ্রুত জেগে উঠেন এবং ঘটনাস্থল দেখতে পান।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ছাত্রকে হেফাজত করেন ও উপযুক্ত তদন্ত শুরু করেন। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ড টুপি পরা নিয়ে দুজনের ভিন্নমত বা বিরোধের জের। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পুলিশ এই নৃশংস ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

সোনাইমুড়ীতে মাদরাসায় ঘুমের মধ্যে ছাত্রকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্ত ছাত্র আটক

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে শনিবার গভীর রাতে এক মাদরাসা ছাত্রকে বিভৎসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ঘটনা স্বচক্ষে দেখে আশপাশের ছাত্র-শিক্ষকরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। ঘটনা ঘটেছে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসায়।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এই খবর নিশ্চিত করেছেন। জানান, রাতে ওই ছাত্রকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্ত ছাত্রকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

নিহত ছাত্রের নাম মো. নাজিম উদ্দিন (১৩), যিনি চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্ল্যারের ছেলে। অপরদিকে, আটক ছাত্রের নাম আবু ছায়েদ (১৬), সে ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মাদরাসার আবাসিক বিভাগে থেকে নাজিম ও ছায়েদ পবিত্র কোরআন হেফজ করছিল। কিছু দিন আগে, টুপি পরা নিয়ে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া হয়। তবে বিষয়টি মাদরাসার একজন শিক্ষক মিটিয়ে দেন। এরপরও দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই, ছায়েদ দেড় সপ্তাহ আগে একটি ধারালো ছুরি কিনে আনে, বিষয়টি পরিকল্পিত বলে ধারণা করেন অনেকে।

শনিবার রাত ২টার দিকে অন্য ছাত্ররা ঘুমিয়ে পড়লেও, ছায়েদ ঘুম থেকে উঠে অন্য ছাত্রদের অগোচরে নাজিমকে জবাই করে দেয়। নজিরবিহীন এই হত্যাকাণ্ডের সময় নাজিমের গলার শব্দ শুনে পাশে থাকা আরেকজন ছাত্র ও শিক্ষক দ্রুত জেগে উঠেন এবং ঘটনাস্থল দেখতে পান।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ছাত্রকে হেফাজত করেন ও উপযুক্ত তদন্ত শুরু করেন। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ড টুপি পরা নিয়ে দুজনের ভিন্নমত বা বিরোধের জের। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পুলিশ এই নৃশংস ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।