জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং সুইস উন্নয়ন ও সহযোগিতা সংস্থা (এসডিসি) এর যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রি সম্মেলন কেন্দ্রে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে মূল বিষয় ছিল ‘নগর সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন’, যেখানে বাংলাদেশের নগর সুশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবসম্মত সমাধান ও ধারণা তুলে ধরা হয়।
বর্ধমান শহরায়ণের প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী নগর সুশাসন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতের জন্য আরও স্মার্ট, বসবাসযোগ্য এবং অবকাঠামো সুবিধাসম্পন্ন শহর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাইকা তাদের ‘সিটিজ’ (সিফোরসি) প্রকল্প এবং এসডিসির ‘প্রবৃদ্ধি: লোকাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ (এলইডি) প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) এর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
এই দুটি প্রকল্পের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের কার্যক্রমের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো। কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সাফল্য পর্যালোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার নেতাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা তাদের শহরের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিক সম্পৃক্ততা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কর্মক্ষমতা সূচক বিষয়ে মতামত ও উপস্থাপনা করেন। এসময় উভয় প্রকল্পের সফল উদ্যোগ ও অর্জনগুলো প্রদর্শনের জন্য একটি প্রদর্শনী গ্যালারিও নির্মিত হয়।
সিফোরসি প্রকল্পটি শহরগুলোর সুশাসন, জবাবদিহিতা ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও টুলসের মাধ্যমে সহজে সেবা দিতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এটি সহায়ক। এ বিষয়গুলো বার্ষিক সিটি গভর্নেন্স অ্যাসেসমেন্টের (সিজিএ) মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
অন্যদিকে, ‘প্রবৃদ্ধি’ প্রকল্পটি পৌর এলাকায় ব্যবসার প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি, স্মার্ট অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির গভীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে মিউনিসিপ্যাল কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্স (এমসিআই) এর মতো টুল তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ও অংশীদারদের সঙ্গে জাইকা ও এসডিসির এই কর্মশালা দেশের দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়নে তাদের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা, বিশেষ করে এসজিজি ৯, ১১ ও ১৬ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগগুলো দেশের স্মার্ট, শক্তিশালী ও অধিক স্থিতিশীল শহর গড়তে অবদান রাখতে সচেষ্ট। শেষ দিকে উদ্ভাবন ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেশজুড়ে এই কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বানে এই কর্মশালা সমাপ্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























