০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরা পশ্চিম থানার বিভিন্ন এলাকায় চলমান এক সপ্তাহের ব্যাপক অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ মোট আটজন প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ হাজারের বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জাম। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, বাংলাদেশের মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপি সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।

তিনি বলেন, ডিএমপি সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অপরাধ তদন্তকারী দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তথ্যানুসন্ধানের সময় ঢাকায় কাজ করছে এমন একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্র চিহ্নিত হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

তারপর, গত সোমবার উত্তরা থেকে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আরও এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি মোহাম্মদ নাসের জানান, এই চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন চলমান টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন, কম দামের পণ্য ও ঘরে বসে কাজের অজুহাতে মানুষকে প্রতারিত করত।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে, এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করত।

চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশের আসার পরিস্থিতি ও ভিসার বিষয়েও তদন্ত চলছে, জানিয়েছেন ডিসি। তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার আরও জানান, নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকিরা বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরা পশ্চিম থানার বিভিন্ন এলাকায় চলমান এক সপ্তাহের ব্যাপক অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ মোট আটজন প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ হাজারের বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জাম। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, বাংলাদেশের মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপি সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।

তিনি বলেন, ডিএমপি সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অপরাধ তদন্তকারী দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তথ্যানুসন্ধানের সময় ঢাকায় কাজ করছে এমন একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্র চিহ্নিত হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

তারপর, গত সোমবার উত্তরা থেকে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আরও এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি মোহাম্মদ নাসের জানান, এই চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন চলমান টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন, কম দামের পণ্য ও ঘরে বসে কাজের অজুহাতে মানুষকে প্রতারিত করত।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে, এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করত।

চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশের আসার পরিস্থিতি ও ভিসার বিষয়েও তদন্ত চলছে, জানিয়েছেন ডিসি। তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার আরও জানান, নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকিরা বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।