০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়ালো

টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চার দেশ— ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় প্রতি মুহূর্তে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে, এবং নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলে বিপর্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা দ্বীপে এক সপ্তাহের ভয়ংকর বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখন ৪৪২। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ থেকে ৪২০ জনের মতো। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (BNPB) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য মূলত ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার ষাটের উষ্ণ জলরাশির কারণে সৃষ্টি হওয়া বিরল এক শক্তিশালী ঝড় দায়ী। ফলে হাজারো ঘরবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা এবং আচেহ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

সাহায্য পাঠানোর কথা জানালেও, অনেক গ্রামে এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে বলা হচ্ছে। ফলে বেঁচে থাকাদের খাবার ও পানির চাহিদা মেটাতে নানা সংকটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ। পশ্চিম সুমাত্রার পাদাং থেকে শত কিলোমিটার দূরে সুংগাই নিয়ালো গ্রামে রবিবারের মধ্যে বন্যার পানি কমে গেছে, তবে পুরো গ্রামটি কাদায় পুরোটাই মোড়ানো। নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি— সেখানে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৩৪। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩৬০ জন। এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে ১৭ নভেম্বর থেকে প্রবল বর্ষণের কারণে। দেশটির রাজধানী কলম্বো ও আশেপাশের নিচু এলাকাগুলো এখনও পানিতে ডুব আছে, মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১ লাখের বেশি মানুষ, যারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়েছেন।

অন্যদিকে, থাইল্যান্ডে ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার প্রভাবে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় অন্তত ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, দেশটির ১০টি প্রদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩৫ লক্ষের বেশি মানুষ। পর্যন্ত তীব্র বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অবস্থা এতটাই চরম যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দক্ষিণের এই ১০টি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালয়েশিয়া। এই শহরটিতে ৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, একদিনে পরিমাণ ৩৩৫ মিলিমিটার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, ডুবে গেছে বহু যানবাহন ও বাড়িঘর, আর হাজার হাজার বাসিন্দা তাদের বাড়ির ছাদে বসে অপেক্ষা করছেন উদ্ধারকারীদের। এই বন্যায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার সাতটি রাজ্যে ধ্বংসের মাত্রা ভয়াবহ। এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ হারিয়েছেন তাদের বাসস্থান এবং আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের ২৫টির বেশি বন্যাকবলিত হোটেলে আটকে থাকা ১,৪৫৯ জন দেশ টাকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে, আর বাকি আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারেও কাজ চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়ালো

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চার দেশ— ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় প্রতি মুহূর্তে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে, এবং নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলে বিপর্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা দ্বীপে এক সপ্তাহের ভয়ংকর বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখন ৪৪২। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ থেকে ৪২০ জনের মতো। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (BNPB) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য মূলত ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার ষাটের উষ্ণ জলরাশির কারণে সৃষ্টি হওয়া বিরল এক শক্তিশালী ঝড় দায়ী। ফলে হাজারো ঘরবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা এবং আচেহ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

সাহায্য পাঠানোর কথা জানালেও, অনেক গ্রামে এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে বলা হচ্ছে। ফলে বেঁচে থাকাদের খাবার ও পানির চাহিদা মেটাতে নানা সংকটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ। পশ্চিম সুমাত্রার পাদাং থেকে শত কিলোমিটার দূরে সুংগাই নিয়ালো গ্রামে রবিবারের মধ্যে বন্যার পানি কমে গেছে, তবে পুরো গ্রামটি কাদায় পুরোটাই মোড়ানো। নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি— সেখানে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৩৪। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩৬০ জন। এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে ১৭ নভেম্বর থেকে প্রবল বর্ষণের কারণে। দেশটির রাজধানী কলম্বো ও আশেপাশের নিচু এলাকাগুলো এখনও পানিতে ডুব আছে, মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১ লাখের বেশি মানুষ, যারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়েছেন।

অন্যদিকে, থাইল্যান্ডে ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার প্রভাবে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় অন্তত ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, দেশটির ১০টি প্রদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩৫ লক্ষের বেশি মানুষ। পর্যন্ত তীব্র বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অবস্থা এতটাই চরম যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দক্ষিণের এই ১০টি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালয়েশিয়া। এই শহরটিতে ৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, একদিনে পরিমাণ ৩৩৫ মিলিমিটার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, ডুবে গেছে বহু যানবাহন ও বাড়িঘর, আর হাজার হাজার বাসিন্দা তাদের বাড়ির ছাদে বসে অপেক্ষা করছেন উদ্ধারকারীদের। এই বন্যায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার সাতটি রাজ্যে ধ্বংসের মাত্রা ভয়াবহ। এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ হারিয়েছেন তাদের বাসস্থান এবং আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের ২৫টির বেশি বন্যাকবলিত হোটেলে আটকে থাকা ১,৪৫৯ জন দেশ টাকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে, আর বাকি আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারেও কাজ চলছে।