বিএনপি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে মাঠে নামছে তাদের মূল চারটি লক্ষ্য সামনে রেখে: গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ও মানবিক সংহতি, এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন। দলটি মনে করে, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ তাদের স্বপ্নের রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল রক্তের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, যেখানে গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ছিল মূল লক্ষ্য। তবে বর্তমানে কর্তৃত্ববাদী সরকারের কারণে রাষ্ট্রের মূল কাঠামো ভেঙে পড়েছে, আর দেশের মালিকানা এখন সরকারের হাতে নয়। এ কারণেই দলটি মনে করে, রাষ্ট্রের গঠন ও পুনর্গঠনের জন্য দেশের মানুষের হাতে কর্তৃত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। এর জন্য জরুরি হলো নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচিত হলে, বিএনপি অঙ্গীকার করে যে, ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি εργোগসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের বিনামূল্যে ভাতা চালুর উদ্যোগ নেবে। দলটির তরুণ ভোটারদের দিকে বিশেষ মনোযোগ রয়েছে, সেই লক্ষ্যেই ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক’ শ্লোগানকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব প্রচারণায় আরও তুলে ধরা হবে খাদ্য সহায়তা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, চিকিৎসা সুবিধা, নারীর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও समान অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি। গত সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন দলের শীর্ষ নেতারা, যেখানে বাইরের থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। इस বৈঠকে দলটির ভবিষ্যৎ প্রচারণা কৌশল এবং নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সাতটি মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিশ্রুতির তালিকা প্রস্তুত এবং প্রতিটি অঞ্চলে সরাসরি ভোটারদের কাছে এ প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে। এগুলো হলো- জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও ধর্মীয় বিষয়। এই নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে দলটির ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভের পর বাস্তবায়নযোগ্য এই আশ্বাসগুলো বিএনপির লিফলেটে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে, যেখানে পরিবেশের সুরক্ষা, পাঁচ হাজার কোটি ফ্যামিলি কার্ড, পাঁচ কোটি গাছের রাষ্ট্রীয় বৃক্ষরোপণ ও দুর্নীতি দমনমূলক উদ্যোগের সামিল থাকবে। দলটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর অনুসরণে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতিও ঘোষণা করছে। জলবায়ু ও পানি নিরাপত্তার জন্য ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, কমিউনিটি ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা পুনরায় চালু ও আধুনিক তিস্তা-গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ক্রীড়া, শিল্প ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোকতায় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। দলীয় নেতারা এখন নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় বেশ সময় দিচ্ছেন, দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে কাজ করছেন। পোলিং এজেন্ট ও ব্যাকআপ এজেন্ট তৈরির পাশাপাশি ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ক কর্মসূচি দিন দিন জোরদার করা হচ্ছে। সমন্বিত প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যারা মূলধারার গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠ পর্যায়ে জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে সাতটি পৃথক দলের গঠনও প্রক্রিয়াধীন, প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট কমাণ্ড থাকছে। সব মিলিয়ে, বিএনপি নির্বাচন আসন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি দেশের জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনে এক নতুন চেহারা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষঃ
বিএনপির লক্ষ্য: গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
-
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক - প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- 10
ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত


























