০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইওএম সহযোগিতায় তেহরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার সারাদেশে অভিযান: অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার প্রধানমন্ত্রী: খেলোয়াড়রা রাজনীতিতে না এসে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলুন ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত-পাচার রোধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা মার্চের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড: ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুৎমন্ত্রী ঘোষণা: প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল সরকার ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু

৫১০৭ দিনের জয়শূন্যতা ভাঙিয়ে মুম্বাইয়ের উড়ান; রোহিত কোহলিকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইপিএলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় সন্ধ্যা ছিল—দীর্ঘ ১৩ আসর এবং ৫১০৭ দিনের অপেক্ষার পর খুলোনো ম্যাচে জয় পেয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের দেওয়া ২২১ রানের বিপুল লক্ষ্য তাড়া করে মুম্বাই ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতল। আবেগ আর উত্সাহে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা যেন পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে মুম্বাই দলের প্রত্যাবর্তন উদযাপন করলেন।

টস হেরে ব্যাটিং করা কলকাতা ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২০ রান সংগ্রহ করে। অভিজ্ঞ আজিঙ্কা রাহানের ৬৭ ও তরুণ আংক্রিশ রাঘুবংশীর ৫১ রানের দুই অর্ধশতক এবং ওপেনার ফিন অ্যালেনের ঝাঁঝালো ১৭ বলে ৩৭ রান কলকাতাকে বড় স্কোর এনে দেয়। মুম্বাইয়ের বোলাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শার্দুল ঠাকুর ছিলেন তাদের মধ্যে সেরা—৪ ওভারে ৩৯ রান খরচায় ৩টি কিল নেয়া উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নামে মুম্বাই; শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক সূচনাই তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। উদ্বোধনী জুটিতেই রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটন স্কোরবোর্ডে ১৪৮ রান যোগ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসেন। রোহিত মাত্র ৩৮ বল খেলে ৬টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৭৮ রানের এক ঝাঁপিত ইনিংস খেলেন; তাঁর বিদায়ে মুম্বাই তখন জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে থাকে।

রোহিতের এই ইনিংসের আরও একটি তাৎপর্য হলো ক্রিকেট ইতিহাসের তালিকায় নতুন একটি মাইলফলক—আইপিএলের নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রান সংগ্রহের রেকর্ডে তিনি বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে গেছেন। কলকাতার বিপক্ষে রোহিতের সংগ্রহ এখন ১১৬১ রান, যা কোহলির পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১১৫৯ রানের রেকর্ডকে টপকে দিয়েছে।

রোহিতের আউটের পরে দলের আরেক প্রধান নায়ক ছিল রায়ান রিকেলটন; ৪৩ বলে ৮১ রানে তিনি ৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় মঞ্চ ڇেঁড়ে দেন। রিকেলটনের এই শক্তিশালী ইনিংসে বিপুল টার্গেটও ধীরে ধীরে মুম্বাইয়ের কাছে সহজ হয়ে উঠেছিল।

অবশেষে নির্ধারিত সময়ের আগে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিল মুম্বাই—এই জয় কেবল দুই পয়েন্ট নয়, বরং দীর্ঘ এক দশক ধরে জমে থাকা মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলার প্রতীকও বটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্বোধনী ম্যাচে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাস মুম্বাইকে চলতি টুর্নামেন্টে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

অন্যদিকে কলকাতার জন্য এটি হতাশাজনক এক শুরু—২২১ রানের বড় সংগ্রহ করেও বোলিংতে তেমন প্রভাব ফেলতে না পেরে তারা জয় হাতছাড়া করেছে। ওয়াংখেড়ার ভরপুর গ্যালারিতে রোহিত শর্মার পারফরম্যান্স ও মুম্বাইয়ের প্রত্যাবর্তন দেখার আনন্দ ছিল প্রমাণ করে দিল—এই আইপিএল আসর শুরু থেকেই অনন্য এক রঙ মেলায় পরিণত হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার

৫১০৭ দিনের জয়শূন্যতা ভাঙিয়ে মুম্বাইয়ের উড়ান; রোহিত কোহলিকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইপিএলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় সন্ধ্যা ছিল—দীর্ঘ ১৩ আসর এবং ৫১০৭ দিনের অপেক্ষার পর খুলোনো ম্যাচে জয় পেয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের দেওয়া ২২১ রানের বিপুল লক্ষ্য তাড়া করে মুম্বাই ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতল। আবেগ আর উত্সাহে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা যেন পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে মুম্বাই দলের প্রত্যাবর্তন উদযাপন করলেন।

টস হেরে ব্যাটিং করা কলকাতা ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২০ রান সংগ্রহ করে। অভিজ্ঞ আজিঙ্কা রাহানের ৬৭ ও তরুণ আংক্রিশ রাঘুবংশীর ৫১ রানের দুই অর্ধশতক এবং ওপেনার ফিন অ্যালেনের ঝাঁঝালো ১৭ বলে ৩৭ রান কলকাতাকে বড় স্কোর এনে দেয়। মুম্বাইয়ের বোলাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শার্দুল ঠাকুর ছিলেন তাদের মধ্যে সেরা—৪ ওভারে ৩৯ রান খরচায় ৩টি কিল নেয়া উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নামে মুম্বাই; শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক সূচনাই তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। উদ্বোধনী জুটিতেই রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটন স্কোরবোর্ডে ১৪৮ রান যোগ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসেন। রোহিত মাত্র ৩৮ বল খেলে ৬টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৭৮ রানের এক ঝাঁপিত ইনিংস খেলেন; তাঁর বিদায়ে মুম্বাই তখন জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে থাকে।

রোহিতের এই ইনিংসের আরও একটি তাৎপর্য হলো ক্রিকেট ইতিহাসের তালিকায় নতুন একটি মাইলফলক—আইপিএলের নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রান সংগ্রহের রেকর্ডে তিনি বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে গেছেন। কলকাতার বিপক্ষে রোহিতের সংগ্রহ এখন ১১৬১ রান, যা কোহলির পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১১৫৯ রানের রেকর্ডকে টপকে দিয়েছে।

রোহিতের আউটের পরে দলের আরেক প্রধান নায়ক ছিল রায়ান রিকেলটন; ৪৩ বলে ৮১ রানে তিনি ৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় মঞ্চ ڇেঁড়ে দেন। রিকেলটনের এই শক্তিশালী ইনিংসে বিপুল টার্গেটও ধীরে ধীরে মুম্বাইয়ের কাছে সহজ হয়ে উঠেছিল।

অবশেষে নির্ধারিত সময়ের আগে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিল মুম্বাই—এই জয় কেবল দুই পয়েন্ট নয়, বরং দীর্ঘ এক দশক ধরে জমে থাকা মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলার প্রতীকও বটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্বোধনী ম্যাচে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাস মুম্বাইকে চলতি টুর্নামেন্টে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

অন্যদিকে কলকাতার জন্য এটি হতাশাজনক এক শুরু—২২১ রানের বড় সংগ্রহ করেও বোলিংতে তেমন প্রভাব ফেলতে না পেরে তারা জয় হাতছাড়া করেছে। ওয়াংখেড়ার ভরপুর গ্যালারিতে রোহিত শর্মার পারফরম্যান্স ও মুম্বাইয়ের প্রত্যাবর্তন দেখার আনন্দ ছিল প্রমাণ করে দিল—এই আইপিএল আসর শুরু থেকেই অনন্য এক রঙ মেলায় পরিণত হয়েছে।