নগদ ব্যবহান কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়াতে সব ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবা প্রদানে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রধান কার্যালয়ে আলাদা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ শনিবার (১৬ মার্চ) জারি করা সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলা কিউআর, ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, পিওএস ও অনলাইন পেমেন্টের প্রসারজনিত গতিতে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে। সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংকও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ক্যাশলেস, ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গড়ার কাজ চালাচ্ছে।
ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগের অন্যতম প্রয়োজনীয়তা হিসেবে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্টদের লাইসেন্স প্রদানে এবং নবায়নের সময় বাংলা কিউআর ভিত্তিক লেনদেনে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের প্রসার ত্বরান্বিত করা।
প্রতিটি ব্যাংক, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও)-কে তাদের প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে নীতি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন, পর্যালোচনা ও প্রতিবেদন তৈরিতে সমন্বয় বাড়াতে বলা হয়েছে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির তত্ত্বাবধান পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সম্পর্কিত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তাকে দিতে হবে; আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা তত্ত্বাবধান করবেন।
স্টাফিং সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোতে ইউনিটে অন্তত চারজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক; আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুইজন কর্মকর্তা থাকবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকে একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করতে হবে; এমএফএস/পিএসপি/পিএসও-তে এই দায়িত্ব হবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের এক কর্মকর্তার।
ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: কর্মকর্তা ও স্টাফদের প্রশিক্ষণ আয়োজন, সাধারণ জনগণের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়ানো, গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সমন্বয় করা।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি বছরের অগ্রগতি নিয়ে আলাদা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে এবং প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে ওই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে বলা হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























