০৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পাথুম নিশাঙ্কার মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি — অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার ইতিহাস গড়া জয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ পALLEKELE স্টেডিয়ামে আজ দর্শকরা দেখলেন এক রোমাঞ্চকর লড়াই, যেখানে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে জন্ম নিল একটি স্মরণীয় সেঞ্চুরি। নির্ধারিত ১৮২ রানের লক্ষ্যের সামনে নেমে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৮ ওভারে ৮ উইকেটে জয় পেয়ে নিয়েছিল ম্যাচটি — এক ক্ষণস্থায়ী ঝাঁকুনিতে লঙ্কানরা ইতিহাস রচনা করল এবং সুপার এইটের দৌড়ে নিজেদের আগের অবস্থান আরও মজবুত করল।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান-স্টার্টিং জুটি ট্র্যাভিস হেড ও মিচেল মার্শ শুরুতেই ভিভিদ আক্রমণ দেখায়; এই দুইজন মিলিয়ে মাত্র ৫১ বলেই ১০৪ রান যোগ করেন এবং প্রথম আট ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯৭ রানের অবস্থায় তারা ২০০ ছাড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে শ্রীলঙ্কার বোলিং ইউনিট দুর্দান্ত কন্ট্রোল দেখিয়ে তাদের গতি থামিয়ে দেয়। লঙ্কান পেসার ও স্পিনার মিলেমিশে আঘাত করলে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮১ রানে আটকে যায়।

রানের তাড়া শুরু করে শ্রীলঙ্কা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে। ওপেনার কুশল মেন্ডিস ফের তাঁর মনের মতো ইনিংস খেলেন এবং টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নিজেকে ধরে রাখলেন—এভাবে তিনি বড় বড় নামদের সঙ্গে নিজের নামের কথাও যোগ করলেন। কিন্তু মাঠের মূল নায়ক ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা; তিনি অপরাজিত শতরানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন এবং নিজ দলকে যৌথভাবে জয়ের বদলে পৌঁছে দিলেন।

নিশাঙ্কার এই সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ — টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে সেঞ্চুরি করার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে নাম এঁকে দিলেন, ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। দীর্ঘ ১৬ বছরের শুষ্কতা শেষে নিশাঙ্কা এই পদচিহ্ন কাটলেন।

এই ইনিংসের সঙ্গে সঙ্গে নিশাঙ্কা আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এখন টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার এবং রান তাড়া করতে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটারের তালিকায় নাম উঠিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একের অধিক সেঞ্চুরি করার গৌরবও অর্জন করেছেন। মজার ব্যাপার হলো শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যে চারটি সেঞ্চুরি আছে, সবই পALLEKELE স্টেডিয়ামে হয়েছে — এই ভেন্যুকে লঙ্কান ব্যাটারদের জন্য সৌভাগ্যের মঞ্চ বলা চলে।

নিশাঙ্কার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ সফল রানের তাড়া করে নতুন রেকর্ড গড়ল — ২০২২ সালে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করা ১৭৭ রানের রেকর্ড আজ ছাড়িয়ে ১৮২ রানের অনন্য মাইলফলক স্থাপিত হলো। এই বিপর্যয় অস্ট্রেলিয়ার সুপার এইটের সপক্ষে জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে, আর শ্রীলঙ্কার জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় একটি জয়।

সব মিলিয়ে আজকের দিনটা ছিল নিশাঙ্কা ও মেন্ডিসের: একদিকে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত কীর্তি, অন্যদিকে দলীয় একঝাঁক জোরালো পারফরম্যান্স — যা লঙ্কান ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পাথুম নিশাঙ্কার মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি — অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার ইতিহাস গড়া জয়

প্রকাশিতঃ ০৩:২২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ পALLEKELE স্টেডিয়ামে আজ দর্শকরা দেখলেন এক রোমাঞ্চকর লড়াই, যেখানে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে জন্ম নিল একটি স্মরণীয় সেঞ্চুরি। নির্ধারিত ১৮২ রানের লক্ষ্যের সামনে নেমে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৮ ওভারে ৮ উইকেটে জয় পেয়ে নিয়েছিল ম্যাচটি — এক ক্ষণস্থায়ী ঝাঁকুনিতে লঙ্কানরা ইতিহাস রচনা করল এবং সুপার এইটের দৌড়ে নিজেদের আগের অবস্থান আরও মজবুত করল।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান-স্টার্টিং জুটি ট্র্যাভিস হেড ও মিচেল মার্শ শুরুতেই ভিভিদ আক্রমণ দেখায়; এই দুইজন মিলিয়ে মাত্র ৫১ বলেই ১০৪ রান যোগ করেন এবং প্রথম আট ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯৭ রানের অবস্থায় তারা ২০০ ছাড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে শ্রীলঙ্কার বোলিং ইউনিট দুর্দান্ত কন্ট্রোল দেখিয়ে তাদের গতি থামিয়ে দেয়। লঙ্কান পেসার ও স্পিনার মিলেমিশে আঘাত করলে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮১ রানে আটকে যায়।

রানের তাড়া শুরু করে শ্রীলঙ্কা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে। ওপেনার কুশল মেন্ডিস ফের তাঁর মনের মতো ইনিংস খেলেন এবং টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নিজেকে ধরে রাখলেন—এভাবে তিনি বড় বড় নামদের সঙ্গে নিজের নামের কথাও যোগ করলেন। কিন্তু মাঠের মূল নায়ক ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা; তিনি অপরাজিত শতরানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন এবং নিজ দলকে যৌথভাবে জয়ের বদলে পৌঁছে দিলেন।

নিশাঙ্কার এই সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ — টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে সেঞ্চুরি করার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে নাম এঁকে দিলেন, ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। দীর্ঘ ১৬ বছরের শুষ্কতা শেষে নিশাঙ্কা এই পদচিহ্ন কাটলেন।

এই ইনিংসের সঙ্গে সঙ্গে নিশাঙ্কা আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এখন টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার এবং রান তাড়া করতে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটারের তালিকায় নাম উঠিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একের অধিক সেঞ্চুরি করার গৌরবও অর্জন করেছেন। মজার ব্যাপার হলো শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যে চারটি সেঞ্চুরি আছে, সবই পALLEKELE স্টেডিয়ামে হয়েছে — এই ভেন্যুকে লঙ্কান ব্যাটারদের জন্য সৌভাগ্যের মঞ্চ বলা চলে।

নিশাঙ্কার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ সফল রানের তাড়া করে নতুন রেকর্ড গড়ল — ২০২২ সালে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করা ১৭৭ রানের রেকর্ড আজ ছাড়িয়ে ১৮২ রানের অনন্য মাইলফলক স্থাপিত হলো। এই বিপর্যয় অস্ট্রেলিয়ার সুপার এইটের সপক্ষে জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে, আর শ্রীলঙ্কার জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় একটি জয়।

সব মিলিয়ে আজকের দিনটা ছিল নিশাঙ্কা ও মেন্ডিসের: একদিকে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত কীর্তি, অন্যদিকে দলীয় একঝাঁক জোরালো পারফরম্যান্স — যা লঙ্কান ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।