০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সিইসি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ শপথফরম দাখিল করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসান অপরাধ ১৪ জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ সরকারের উদ্যোগ: কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ শিগগিরই তালিকায় থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চেহারা প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের নতুন পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী ১৫ জেলায় ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা: ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝঁড়ো হাওয়া

সরকারের উদ্যোগ: কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ

কৃষকদের জন্য সরাসরি সার-বীজ প্রদানের জন্য গ্রামের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের ব্যবস্থা করছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকার প্রণোদনা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা বিনামূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেতে পারেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান কৃষিমন্ত্রী। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষি কাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক শ্রেণিকে কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে।

অধিকারের আওতায় কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই খাতে সরকারের সীমিত বরাদ্দের মধ্যে ৭০০ কোটি টাকায় ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন শতাধিক লক্ষ কৃষক।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সরকার কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যা এই কার্যক্রমের জন্য মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর ফলে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পাচ্ছেন।

সরকার কৃষির উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচের বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১৬ লাখ ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ ও ভর্তুকি দিয়েছে। সেই সঙ্গে, এই সময়ে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন ট্রিপলএসপি (টিএসপি), ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, কৃষকের শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো কৃষক ও খামারিদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হিসেবে কাজ করছে, ফলে দেশের কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে অনেক উন্নতি হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের উদ্যোগ: কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ

প্রকাশিতঃ ০৩:৪৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

কৃষকদের জন্য সরাসরি সার-বীজ প্রদানের জন্য গ্রামের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের ব্যবস্থা করছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকার প্রণোদনা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা বিনামূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেতে পারেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান কৃষিমন্ত্রী। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষি কাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক শ্রেণিকে কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে।

অধিকারের আওতায় কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই খাতে সরকারের সীমিত বরাদ্দের মধ্যে ৭০০ কোটি টাকায় ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন শতাধিক লক্ষ কৃষক।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সরকার কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যা এই কার্যক্রমের জন্য মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর ফলে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পাচ্ছেন।

সরকার কৃষির উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচের বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১৬ লাখ ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ ও ভর্তুকি দিয়েছে। সেই সঙ্গে, এই সময়ে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন ট্রিপলএসপি (টিএসপি), ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, কৃষকের শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো কৃষক ও খামারিদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হিসেবে কাজ করছে, ফলে দেশের কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে অনেক উন্নতি হয়েছে।