টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে নতুন নতুন রেকর্ড গড়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। গতকাল শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরির তাণ্ডবের ঠিক পরই আজ চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে কানাডার তরুণ ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিং সামরা একটি ঝড়ো সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে কানাডা টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। উদ্বোধনী জুটিতে দিলপ্রীত বাজওয়া ও যুবরাজ মারকুটে ব্যাটিং করে মাত্র ৮৪ বলেই ১১৬ রানের মজবুত ভিত্তি গড়ে দেন। দলের সেই শক্ত ভূ-ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নিজে খেলতে গেলে যুবরাজ কেমন ধাঁচের ব্যাটসম্যান, সেটাই দেখিয়ে দিলেন।
যুবরাজ প্রথম ফিফটি বানিয়েছিলেন ৩৬ বলেই, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। এরপর তিনি আরও দ্রুত গতিতে খেলতে শুরু করেন ও পরের ৫০ রান যোগ করে নিজের শতক পূর্ণ করেন কেবল ৫৮ বলে। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত এসে তিনি ৬৫ বল খেলে ১১০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কার মিশেলে রচিত।
এই সেঞ্চুরির ফলে মাত্র ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে যুবরাজটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়ে একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। ব্যক্তিগত কৃতিত্ব ছাড়াও এটি একজন সহযোগী দেশের (অ্যাসোসিয়েট) প্লেয়ার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ডও হয়ে রইল—এর আগে এই রেকর্ডে ছিলেন অ্যারন জোন্স, যিনি কানাডার বিপক্ষে ৯৪ রান করে ছিলেন শীর্ষে। আজ যুবরাজের ১১০ রানের ইনিংস সেই রেকর্ড ভেঙে দিল।
তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিউই বোলারদের লাইন-লেন্থ কাবু হয়ে পড়ে এবং দর্শকরা চেন্নাইয়ে এক চোখধাঁধানো প্রদর্শনী দেখার সুন্দর সুযোগ পান। ইনিংসটিতে ৬টি ছক্কা হাঁকার মাধ্যমে যুবরাজ এমন এক কীর্তি করেছেন যা তাঁকে ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন ও বেন মানেত্তিরের সঙ্গে তুলনীয় কোনো মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে।
ব্যক্তিগত গতিশীলতা ও সাহসিকতায় ভর করে এই তরুণের পারফরম্যান্স কেবল এক ম্যাচের সাফল্য নয়; আন্তর্জাতিক মঞ্চে কানাডার প্রতিভার প্রমাণও। বাবা বালজিৎ সিং ভারতের থেকেই কানাডায় পাড়ি জমান—ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের প্রতি তার ভীষণ অনুরাগ থেকেই তিনি ছেলের নাম রাখেন যুবরাজ। যদিও তাদের মধ্যে রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, নামের মাধ্যমে সেই অনুপ্রেরণা আজ বিশ্বমঞ্চে উত্তরোত্তর সফল প্রমাণ দিল।
এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স কেবল ব্যক্তিগত খ্যাতি নয়, বরং কানাডা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার একটি জোরালো ইঙ্গিত। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দেখানো এই ধাঁচের ইনিংস কিভাবে দলের মোট ফলাফলকে প্রভাবিত করে, সেটাই আগামী ম্যাচগুলোয় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























