০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: কারা এগিয়ে?

সরকার গঠনের পরে এবার মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলো। নির্বাচন কমিশন রমজানের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রাথমিক কয়েকটি গণনা ও জোট-বণ্টন থেকে বিএনপি জোটের ভাগে প্রায় ৩৬-৩৭টি আসন পড়তে পারে—তবে চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী সংখ্যাটা নির্ধারিত হবে।

বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী ও সক্রিয় নারী নেত্রীরা এসব আসনে মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের হাইকমান্ড বলছে, এবারে স্থায়ী কমিটি ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ এবং আন্দোলনে সক্রিয় ত্যাগী নেত্রীদেরকেও সম্মানীয় অবস্থান দেওয়া হবে। গত নির্বাচনী সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বয়স ও অন্যান্য কারণে রাজনীতির ভুমিকা কিছুটা সরে গেছেন; তবুও অনেকে এখনও রাজনীতিতে রয়েছেন এবং এবারও তালিকায় জায়গা করে নেয়ার সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান; তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি ও মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম সারির দাবিদার হিসেবে রয়েছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আফরোজা আব্বাস (ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী), মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং ইডেন কলেজজুড়ে পরিচিত ছাত্রদল নেত্রী ও মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান।

তার সঙ্গে তালিকায় আছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা; সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা সামিরা তানজিনা চৌধুরী; সিলেটের সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন।

বাকিদের মধ্যে আরও আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা; সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি; ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

তালিকায় রয়েছেন আরও: রাশেদা বেগম হীরা; সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু; ইয়াসমিন আরা হক; জাহান পান্না; বিলকিস ইসলাম; ফরিদা ইয়াসমিন; এবং মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী।

অন্য অনেকে যাঁদের নাম আলোচনায় আছে—মহিলা দলের নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আর্লি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নেত্রী জেবা আমিন খান; মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর; চেমন আরা বেগম। সাংস্কৃতিক পটভূমির নামেও আলোচনায় রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চম্পা।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ ও পদের বণ্টন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তারা চেষ্টা করবে ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে হয়।

ইসি-তে আগত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি ২১১টি সাধারণ আসনে বিজয়ী হওয়ার কারণে সংরক্ষিত আসন হিসেবে তাদের প্রাপ্তসংখ্যা প্রায় ৩৬টি ধরা হয়েছে; আগে কিছু স্থানীয় হিসাব-নিকাশে ৩৭টি সম্ভাবনার উলেখ থাকলেও চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী সংখ্যা স্থির হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রাপ্ত ৬৮টি আসনের ভিত্তিতে নারীর জন্য প্রায় ১২টি আসন পেতে পারে; এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষেও প্রত্যেকের জন্য ১টি আসন বরাদ্দের কথা ইসি সূত্রে বলা হয়েছে।

এখন সময় এসেছে হাইকমান্ড সিদ্ধান্তের — কোন নেত্রীদেরকে স্থান মিলবে এবং কাদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় পারদর্শিতা, আন্দোলন-অভিজ্ঞতা, দলীয় অবদানের টানাপোড়েন এবং কোটাবিন্যাস সবই বিবেচনায় রাখা হবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: কারা এগিয়ে?

প্রকাশিতঃ ১১:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকার গঠনের পরে এবার মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলো। নির্বাচন কমিশন রমজানের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রাথমিক কয়েকটি গণনা ও জোট-বণ্টন থেকে বিএনপি জোটের ভাগে প্রায় ৩৬-৩৭টি আসন পড়তে পারে—তবে চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী সংখ্যাটা নির্ধারিত হবে।

বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী ও সক্রিয় নারী নেত্রীরা এসব আসনে মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের হাইকমান্ড বলছে, এবারে স্থায়ী কমিটি ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ এবং আন্দোলনে সক্রিয় ত্যাগী নেত্রীদেরকেও সম্মানীয় অবস্থান দেওয়া হবে। গত নির্বাচনী সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বয়স ও অন্যান্য কারণে রাজনীতির ভুমিকা কিছুটা সরে গেছেন; তবুও অনেকে এখনও রাজনীতিতে রয়েছেন এবং এবারও তালিকায় জায়গা করে নেয়ার সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান; তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি ও মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম সারির দাবিদার হিসেবে রয়েছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আফরোজা আব্বাস (ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী), মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং ইডেন কলেজজুড়ে পরিচিত ছাত্রদল নেত্রী ও মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান।

তার সঙ্গে তালিকায় আছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা; সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা সামিরা তানজিনা চৌধুরী; সিলেটের সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন।

বাকিদের মধ্যে আরও আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা; সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি; ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

তালিকায় রয়েছেন আরও: রাশেদা বেগম হীরা; সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু; ইয়াসমিন আরা হক; জাহান পান্না; বিলকিস ইসলাম; ফরিদা ইয়াসমিন; এবং মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী।

অন্য অনেকে যাঁদের নাম আলোচনায় আছে—মহিলা দলের নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আর্লি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নেত্রী জেবা আমিন খান; মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর; চেমন আরা বেগম। সাংস্কৃতিক পটভূমির নামেও আলোচনায় রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চম্পা।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ ও পদের বণ্টন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তারা চেষ্টা করবে ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে হয়।

ইসি-তে আগত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি ২১১টি সাধারণ আসনে বিজয়ী হওয়ার কারণে সংরক্ষিত আসন হিসেবে তাদের প্রাপ্তসংখ্যা প্রায় ৩৬টি ধরা হয়েছে; আগে কিছু স্থানীয় হিসাব-নিকাশে ৩৭টি সম্ভাবনার উলেখ থাকলেও চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী সংখ্যা স্থির হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রাপ্ত ৬৮টি আসনের ভিত্তিতে নারীর জন্য প্রায় ১২টি আসন পেতে পারে; এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষেও প্রত্যেকের জন্য ১টি আসন বরাদ্দের কথা ইসি সূত্রে বলা হয়েছে।

এখন সময় এসেছে হাইকমান্ড সিদ্ধান্তের — কোন নেত্রীদেরকে স্থান মিলবে এবং কাদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় পারদর্শিতা, আন্দোলন-অভিজ্ঞতা, দলীয় অবদানের টানাপোড়েন এবং কোটাবিন্যাস সবই বিবেচনায় রাখা হবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়।