নওগাঁর বদলগাছী হর্টিকালচার সেন্টার থেকে উন্নত জাতের ফলদ, মসলা ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে অন্তত ২৭টি ভিন্ন ধরনের উন্নত মানের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে, যার ফলে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। কমমূল্যে উচ্চ মানের চারা পাওয়ায় প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমাচ্ছেন প্রান্তিক ও ছোট উদ্যোক্তারা, এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ এখনো সীমিত। অনেক উদ্যোক্তা যেমন বলেন, তারা পর্যাপ্ত চারা পাচ্ছেন না, তাই উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ব্যবস্থার দাবি তুলছেন।
এই প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে কৃষিতে। নিয়মিত চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে জেলা ও আশেপাশের উত্তরাঞ্চল কৃষি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
জেলা সাধারণত ধানের জন্য পরিচিত হলেও এখন বদলগাছী জেলাও আমসহ অন্যান্য ফলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠছে। মহানগরী বদলগাছীর জিধিরপুর গ্রামে ২০১৪ সালে সাড়ে চার একর জমিতে এই হর্টিকালচার সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে উৎপাদন কিছুটা কম থাকলেও, গুণগত মান ভালো থাকায় দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এখানে আম, লিচু, কদবেল, আঠাবিহীন কাঁঠাল, পেয়ারা, করমচা ও অন্যান্য ফলের অন্তত ২৭ জাতের চারা পাওয়া যায়। প্রতিটি চারা ২ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়, ফলে উদ্যোক্তারা সহজে মানসম্পন্ন চারা সংগ্রহ করতে পারছেন।
উন্নত জাতের এই চারা কৃষকদের জন্য উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে, ফলন বাড়ছে এবং বাজারে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। মান্দা উপজেলার পাজরভাঙা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা অপূর্ব সাহা বলেন, বাড়ির আশপাশে ছোট জমিতে ফলের বাগান করার স্বপ্ন থেকেই তিনি বদলগাছী হর্টিকালচার সেন্টার থেকে আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের ৮৫টি চারা কিনেছেন। প্রতিটির দাম ৬০ টাকা, যা বাইরের নার্সারির তুলনায় ৪০-৫০ টাকা কম। দূরত্ব সত্ত্বেও উন্নতমানের চারা পেয়ে তিনি খুবই সন্তুষ্ট।
উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা আজমল হুদা বলেন, চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে ফল ও শোভাবর্ধনকারী গাছের উল্লেখযোগ্য উৎপাদনে কাজ চলছে। উন্নত মাতৃগাছ থেকে কাটিং ও কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হয়, যা গুণগত মান নিশ্চিত করে।
অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (এলআর) কৃষিবিদ মো. নাছরুল মিল্লাত বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সহযোগিতায় পতিত ও অনাবাদী জমিকে ফলবাগানে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সুলভ মূল্যে উন্নত মানের চারা সরবরাহের ফলে উদ্যোক্তারা বেশি লাভবান হচ্ছেন। তবে জমির পরিমাণ এখনও সীমিত থাকায় উৎপাদন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি জানান, কমপক্ষে ১০ একর জমি থাকলে উৎপাদন ও রাজস্ব উভয়ই আরও বৃদ্ধি পাবে।
অতীতের তুলনায় বর্তমানে তৎকালীন বছরগুলোতে এই কেন্দ্র থেকে মোট চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক লাখ পিস চারা বিক্রি করে মোট ৭ লাখ টাকার রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ২০২৩-২৪ সালে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৫ টাকা, ২০২২-২৩ সালে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১২0 টাকা ও ২০২১-২২ সালে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬২ টাকা আয়ের রেকর্ড রয়েছে।
এছাড়া, এই কেন্দ্রের কর্মীরা প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মজুরিতে চারজন শ্রমিকের স্থায়ী কাজের সুযোগ পেয়েছেন। আরও জানা যায়, গত তিন বছরে জেলায় বিভিন্ন প্রদর্শনী ও এক্সপোতে আনারস, মসলা, আদা ও আমের মতো বিভিন্ন ফল ও ফসলের প্লটের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফলের পাশাপাশি আনারস চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























