১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

রমজানে ভেজালরোধে অভিযান তীব্র: বাজার থেকে ৪৯টি খাদ্যপণ্য প্রত্যাহার

পবিত্র রমজান সামনে রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা প্রমাণিত হওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে বেশি ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সূচক তথ্য বলেন শিল্প সচিব মো. ওবাইদুর রহমান। তিনি জানান, বিশেষত রমজানে প্রচুর চাহিদা থাকায় ফ্রুট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, সফট ড্রিংকস পাউডার, পাস্তুরিত দুধ, ভোজ্যতেল, ঘি, নুডলস ও সেমাইসহ যেসব পণ্য বেশি ব্যবহার হয় সেগুলোকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বিএসটিআই মোট ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০১টি নমুনে মানসম্পন্ন পাওয়া গেছে; বাকি ৪৯টিতে ভেজালের প্রমাণ মেলে। নিম্নমানের ভোজ্যতেল তৈরির দায়ে একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত সাত মাসে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে ১০৩টি কারখানা ও পেট্রোলপাম্প বন্ধ করা হয়েছে। এক হাজার ৪৭০টি মোবাইল কোর্ট অনুষ্ঠিত করে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে সচিব জানান।

ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে প্রতিদিন তিনটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও জোটবদ্ধভাবে অংশ নেবে।

বিএসটিআইর পরিচালক (প্রকৌশলী) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে নামিদামী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। প্রান ও ইউনিলিভারের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানিয়েছে এসব তাদের তৈরি নয়।

শিল্প সচিব আরও বলেন, নিম্নমানের বা নকল খাদ্যপণ্য ধরা পড়লে তা ধ্বংস করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ চক্রও চিহ্নিত করে শৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএসটিআই বর্তমানে সারা বছর অভিযান চালায়, তবে রমজান উপলক্ষে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও ভোক্তাদের সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—সন্দেহজনক পণ্য দেখা গেলে সংস্থাকে দ্রুত জানাতে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

রমজানে ভেজালরোধে অভিযান তীব্র: বাজার থেকে ৪৯টি খাদ্যপণ্য প্রত্যাহার

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান সামনে রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা প্রমাণিত হওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে বেশি ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সূচক তথ্য বলেন শিল্প সচিব মো. ওবাইদুর রহমান। তিনি জানান, বিশেষত রমজানে প্রচুর চাহিদা থাকায় ফ্রুট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, সফট ড্রিংকস পাউডার, পাস্তুরিত দুধ, ভোজ্যতেল, ঘি, নুডলস ও সেমাইসহ যেসব পণ্য বেশি ব্যবহার হয় সেগুলোকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বিএসটিআই মোট ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০১টি নমুনে মানসম্পন্ন পাওয়া গেছে; বাকি ৪৯টিতে ভেজালের প্রমাণ মেলে। নিম্নমানের ভোজ্যতেল তৈরির দায়ে একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত সাত মাসে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে ১০৩টি কারখানা ও পেট্রোলপাম্প বন্ধ করা হয়েছে। এক হাজার ৪৭০টি মোবাইল কোর্ট অনুষ্ঠিত করে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে সচিব জানান।

ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে প্রতিদিন তিনটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও জোটবদ্ধভাবে অংশ নেবে।

বিএসটিআইর পরিচালক (প্রকৌশলী) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে নামিদামী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। প্রান ও ইউনিলিভারের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানিয়েছে এসব তাদের তৈরি নয়।

শিল্প সচিব আরও বলেন, নিম্নমানের বা নকল খাদ্যপণ্য ধরা পড়লে তা ধ্বংস করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ চক্রও চিহ্নিত করে শৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএসটিআই বর্তমানে সারা বছর অভিযান চালায়, তবে রমজান উপলক্ষে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও ভোক্তাদের সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—সন্দেহজনক পণ্য দেখা গেলে সংস্থাকে দ্রুত জানাতে।