০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্তে পাট রপ্তানিতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষে পাট রপ্তানির উপর একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাট রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষক, ব্যবসায়ী, পাট শ্রমিক ও রপ্তানিকারকেরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকের সুদের হারও বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি আর দীর্ঘায়িত না করে শর্তগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায়, তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

রোববার ঢাকায় বিজেএর নারায়ণগঞ্জ অফিসের ৪র্থ তলায় আয়োজিত বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের ৫৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা উঠে আসে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দেশের একাধিক পাট রপ্তানিকারক বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি দিয়ে মূলত পাটের উপর এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগে যে এলসি ছিল, তার মালামাল এখনো রপ্তানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯১০ ও ১৯১৫ সালে পাটের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তবে তখন কাটজুট পাটের ওপর সেটা ছিল না। এবারও সেই বোঝাপড়া মানছে না, কারণ কাটজুট এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

একইসঙ্গে তিনি জানান, এই শর্ত প্রত্যাহার করতে না পারলে পাটের বাজারে দাম এক সময়ে দুই হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় নামতে পারে। পাটের উৎপাদন কম থাকায় তিনি এ আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন যে, দেশের জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি অনুযায়ী ৭ থেকে ৮ লাখ বেল পাট রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থ, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও শ্রমিকদের উপকারের জন্য অবিলম্বে এই শর্ত প্রত্যাহার করতে হবে। নতুবা, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেএর সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন আকন্দ। তিনি সভার শেষে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সেই সাথে আগের অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও উপস্থাপন ও অনুমোদিত হয়।

নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, কাঁচাপাটের রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়েছেন। অনেককেই ঋণে জর্জরিত হতে হচ্ছে। দুই মাসে একটি পা-ও রপ্তানি করতে পারেননি তাঁরা। শ্রমিকদের মজুরি দিতে গলদঘর্ম অবস্থা। তিনি আশ্বাস দেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকার উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান বের করবেন। তবে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এস এম সাইফুল ইসলাম পিয়াস, ভাইস চেয়ারম্যান মো. তারেক আফজাল, সদস্যরা মো. ফাহাদ আহমেদ আকন্দ, শামীম আহামেদ, এস এম মনিরুজ্জামান পলাশ, খাইরুজ্জামান, মো. কুতুবউদ্দিন, শেখ ঈমাম হোসেন, এস এম হাফিজুর রহমান, বদরুল আলম মার্কিন, এইচ এম প্রিন্স মাহমুদ, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, মো. নূর ইসলাম, মো. আলমগীর খান, রঞ্জন কুমার দাস ও এসএম সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্তে পাট রপ্তানিতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষে পাট রপ্তানির উপর একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাট রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষক, ব্যবসায়ী, পাট শ্রমিক ও রপ্তানিকারকেরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকের সুদের হারও বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি আর দীর্ঘায়িত না করে শর্তগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায়, তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

রোববার ঢাকায় বিজেএর নারায়ণগঞ্জ অফিসের ৪র্থ তলায় আয়োজিত বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের ৫৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা উঠে আসে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দেশের একাধিক পাট রপ্তানিকারক বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি দিয়ে মূলত পাটের উপর এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগে যে এলসি ছিল, তার মালামাল এখনো রপ্তানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯১০ ও ১৯১৫ সালে পাটের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তবে তখন কাটজুট পাটের ওপর সেটা ছিল না। এবারও সেই বোঝাপড়া মানছে না, কারণ কাটজুট এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

একইসঙ্গে তিনি জানান, এই শর্ত প্রত্যাহার করতে না পারলে পাটের বাজারে দাম এক সময়ে দুই হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় নামতে পারে। পাটের উৎপাদন কম থাকায় তিনি এ আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন যে, দেশের জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি অনুযায়ী ৭ থেকে ৮ লাখ বেল পাট রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থ, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও শ্রমিকদের উপকারের জন্য অবিলম্বে এই শর্ত প্রত্যাহার করতে হবে। নতুবা, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেএর সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন আকন্দ। তিনি সভার শেষে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সেই সাথে আগের অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও উপস্থাপন ও অনুমোদিত হয়।

নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, কাঁচাপাটের রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়েছেন। অনেককেই ঋণে জর্জরিত হতে হচ্ছে। দুই মাসে একটি পা-ও রপ্তানি করতে পারেননি তাঁরা। শ্রমিকদের মজুরি দিতে গলদঘর্ম অবস্থা। তিনি আশ্বাস দেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকার উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান বের করবেন। তবে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এস এম সাইফুল ইসলাম পিয়াস, ভাইস চেয়ারম্যান মো. তারেক আফজাল, সদস্যরা মো. ফাহাদ আহমেদ আকন্দ, শামীম আহামেদ, এস এম মনিরুজ্জামান পলাশ, খাইরুজ্জামান, মো. কুতুবউদ্দিন, শেখ ঈমাম হোসেন, এস এম হাফিজুর রহমান, বদরুল আলম মার্কিন, এইচ এম প্রিন্স মাহমুদ, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, মো. নূর ইসলাম, মো. আলমগীর খান, রঞ্জন কুমার দাস ও এসএম সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।