০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রেস্তোরাঁ মালিকদের সংবাদ সম্মেলন: গ্যাস সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মুখেsector

তীব্র গ্যাসের সংকট, ভাংচুর ও চাঁদাবাজিসহ ছয়টি গুরুতর সমস্যায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের রেস্তোরাঁ খাত। এই সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিকরা। তারা অভিযোগ তুলেছেন, শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নানা হুমকি, ভয়ভীতি এবং চাঁদাবাজি চালিয়ে অপ্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন তারা। সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি এবং মহাসচিব ইমরান হাসানসহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান হাসান মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশে এলপিজি গ্যাসের অবৈধ ব্যবস্থা নিয়ে লুটপাট চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। অনেক রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না; যারা পাচ্ছেন, তাদের জন্য প্রতিটি সিলিন্ডার এখন ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলা যেন এই পরিস্থিতির কিছুই না করছে, সরকারের কোনও উদ্যোগ দেখাই যায়নি। ভোক্তা অধিদপ্তরও শুধু চোখের অর্ধচোখে কিছু জরিমানা করছে; এতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

বলা হয়, জুলুমের অতীত দিনগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এক বছর পার হলেও পুরোনো সমস্যা বেড়েই যাচ্ছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, এর প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁ খাতে, যা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে রয়েছে।

অতীতে, সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে যুক্তিসঙ্গতভাবে যেসব ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বেশিরভাগই দুর্বল আর অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে নিয়ন্ত্রিত এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা হাতের বাইরে চলে গেছে। এখন এই অবৈধ ব্যবসায়ীরা একচেটিয়াভাবে এই বাজারের নিয়ন্ত্রণে।

অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্না করতে বাধ্য হওয়ার কারণে খাবারের দাম বেড়ে যায়, যা গ্রাহকদের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। এতে রেস্তোরাঁর লোকসান বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের খরচ কমাতে মরিয়া।

এছাড়া, এখন বাজারে পণ্য সরবরাহে দিশেহারা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তেলের সংকট, ডাল, চাল, পেঁয়াজের অভাব দেখা দিয়েছে। এর মিশেল আরেকটি সমস্যা হলো, কিছু শ্রমিক সংগঠন সত্যিকার শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে হুমকি, ধামকি ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এই অপকর্মের কারণে মালিকরা নানা দিক থেকে চাপের মধ্যে পড়ছেন। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠনের যেই অভিযোগ, তার পেছনে একটি কর্পোরেট গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, যা এই খাত দখলের জন্য নানা পরিকল্পনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকরা জানিয়েছেন, এই চাঁদাবাজি ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের পথে যাবেন। তারা ত্বরিত কার্যক্রম প্রয়োজন বলে ধরে নিয়েছেন, যাতে জ্বালানি সংকট সমাধান, ট্রেড ইউনিয়নের নামে অপপ্রচার বন্ধ, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং খাবারের মূল্য সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে না যায়।

তারা সরকারের দুটো রাজনৈতিক দিক থেকেও দাবি করেছেন—নির্বাচনী ইশতেহারে রেস্তোরাঁ খাতে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্ভরযোগ্য ভ刊ালয়ে তারা বলেন, বর্তমান সেক্টরে কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই কোটি মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। ভবিষ্যতে, এই খাতে কাজের সুযোগ বাড়বে, দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এই খাতের জন্য সরকার যদি সহযোগিতা ও সহায়তা বাড়ানো না হয়, তাহলে ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসার জন্য বাধ্য হবে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রেস্তোরাঁ মালিকদের সংবাদ সম্মেলন: গ্যাস সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মুখেsector

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র গ্যাসের সংকট, ভাংচুর ও চাঁদাবাজিসহ ছয়টি গুরুতর সমস্যায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের রেস্তোরাঁ খাত। এই সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিকরা। তারা অভিযোগ তুলেছেন, শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নানা হুমকি, ভয়ভীতি এবং চাঁদাবাজি চালিয়ে অপ্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন তারা। সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি এবং মহাসচিব ইমরান হাসানসহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান হাসান মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশে এলপিজি গ্যাসের অবৈধ ব্যবস্থা নিয়ে লুটপাট চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। অনেক রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না; যারা পাচ্ছেন, তাদের জন্য প্রতিটি সিলিন্ডার এখন ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলা যেন এই পরিস্থিতির কিছুই না করছে, সরকারের কোনও উদ্যোগ দেখাই যায়নি। ভোক্তা অধিদপ্তরও শুধু চোখের অর্ধচোখে কিছু জরিমানা করছে; এতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

বলা হয়, জুলুমের অতীত দিনগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এক বছর পার হলেও পুরোনো সমস্যা বেড়েই যাচ্ছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, এর প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁ খাতে, যা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে রয়েছে।

অতীতে, সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে যুক্তিসঙ্গতভাবে যেসব ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বেশিরভাগই দুর্বল আর অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে নিয়ন্ত্রিত এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা হাতের বাইরে চলে গেছে। এখন এই অবৈধ ব্যবসায়ীরা একচেটিয়াভাবে এই বাজারের নিয়ন্ত্রণে।

অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্না করতে বাধ্য হওয়ার কারণে খাবারের দাম বেড়ে যায়, যা গ্রাহকদের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। এতে রেস্তোরাঁর লোকসান বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের খরচ কমাতে মরিয়া।

এছাড়া, এখন বাজারে পণ্য সরবরাহে দিশেহারা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তেলের সংকট, ডাল, চাল, পেঁয়াজের অভাব দেখা দিয়েছে। এর মিশেল আরেকটি সমস্যা হলো, কিছু শ্রমিক সংগঠন সত্যিকার শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে হুমকি, ধামকি ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এই অপকর্মের কারণে মালিকরা নানা দিক থেকে চাপের মধ্যে পড়ছেন। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠনের যেই অভিযোগ, তার পেছনে একটি কর্পোরেট গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, যা এই খাত দখলের জন্য নানা পরিকল্পনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকরা জানিয়েছেন, এই চাঁদাবাজি ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের পথে যাবেন। তারা ত্বরিত কার্যক্রম প্রয়োজন বলে ধরে নিয়েছেন, যাতে জ্বালানি সংকট সমাধান, ট্রেড ইউনিয়নের নামে অপপ্রচার বন্ধ, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং খাবারের মূল্য সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে না যায়।

তারা সরকারের দুটো রাজনৈতিক দিক থেকেও দাবি করেছেন—নির্বাচনী ইশতেহারে রেস্তোরাঁ খাতে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্ভরযোগ্য ভ刊ালয়ে তারা বলেন, বর্তমান সেক্টরে কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই কোটি মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। ভবিষ্যতে, এই খাতে কাজের সুযোগ বাড়বে, দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এই খাতের জন্য সরকার যদি সহযোগিতা ও সহায়তা বাড়ানো না হয়, তাহলে ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসার জন্য বাধ্য হবে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা।