১১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এনবিআর এর বৃহৎ সাফল্য: ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের ভ্যাট জালের বিস্তৃতি ঘটাতে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত ডিসেম্বরে, দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এনেছে এনবিআর। এই কার্যক্রম ১০ ডিসেম্বরের ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মূল বার্তা ছিল ‘সময়মত নিবন্ধন করো, সঠিকভাবে ভ্যাট দিন’। এর ফলে দেশের বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেট দিনরাত কাজ করে, বিভিন্ন জরিপ ও ক্যাম্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশে মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৫ হাজার, যা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে ছিল মাত্র ৫১৬ হাজার।

ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত। গত অর্থবছরে, এনবিআর মোট রাজস্বের মধ্যে ৩৮ শতাংশই ভ্যাট থেকে আদায় করা হয়েছে। এই বিশাল আয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে, বর্তমান সরকার ভ্যাট আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনে। পূর্বে যেখানে কোনও প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকার বেশি হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হয়, এখন তা কমে ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের অনেক উদ্যোক্তার জন্য ভ্যাটের আওতা বাড়ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, আধুনিক এবং ব্যবসাবান্ধব করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা এখন থেকে ‘ই-ভ্যাট’ (eVAT) সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। পাশাপাশি, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজে ভ্যাট পরিশোধ ও ফেরত পেতে পারে, তার জন্য অটোমেটেড রিফান্ড সিস্টেম চালু হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট রিটার্নের প্রক্রিয়াটিও আরও সহজ করে তোলা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে, এনবিআর দেশের ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের সাথে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা কামনা করছে, একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অনলাইনভিত্তিক আধুনিক কর ব্যবস্থা বাস্তবায়নে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

এনবিআর এর বৃহৎ সাফল্য: ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের ভ্যাট জালের বিস্তৃতি ঘটাতে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত ডিসেম্বরে, দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এনেছে এনবিআর। এই কার্যক্রম ১০ ডিসেম্বরের ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মূল বার্তা ছিল ‘সময়মত নিবন্ধন করো, সঠিকভাবে ভ্যাট দিন’। এর ফলে দেশের বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেট দিনরাত কাজ করে, বিভিন্ন জরিপ ও ক্যাম্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশে মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৫ হাজার, যা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে ছিল মাত্র ৫১৬ হাজার।

ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত। গত অর্থবছরে, এনবিআর মোট রাজস্বের মধ্যে ৩৮ শতাংশই ভ্যাট থেকে আদায় করা হয়েছে। এই বিশাল আয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে, বর্তমান সরকার ভ্যাট আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনে। পূর্বে যেখানে কোনও প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকার বেশি হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হয়, এখন তা কমে ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের অনেক উদ্যোক্তার জন্য ভ্যাটের আওতা বাড়ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, আধুনিক এবং ব্যবসাবান্ধব করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা এখন থেকে ‘ই-ভ্যাট’ (eVAT) সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। পাশাপাশি, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজে ভ্যাট পরিশোধ ও ফেরত পেতে পারে, তার জন্য অটোমেটেড রিফান্ড সিস্টেম চালু হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট রিটার্নের প্রক্রিয়াটিও আরও সহজ করে তোলা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে, এনবিআর দেশের ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের সাথে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা কামনা করছে, একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অনলাইনভিত্তিক আধুনিক কর ব্যবস্থা বাস্তবায়নে।