০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ

সপ্তাহজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর খেতাব জিতে নিলেন মেক্সিকোর সুন্দরী প্রতিযোগী ফাতিমা বোশ। ২৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী প্রাক-প্রস্তুতি পর্বের এক বিশ্বস্ত বৈঠকে থাইল্যান্ডের এক পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য বকুনি পাবার পর থেকেই দর্শকদের নজরে আসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাংশ প্রতিযোগী তার বিরুদ্ধে রোউটআউট করে যা অনেকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত বছর বিজয়ী হিসেবে মুকুট গ্রহণ করেন ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগ। এবার শুরু থেকেই ফাতিমা বোশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার-আপ হন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং। এরপর রয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আথিসা মানালো, এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো দর্শক মিস ইউনিভার্সের প্রতিটি আসর উপভোগ করেন। এ বছরে থাইল্যান্ডে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে অংশ নেন ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব, যিনি সেরার মধ্যে থাকেন। ফাইনাল শো পরিচালনা করেন মার্কিন কমেডিয়ান স্টিভ বার্ন, যা দর্শকদের নানা ধরনের বিনোদন দেয়। ওপেনিং পারফরম্যান্স করেন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক জেফ স্যাচু।

সোনালী সুইমস্যুট রাউন্ড শেষে ৩০ জনের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয় ১২ জনকে, এবং তার পরে ইভনিং গাউন রাউন্ডের পর চূড়ান্ত পাঁচজনের নাম ঘোষিত হয়।

ফাইনালে নতুন করে আলোচিত হয় মানবিক প্রশ্ন—জানাবেন কি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন বিশ্বজনীন ইস্যু তুলে ধরতে চান এবং তরুণাদের জন্য মিস ইউনিভার্সের মাধ্যমে কীভাবে অনুপ্রাণিত করবেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে, ফাতিমা বোশ বলেন, ‘নিজের সত্যিকার সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্ন ও হৃদয় মূল্যবান। কাউকে কখনো আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহ করতে দেবেন না।’

এজন্য তিন সপ্তাহ ব্যাপী রিহার্সাল ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগীরা থাইল্যান্ডজুড়ে অংশগ্রহণ করেন। গত বুধবারের ন্যাশনাল কস্টিউম শোতেও তারা নিজেদের দেশের সংস্কৃতি উজ্জ্বল করে তুলে ধরেন।

এ বছর প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বেশ সমালোচনাও হয়। মাসের শুরুর সময়ে দেখা কয়েকজন ওয়াকআউটকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

এক লাইভ ব্রিফিংয়ে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল অভিযোগ করেন, ফাতিমা পর্যাপ্ত প্রোমোশনাল কনটেন্ট পোস্ট করছেন না বলে। যদিও তিনি নিজে ‘ডামহেড’ বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষতি হয়েছে সেটি তিনি মানেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নাওয়াতের প্রবল সমালোচনা করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। পরে মিস ইউনিভার্স সংস্থা নাওয়াতের দায়িত্ব কমিয়ে দেন এবং এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা চান।

অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের মিস ইউনিভার্স আলিসিয়া মাচাডো ইনস্টাগ্রামে বর্ণবাদী মন্তব্য ও অপমানজনক ইশারায় নাওয়াতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, যার জন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

সপ্তাহজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর খেতাব জিতে নিলেন মেক্সিকোর সুন্দরী প্রতিযোগী ফাতিমা বোশ। ২৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী প্রাক-প্রস্তুতি পর্বের এক বিশ্বস্ত বৈঠকে থাইল্যান্ডের এক পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য বকুনি পাবার পর থেকেই দর্শকদের নজরে আসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাংশ প্রতিযোগী তার বিরুদ্ধে রোউটআউট করে যা অনেকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত বছর বিজয়ী হিসেবে মুকুট গ্রহণ করেন ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগ। এবার শুরু থেকেই ফাতিমা বোশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার-আপ হন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং। এরপর রয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আথিসা মানালো, এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো দর্শক মিস ইউনিভার্সের প্রতিটি আসর উপভোগ করেন। এ বছরে থাইল্যান্ডে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে অংশ নেন ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব, যিনি সেরার মধ্যে থাকেন। ফাইনাল শো পরিচালনা করেন মার্কিন কমেডিয়ান স্টিভ বার্ন, যা দর্শকদের নানা ধরনের বিনোদন দেয়। ওপেনিং পারফরম্যান্স করেন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক জেফ স্যাচু।

সোনালী সুইমস্যুট রাউন্ড শেষে ৩০ জনের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয় ১২ জনকে, এবং তার পরে ইভনিং গাউন রাউন্ডের পর চূড়ান্ত পাঁচজনের নাম ঘোষিত হয়।

ফাইনালে নতুন করে আলোচিত হয় মানবিক প্রশ্ন—জানাবেন কি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন বিশ্বজনীন ইস্যু তুলে ধরতে চান এবং তরুণাদের জন্য মিস ইউনিভার্সের মাধ্যমে কীভাবে অনুপ্রাণিত করবেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে, ফাতিমা বোশ বলেন, ‘নিজের সত্যিকার সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্ন ও হৃদয় মূল্যবান। কাউকে কখনো আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহ করতে দেবেন না।’

এজন্য তিন সপ্তাহ ব্যাপী রিহার্সাল ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগীরা থাইল্যান্ডজুড়ে অংশগ্রহণ করেন। গত বুধবারের ন্যাশনাল কস্টিউম শোতেও তারা নিজেদের দেশের সংস্কৃতি উজ্জ্বল করে তুলে ধরেন।

এ বছর প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বেশ সমালোচনাও হয়। মাসের শুরুর সময়ে দেখা কয়েকজন ওয়াকআউটকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

এক লাইভ ব্রিফিংয়ে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল অভিযোগ করেন, ফাতিমা পর্যাপ্ত প্রোমোশনাল কনটেন্ট পোস্ট করছেন না বলে। যদিও তিনি নিজে ‘ডামহেড’ বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষতি হয়েছে সেটি তিনি মানেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নাওয়াতের প্রবল সমালোচনা করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। পরে মিস ইউনিভার্স সংস্থা নাওয়াতের দায়িত্ব কমিয়ে দেন এবং এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা চান।

অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের মিস ইউনিভার্স আলিসিয়া মাচাডো ইনস্টাগ্রামে বর্ণবাদী মন্তব্য ও অপমানজনক ইশারায় নাওয়াতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, যার জন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।