০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

জয়পুরহাটে চার লেন সড়ক চালুর ফলে শহরে যানজট কমে, সাধারণ মানুষ স্বস্তি অনুভব করছেন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জয়পুরহাট শহরের হাড়াইল থেকে রেলগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর ফলে শহরের প্রধান সড়কের কিছু অংশে যানজট কমে এসেছে, যা শহরবাসীর জন্য বেশ স্বস্তির খবর। তবে কিছু অসুবিধার কারণে এখনো কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সড়কের পাশাপাশি গাড়ি পার্কিংয়ে সুব্যবস্থার অভাব থাকায় অহরহই এখানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে ও শৃঙ্খলার ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। সচেতন শহরবাসীর প্রত্যাশা, পরিপক্ব পরিকল্পনা ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হলে জয়পুরহাটের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি সত্যিকার অর্থে সফল হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্রে জানা যায়, শহরের হাড়াইল থেকে রেলগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের নির্মাণ পরিকল্পনা বহু বছর ধরে চলছিল। এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, পানির লাইন, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইনের স্থানান্তরসহ রেলগেটের উন্নয়ন কাজের জন্য মোট ১০৪ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার ৫৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য খরচ হয় ৯০ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮০ টাকা।

এছাড়াও, সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নালা নির্মাণে ৩০ কোটি এবং সড়ক প্রশস্তকরণে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সড়কের প্রস্থ হবে ৬০ ফুট, যার দুটি পার্শ্বে থাকবে ২৪ ফুট প্রশস্ত ট্রাফিক লেন এবং মাঝখানে ৪ ফুট প্রশস্ত ডিভাইডার। দুই পাশে ড্রেনসহ থাকবে ৫ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত।

২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তবে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি সময়মতো কাজ শেষ না করায় চুক্তি বাতিল করা হয় এবং সড়ক নির্মাণের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর, নওগাঁর আওতাধীন আমিনুল হক লিমিটেড নালা নির্মাণের কাজ এবং জয়েন ভেঞ্চার রিলায়েন্স বিল্ডার্স এবং হাসান টেকনো সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২২ সালের JULY মাসে দফতর থেকে কাজের অনুমোদন পান। চলতি বছরের শুরুতে নির্মাণ কাজ শুরু হলে কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও অবশেষে এখন সম্পন্ন হয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, পাঁথুর মোড় থেকে আমতলী পর্যন্ত এই চার লেনের সড়কের আওতায় যানজটের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে, কিছু এলাকার সড়কের পাশে অযথা গাড়ি পার্কিং করা ও গাছ লাগানোর কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। রেলগেটের পশ্চিম অংশে এখনও যানজট রয়েছে কারণ সেই অংশে চার লেনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

ব্যবসায়ী মো. আল-আমিন বলেন, শহরের এই প্রধান সড়ক এখন অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে। তবে, দোকানের সামনে গাড়ি পার্কিং থাকায় আবার যানজটের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। যদি পৌরসভা সঠিকভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে যানজটের সমস্যা কমে যাবে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মন্তব্য করেন, রেলগেট থেকে হাড়াইল পর্যন্ত চার লেনের কাজ বাস্তবায়িত হলেও কিছু এলাকায় যানবাহনের অযথা পার্কিং ও যাত্রীর ওঠানামা সমস্যার কারণে যানজট এখনো কিছুটা রয়ে গেছে। তবে, যদি এই অপ্রীতিকর বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যানজট সম্পূর্ণ দূর হবে। তিনি আরও জানান, রেলগেটের পশ্চিম পাশে সেই অংশে এখনও চার লেনের কাজ বাকি থাকায় সেখানে যানজট অব্যাহত রয়েছে। তিনি দ্রুত এই প্রকল্পের বাকি অংশের কাজ শেষ করার দাবি জানান।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী খান জানান, তারা সড়কের ডিভাইডারে গাছ রোপন করেননি, এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয়েছে। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খান বলেন, চার লেনের সড়ক চালুর পর শহরে যানজট অনেকটাই কমে গেছে এবং যানবাহনের পার্কিং সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

জয়পুরহাটে চার লেন সড়ক চালুর ফলে শহরে যানজট কমে, সাধারণ মানুষ স্বস্তি অনুভব করছেন

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জয়পুরহাট শহরের হাড়াইল থেকে রেলগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর ফলে শহরের প্রধান সড়কের কিছু অংশে যানজট কমে এসেছে, যা শহরবাসীর জন্য বেশ স্বস্তির খবর। তবে কিছু অসুবিধার কারণে এখনো কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সড়কের পাশাপাশি গাড়ি পার্কিংয়ে সুব্যবস্থার অভাব থাকায় অহরহই এখানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে ও শৃঙ্খলার ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। সচেতন শহরবাসীর প্রত্যাশা, পরিপক্ব পরিকল্পনা ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হলে জয়পুরহাটের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি সত্যিকার অর্থে সফল হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্রে জানা যায়, শহরের হাড়াইল থেকে রেলগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের নির্মাণ পরিকল্পনা বহু বছর ধরে চলছিল। এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, পানির লাইন, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইনের স্থানান্তরসহ রেলগেটের উন্নয়ন কাজের জন্য মোট ১০৪ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার ৫৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য খরচ হয় ৯০ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮০ টাকা।

এছাড়াও, সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নালা নির্মাণে ৩০ কোটি এবং সড়ক প্রশস্তকরণে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সড়কের প্রস্থ হবে ৬০ ফুট, যার দুটি পার্শ্বে থাকবে ২৪ ফুট প্রশস্ত ট্রাফিক লেন এবং মাঝখানে ৪ ফুট প্রশস্ত ডিভাইডার। দুই পাশে ড্রেনসহ থাকবে ৫ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত।

২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তবে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি সময়মতো কাজ শেষ না করায় চুক্তি বাতিল করা হয় এবং সড়ক নির্মাণের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর, নওগাঁর আওতাধীন আমিনুল হক লিমিটেড নালা নির্মাণের কাজ এবং জয়েন ভেঞ্চার রিলায়েন্স বিল্ডার্স এবং হাসান টেকনো সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২২ সালের JULY মাসে দফতর থেকে কাজের অনুমোদন পান। চলতি বছরের শুরুতে নির্মাণ কাজ শুরু হলে কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও অবশেষে এখন সম্পন্ন হয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, পাঁথুর মোড় থেকে আমতলী পর্যন্ত এই চার লেনের সড়কের আওতায় যানজটের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে, কিছু এলাকার সড়কের পাশে অযথা গাড়ি পার্কিং করা ও গাছ লাগানোর কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। রেলগেটের পশ্চিম অংশে এখনও যানজট রয়েছে কারণ সেই অংশে চার লেনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

ব্যবসায়ী মো. আল-আমিন বলেন, শহরের এই প্রধান সড়ক এখন অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে। তবে, দোকানের সামনে গাড়ি পার্কিং থাকায় আবার যানজটের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। যদি পৌরসভা সঠিকভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে যানজটের সমস্যা কমে যাবে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মন্তব্য করেন, রেলগেট থেকে হাড়াইল পর্যন্ত চার লেনের কাজ বাস্তবায়িত হলেও কিছু এলাকায় যানবাহনের অযথা পার্কিং ও যাত্রীর ওঠানামা সমস্যার কারণে যানজট এখনো কিছুটা রয়ে গেছে। তবে, যদি এই অপ্রীতিকর বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যানজট সম্পূর্ণ দূর হবে। তিনি আরও জানান, রেলগেটের পশ্চিম পাশে সেই অংশে এখনও চার লেনের কাজ বাকি থাকায় সেখানে যানজট অব্যাহত রয়েছে। তিনি দ্রুত এই প্রকল্পের বাকি অংশের কাজ শেষ করার দাবি জানান।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী খান জানান, তারা সড়কের ডিভাইডারে গাছ রোপন করেননি, এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয়েছে। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খান বলেন, চার লেনের সড়ক চালুর পর শহরে যানজট অনেকটাই কমে গেছে এবং যানবাহনের পার্কিং সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।