১১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী চেকপোস্টে পুলিশ কনস্টেবল ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত দুর্বল বলে কাউকে আঘাত করা যাবে না: গয়েশ্বর দুর্বল বলে কাউকে আঘাত করা চলবে না: গয়েশ্বর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১০–১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে ঈদুল ফিতরের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা মাতৃভাষা দিবসে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা স্তম্ভ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন অমর একুশে: চিরগৌরব ও আত্মপরিচয়ের দিন একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের ফোনালাপ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবার জামায়াতের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক ঐতিহাসিক দৃশ্য দেখা গেল। শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের বর্তমান নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধানিবেদন শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রাহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন, কারণ অতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা প্রদানের নজির ছিল না। এবারে দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে এবং বিরোধীদলীয় জোটের নেতা হিসেবে ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুলার মালা অর্পণ করেছেন—এটি দেশের রাজনীতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাদের পর জেলা তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান—ও শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন হতেই বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন।

দিবসটির আনন্দ ও মর্যাদা বজায় রাখতে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশ উদযাপনটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে। নতুন সরকার একুশের মূল চেতনা হিসেবে জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়েছে, আর বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে জামায়াত ও তাদের জোটের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের রাজনৈতিক জীবনে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে এ বছর অমর একুশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংযত ও ভাবগাম্ভীৰ্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী চেকপোস্টে পুলিশ কনস্টেবল ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবার জামায়াতের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা

প্রকাশিতঃ ১১:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক ঐতিহাসিক দৃশ্য দেখা গেল। শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের বর্তমান নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধানিবেদন শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রাহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন, কারণ অতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা প্রদানের নজির ছিল না। এবারে দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে এবং বিরোধীদলীয় জোটের নেতা হিসেবে ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুলার মালা অর্পণ করেছেন—এটি দেশের রাজনীতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাদের পর জেলা তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান—ও শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন হতেই বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন।

দিবসটির আনন্দ ও মর্যাদা বজায় রাখতে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশ উদযাপনটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে। নতুন সরকার একুশের মূল চেতনা হিসেবে জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়েছে, আর বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে জামায়াত ও তাদের জোটের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের রাজনৈতিক জীবনে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে এ বছর অমর একুশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংযত ও ভাবগাম্ভীৰ্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে।