১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ

সপ্তাহজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর খেতাব জিতে নিলেন মেক্সিকোর সুন্দরী প্রতিযোগী ফাতিমা বোশ। ২৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী প্রাক-প্রস্তুতি পর্বের এক বিশ্বস্ত বৈঠকে থাইল্যান্ডের এক পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য বকুনি পাবার পর থেকেই দর্শকদের নজরে আসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাংশ প্রতিযোগী তার বিরুদ্ধে রোউটআউট করে যা অনেকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত বছর বিজয়ী হিসেবে মুকুট গ্রহণ করেন ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগ। এবার শুরু থেকেই ফাতিমা বোশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার-আপ হন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং। এরপর রয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আথিসা মানালো, এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো দর্শক মিস ইউনিভার্সের প্রতিটি আসর উপভোগ করেন। এ বছরে থাইল্যান্ডে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে অংশ নেন ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব, যিনি সেরার মধ্যে থাকেন। ফাইনাল শো পরিচালনা করেন মার্কিন কমেডিয়ান স্টিভ বার্ন, যা দর্শকদের নানা ধরনের বিনোদন দেয়। ওপেনিং পারফরম্যান্স করেন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক জেফ স্যাচু।

সোনালী সুইমস্যুট রাউন্ড শেষে ৩০ জনের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয় ১২ জনকে, এবং তার পরে ইভনিং গাউন রাউন্ডের পর চূড়ান্ত পাঁচজনের নাম ঘোষিত হয়।

ফাইনালে নতুন করে আলোচিত হয় মানবিক প্রশ্ন—জানাবেন কি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন বিশ্বজনীন ইস্যু তুলে ধরতে চান এবং তরুণাদের জন্য মিস ইউনিভার্সের মাধ্যমে কীভাবে অনুপ্রাণিত করবেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে, ফাতিমা বোশ বলেন, ‘নিজের সত্যিকার সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্ন ও হৃদয় মূল্যবান। কাউকে কখনো আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহ করতে দেবেন না।’

এজন্য তিন সপ্তাহ ব্যাপী রিহার্সাল ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগীরা থাইল্যান্ডজুড়ে অংশগ্রহণ করেন। গত বুধবারের ন্যাশনাল কস্টিউম শোতেও তারা নিজেদের দেশের সংস্কৃতি উজ্জ্বল করে তুলে ধরেন।

এ বছর প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বেশ সমালোচনাও হয়। মাসের শুরুর সময়ে দেখা কয়েকজন ওয়াকআউটকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

এক লাইভ ব্রিফিংয়ে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল অভিযোগ করেন, ফাতিমা পর্যাপ্ত প্রোমোশনাল কনটেন্ট পোস্ট করছেন না বলে। যদিও তিনি নিজে ‘ডামহেড’ বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষতি হয়েছে সেটি তিনি মানেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নাওয়াতের প্রবল সমালোচনা করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। পরে মিস ইউনিভার্স সংস্থা নাওয়াতের দায়িত্ব কমিয়ে দেন এবং এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা চান।

অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের মিস ইউনিভার্স আলিসিয়া মাচাডো ইনস্টাগ্রামে বর্ণবাদী মন্তব্য ও অপমানজনক ইশারায় নাওয়াতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, যার জন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

সপ্তাহজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর খেতাব জিতে নিলেন মেক্সিকোর সুন্দরী প্রতিযোগী ফাতিমা বোশ। ২৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী প্রাক-প্রস্তুতি পর্বের এক বিশ্বস্ত বৈঠকে থাইল্যান্ডের এক পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য বকুনি পাবার পর থেকেই দর্শকদের নজরে আসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাংশ প্রতিযোগী তার বিরুদ্ধে রোউটআউট করে যা অনেকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত বছর বিজয়ী হিসেবে মুকুট গ্রহণ করেন ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগ। এবার শুরু থেকেই ফাতিমা বোশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার-আপ হন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং। এরপর রয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আথিসা মানালো, এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো দর্শক মিস ইউনিভার্সের প্রতিটি আসর উপভোগ করেন। এ বছরে থাইল্যান্ডে আয়োজিত এই মহাযজ্ঞে অংশ নেন ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব, যিনি সেরার মধ্যে থাকেন। ফাইনাল শো পরিচালনা করেন মার্কিন কমেডিয়ান স্টিভ বার্ন, যা দর্শকদের নানা ধরনের বিনোদন দেয়। ওপেনিং পারফরম্যান্স করেন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক জেফ স্যাচু।

সোনালী সুইমস্যুট রাউন্ড শেষে ৩০ জনের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয় ১২ জনকে, এবং তার পরে ইভনিং গাউন রাউন্ডের পর চূড়ান্ত পাঁচজনের নাম ঘোষিত হয়।

ফাইনালে নতুন করে আলোচিত হয় মানবিক প্রশ্ন—জানাবেন কি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন বিশ্বজনীন ইস্যু তুলে ধরতে চান এবং তরুণাদের জন্য মিস ইউনিভার্সের মাধ্যমে কীভাবে অনুপ্রাণিত করবেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে, ফাতিমা বোশ বলেন, ‘নিজের সত্যিকার সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্ন ও হৃদয় মূল্যবান। কাউকে কখনো আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহ করতে দেবেন না।’

এজন্য তিন সপ্তাহ ব্যাপী রিহার্সাল ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগীরা থাইল্যান্ডজুড়ে অংশগ্রহণ করেন। গত বুধবারের ন্যাশনাল কস্টিউম শোতেও তারা নিজেদের দেশের সংস্কৃতি উজ্জ্বল করে তুলে ধরেন।

এ বছর প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বেশ সমালোচনাও হয়। মাসের শুরুর সময়ে দেখা কয়েকজন ওয়াকআউটকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

এক লাইভ ব্রিফিংয়ে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল অভিযোগ করেন, ফাতিমা পর্যাপ্ত প্রোমোশনাল কনটেন্ট পোস্ট করছেন না বলে। যদিও তিনি নিজে ‘ডামহেড’ বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষতি হয়েছে সেটি তিনি মানেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নাওয়াতের প্রবল সমালোচনা করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। পরে মিস ইউনিভার্স সংস্থা নাওয়াতের দায়িত্ব কমিয়ে দেন এবং এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা চান।

অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের মিস ইউনিভার্স আলিসিয়া মাচাডো ইনস্টাগ্রামে বর্ণবাদী মন্তব্য ও অপমানজনক ইশারায় নাওয়াতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, যার জন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।