১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপিতে আলোচনায় যেসব নেতা-নেত্রী

বিএনপির সরকারের আগমনী পর্যায়ে এবার সব আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) রমজানের মধ্যেই এসব আসনের নির্বাচন করার আভাস দিয়েছে। শুরুর আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী বিএনপি জোটের কাছে প্রায় ৩৭টি আসন যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে ইসি সূত্রে প্রাপ্ত চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বিএনপি ২১১টি সাধারণ আসনে বিজয়ী হওয়ায় তাদের পাওয়া সংরক্ষিত আসন হবে ৩৬টি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে প্রার্থী জেতায় তাদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১২টি নির্ধারণ করা হয়েছে। এনসিপি ৬টির বিপরীতে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টির বিপরীতে ১টি আসন পাবে বলে ইসি জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির অভ্যন্তরে মনোনয়ন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দল ও এর অঙ্গসংগঠনের বহু ত্যাগী নেত্রী ও কিছু অপেক্ষাকৃত তরুণ তারকা এখন মনোনয়নের প্রস্তুতিতে থাকলেও দলের নারী সংগঠনের বর্ষীয়ান নেত্রীরাও জায়গা দাবি করছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃত্ব বলছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থেকেছেন, সেসব নেত্রীই মূল দাবিদার থাকবেন।

উপযুক্ত সংযোজন ও তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে হাইকমান্ড বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দলের কিছু সূত্রে জানা গেছে। তবুও প্রবীণ নেত্রীদেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হবে—এমনContours রইল। ২০০১ সালের সংরক্ষিত আসনের অনেক প্রাক্তন এমপি এখন বয়স ও অন্যান্য কারণে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু যারা এখনো সক্রিয় তাদের মধ্যে অনেকে এবারও স্থান পেতে পারেন।

সংরক্ষিত আসন নিয়ে যে সব নেত্রীদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া জেলা-এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পরিচিত নামগুলো হলেন:

– আফরোজা আব্বাস (জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি, ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী)

– সুলতানা আহমেদ (মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক)

– নাজমুন নাহার বেবী (সহসভাপতি)

– হেলেন জেরিন খান (এডেন কলেজ কাঁপানো ছাত্রদল নেত্রী, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক)

– আরিফা সুলতানা রুমা (ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)

– সামিরা তানজিনা চৌধুরী (প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা)

– সৈয়দা আদিবা হোসেন (সিলেটের সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন-এর কন্যা)

অন্য আলোচ্য নামগুলোর মধ্যে আছেন—বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনও আলোচনায় রয়েছেন।

তাছাড়া মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কন্যা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী, অধ্যাপিকা ও সাবেক ছাত্রনেত্রী রোকেয়া চৌধুরী বেবি, শাহানা আক্তার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নেতা জেবা আমিন খান ইত্যাদি নামও আলোচ্য।

আরও অন্যান্য দাবিদার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর; চেমন আরা বেগম; কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন এবং কনক চাঁপা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসি চেষ্টা করছে ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশিত হবার ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়—এই সময়সীমা ভিত্তি করেই ইসি তার সূচি নির্ধারণ করছে।

চূড়ান্ত মনোনয়ন কার্যক্রমে শেষ সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির হাইকমান্ডের, যেখানে দলের স্থায়ী ও কেন্দ্রীয় নেতারা সব কদম বিবেচনা করে তালিকা নির্ধারণ করবেন। মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামবদল ও সর্বশেষ তালিকা প্রকাশ হবার পরই দলরম্ভিক রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপিতে আলোচনায় যেসব নেতা-নেত্রী

প্রকাশিতঃ ০৩:২৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির সরকারের আগমনী পর্যায়ে এবার সব আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) রমজানের মধ্যেই এসব আসনের নির্বাচন করার আভাস দিয়েছে। শুরুর আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী বিএনপি জোটের কাছে প্রায় ৩৭টি আসন যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে ইসি সূত্রে প্রাপ্ত চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বিএনপি ২১১টি সাধারণ আসনে বিজয়ী হওয়ায় তাদের পাওয়া সংরক্ষিত আসন হবে ৩৬টি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে প্রার্থী জেতায় তাদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১২টি নির্ধারণ করা হয়েছে। এনসিপি ৬টির বিপরীতে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টির বিপরীতে ১টি আসন পাবে বলে ইসি জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির অভ্যন্তরে মনোনয়ন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দল ও এর অঙ্গসংগঠনের বহু ত্যাগী নেত্রী ও কিছু অপেক্ষাকৃত তরুণ তারকা এখন মনোনয়নের প্রস্তুতিতে থাকলেও দলের নারী সংগঠনের বর্ষীয়ান নেত্রীরাও জায়গা দাবি করছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃত্ব বলছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থেকেছেন, সেসব নেত্রীই মূল দাবিদার থাকবেন।

উপযুক্ত সংযোজন ও তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে হাইকমান্ড বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দলের কিছু সূত্রে জানা গেছে। তবুও প্রবীণ নেত্রীদেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হবে—এমনContours রইল। ২০০১ সালের সংরক্ষিত আসনের অনেক প্রাক্তন এমপি এখন বয়স ও অন্যান্য কারণে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু যারা এখনো সক্রিয় তাদের মধ্যে অনেকে এবারও স্থান পেতে পারেন।

সংরক্ষিত আসন নিয়ে যে সব নেত্রীদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া জেলা-এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পরিচিত নামগুলো হলেন:

– আফরোজা আব্বাস (জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি, ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী)

– সুলতানা আহমেদ (মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক)

– নাজমুন নাহার বেবী (সহসভাপতি)

– হেলেন জেরিন খান (এডেন কলেজ কাঁপানো ছাত্রদল নেত্রী, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক)

– আরিফা সুলতানা রুমা (ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)

– সামিরা তানজিনা চৌধুরী (প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা)

– সৈয়দা আদিবা হোসেন (সিলেটের সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন-এর কন্যা)

অন্য আলোচ্য নামগুলোর মধ্যে আছেন—বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনও আলোচনায় রয়েছেন।

তাছাড়া মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কন্যা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী, অধ্যাপিকা ও সাবেক ছাত্রনেত্রী রোকেয়া চৌধুরী বেবি, শাহানা আক্তার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নেতা জেবা আমিন খান ইত্যাদি নামও আলোচ্য।

আরও অন্যান্য দাবিদার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর; চেমন আরা বেগম; কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন এবং কনক চাঁপা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসি চেষ্টা করছে ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশিত হবার ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়—এই সময়সীমা ভিত্তি করেই ইসি তার সূচি নির্ধারণ করছে।

চূড়ান্ত মনোনয়ন কার্যক্রমে শেষ সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির হাইকমান্ডের, যেখানে দলের স্থায়ী ও কেন্দ্রীয় নেতারা সব কদম বিবেচনা করে তালিকা নির্ধারণ করবেন। মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামবদল ও সর্বশেষ তালিকা প্রকাশ হবার পরই দলরম্ভিক রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।