১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
১০ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা: টেকসই জ্বালানি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ববণ্টন: কে কোথায় পেলেন দায়িত্ব? ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন — নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের যাত্রা শুরু ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীতে ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত এটি শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয় — গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বাক্ষর করল সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে

পাথুম নিশাঙ্কার মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি, শ্রীলঙ্কার ধ্বংসাত্মক জয় — অস্ট্রেলিয়া বিধ্বস্ত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ এক নাটকীয় লড়াই হলো যেখানে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাটিংকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় ১৮২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে লঙ্কানরা মাত্র ১৮ ওভারেই ৮ উইকেটে জিতে নেয় ম্যাচটি। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সুপার এইটের পথে বড় ধাপ এগিয়েছে এবং ম্যাচটি দিয়ে অনেক নতুন রেকর্ডের জন্ম হয়েছে।

ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটিতে ট্র্যাভিস হেড ও মিচেল মার্শ মিশে গিয়েছিলেন। মাত্র ৫১ বলেই তারা যোগ করেন ১০৪ রান — ওভার প্রতি গড় শতরান ১২.২৩— এবং অষ্টম ওভারের শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে অজিরা ৯৭ রানে পৌঁছে ছিল। তখনই শ্রীলঙ্কার বোলাররা ফিরতি আঘাত করে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। মাঝের ওভারগুলোতে লঙ্কান পেসার ও স্পিনাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং দেখান এবং ২০ ওভারে অজিরা আটকে যায় ১৮১ রানে।

রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ঝড়ো শুরু দেখেন দর্শকরা। ওপেনার কুশল মেন্ডিস তার ধারাবাহিক ফর্ম বজায় রেখে টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন এবং এগিয়ে দেন দলকে। কিন্তু ম্যাচের নজিরবিহীন নায়ক ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। তিনি অপরাজিত ১০০ রান করে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয়তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন — ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম লঙ্কান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে, ১৬ বছর পর নিশাঙ্কা সেই শূন্যতা পূরণ করলেন।

নিশাঙ্কার ইনিংস ছিল আক্রমণাত্মক ও আস্থার মিশ্রণ: প্রতিপক্ষ বোলিংকে কাবু করে চলা, প্রয়োজনীয় সময়ে ঝড়ো ধাক্কা এবং দলকে নির্ভরযোগ্য হাত ধরেই নিয়ে চলা। তার এই সেঞ্চুরি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

রেকর্ডের কথাও কম নয়— নিশাঙ্কা হয়ে উঠেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার। একই সঙ্গে রান তাড়া করতে নেমে বিশ্ব মঞ্চে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটারের তালিকায় তার নাম যুক্ত হলো। এছাড়া তিনি শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একের অধিক সেঞ্চুরি করার বিশেষ কৃতিত্বও অর্জন করলেন। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের চারটি সেঞ্চুরি সবই পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে হয়েছে—এ মাঠ যেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের জন্য বরকতময় ভেন্যু প্রমাণিত হয়েছে।

নিশাঙ্কার ব্যাটে ভর করে শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সফল রানের তাড়া করে নতুন রেকর্ড গড়ল — ২০২২ সালে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তোলা ১৭৭ রানের রেকর্ড আজ ১৮২-এ উন্নীত হলো। এই বিপর্যয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের সুপার এইটের রাস্তা আরও জটিল করে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে নিশাঙ্কা ও মেন্ডিসের এই চমকপ্রদ পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন দিনের আভাস দিচ্ছে। মাঠে তাদের খেলায় দেখা গেল যে শ্রীলঙ্কা তাদের দিনে বিশ্বের কোনো শক্তি—এমনকি অস্ট্রেলিয়াও—কেই হারাতে সক্ষম। এই জয় লঙ্কান ভক্তদের জন্য উৎসবঘন এক দিন রচনা করল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা

পাথুম নিশাঙ্কার মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি, শ্রীলঙ্কার ধ্বংসাত্মক জয় — অস্ট্রেলিয়া বিধ্বস্ত

প্রকাশিতঃ ০৮:২১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ এক নাটকীয় লড়াই হলো যেখানে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাটিংকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় ১৮২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে লঙ্কানরা মাত্র ১৮ ওভারেই ৮ উইকেটে জিতে নেয় ম্যাচটি। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সুপার এইটের পথে বড় ধাপ এগিয়েছে এবং ম্যাচটি দিয়ে অনেক নতুন রেকর্ডের জন্ম হয়েছে।

ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটিতে ট্র্যাভিস হেড ও মিচেল মার্শ মিশে গিয়েছিলেন। মাত্র ৫১ বলেই তারা যোগ করেন ১০৪ রান — ওভার প্রতি গড় শতরান ১২.২৩— এবং অষ্টম ওভারের শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে অজিরা ৯৭ রানে পৌঁছে ছিল। তখনই শ্রীলঙ্কার বোলাররা ফিরতি আঘাত করে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। মাঝের ওভারগুলোতে লঙ্কান পেসার ও স্পিনাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং দেখান এবং ২০ ওভারে অজিরা আটকে যায় ১৮১ রানে।

রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ঝড়ো শুরু দেখেন দর্শকরা। ওপেনার কুশল মেন্ডিস তার ধারাবাহিক ফর্ম বজায় রেখে টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন এবং এগিয়ে দেন দলকে। কিন্তু ম্যাচের নজিরবিহীন নায়ক ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। তিনি অপরাজিত ১০০ রান করে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয়তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন — ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম লঙ্কান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে, ১৬ বছর পর নিশাঙ্কা সেই শূন্যতা পূরণ করলেন।

নিশাঙ্কার ইনিংস ছিল আক্রমণাত্মক ও আস্থার মিশ্রণ: প্রতিপক্ষ বোলিংকে কাবু করে চলা, প্রয়োজনীয় সময়ে ঝড়ো ধাক্কা এবং দলকে নির্ভরযোগ্য হাত ধরেই নিয়ে চলা। তার এই সেঞ্চুরি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

রেকর্ডের কথাও কম নয়— নিশাঙ্কা হয়ে উঠেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার। একই সঙ্গে রান তাড়া করতে নেমে বিশ্ব মঞ্চে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটারের তালিকায় তার নাম যুক্ত হলো। এছাড়া তিনি শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একের অধিক সেঞ্চুরি করার বিশেষ কৃতিত্বও অর্জন করলেন। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের চারটি সেঞ্চুরি সবই পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে হয়েছে—এ মাঠ যেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের জন্য বরকতময় ভেন্যু প্রমাণিত হয়েছে।

নিশাঙ্কার ব্যাটে ভর করে শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সফল রানের তাড়া করে নতুন রেকর্ড গড়ল — ২০২২ সালে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তোলা ১৭৭ রানের রেকর্ড আজ ১৮২-এ উন্নীত হলো। এই বিপর্যয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের সুপার এইটের রাস্তা আরও জটিল করে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে নিশাঙ্কা ও মেন্ডিসের এই চমকপ্রদ পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন দিনের আভাস দিচ্ছে। মাঠে তাদের খেলায় দেখা গেল যে শ্রীলঙ্কা তাদের দিনে বিশ্বের কোনো শক্তি—এমনকি অস্ট্রেলিয়াও—কেই হারাতে সক্ষম। এই জয় লঙ্কান ভক্তদের জন্য উৎসবঘন এক দিন রচনা করল।