০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সিইসি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ শপথফরম দাখিল করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী অপরাধ ১৪ জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসান সরকারের উদ্যোগ: কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ শিগগিরই তালিকায় থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চেহারা প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের নতুন পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী ১৫ জেলায় ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা: ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝঁড়ো হাওয়া

হরমুজ ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে লড়াই শেষ করতে রাজি ট্রাম্প

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি সচল না থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষ শীঘ্রই শেষ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র — এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং 그의 উপদেষ্টারা মনে করেন, প্রণালী জোর করে খুলে দিলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে তারা সামরিক অভিযানকে সীমিত রেখেই দ্রুত সংঘাত বন্ধ করতে চান।

প্রশাসনকর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প চাচ্ছেন চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত সমাপ্ত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপগুলোকে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হবে; এরপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল করতে বাধ্য করা হবে।

ওয়াশিংটনের ধারণা হলো আগে থেকেই বড়সড় জাহাজি অভিযান বা প্রণালী জোরপূর্বক মুক্ত করার চেষ্টা করলে লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। যদি কূটনৈতিক চাপে তেহরান বাধ্য না হয়, তাহলে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে নিয়োজিত করে পরবর্তীতে প্রণালী পুনরায় চালু করানোর উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।

এই অবস্থানকে সমালোচনা করেছন কেইই-সমালোচক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক সুজান ম্যালোনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালী খোলা না রেখেই সামরিক অভিযান বন্ধ করা নিতান্তই দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে। তার মতে, ‘‘জ্বালানি বাজার বৈশ্বিক; হরমুজ বন্ধ থাকায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাদা করে রাখতে পারবে না।’’

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে—কারণ বিশ্ব জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথে বহন হয়। ইতোমধ্যে সরবরাহে ব্যাঘাত দেখা দেয়ায় তেলের দাম বারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে এবং বহু দেশ চাপের মুখে পড়েছে।

গত এক মাসে ট্রাম্প এই সংকট নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন—কখনও বেসামরিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি, আবার কখনও তিনি বলছেন প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, তবে তা তাদের বর্তমান প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষে নেই।

সেনেটর মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, বর্তমান সামরিক লক্ষ্যগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্জিত হবে; এরপর হরমুজ ইস্যুতে ইরান নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, নইলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট তা নিশ্চিত করবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে—নতুন সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি বিমানবাহী রণতরী ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, হরমুজ প্রণালী বিশেষত এশিয়া ও ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা মিত্র দেশগুলোকে (যেমন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা) এই জলপথ রক্ষায় নেতৃত্ব দিতে উৎসাহিত করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি দেশ নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে।

প্রশাসনের আশা কূটনীতি ও কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তেহরানকে চাপ দিয়ে তর্কিত অঞ্চল দ্রুত স্বাভাবিক করা, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে—হরমুজ দ্রুত সচল না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ছোঁয়া খাদ্য ও প্রযুক্তি পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে এবং চাপ আরো বাড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

হরমুজ ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে লড়াই শেষ করতে রাজি ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি সচল না থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষ শীঘ্রই শেষ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র — এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং 그의 উপদেষ্টারা মনে করেন, প্রণালী জোর করে খুলে দিলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে তারা সামরিক অভিযানকে সীমিত রেখেই দ্রুত সংঘাত বন্ধ করতে চান।

প্রশাসনকর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প চাচ্ছেন চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত সমাপ্ত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপগুলোকে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হবে; এরপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল করতে বাধ্য করা হবে।

ওয়াশিংটনের ধারণা হলো আগে থেকেই বড়সড় জাহাজি অভিযান বা প্রণালী জোরপূর্বক মুক্ত করার চেষ্টা করলে লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। যদি কূটনৈতিক চাপে তেহরান বাধ্য না হয়, তাহলে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে নিয়োজিত করে পরবর্তীতে প্রণালী পুনরায় চালু করানোর উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।

এই অবস্থানকে সমালোচনা করেছন কেইই-সমালোচক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক সুজান ম্যালোনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালী খোলা না রেখেই সামরিক অভিযান বন্ধ করা নিতান্তই দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে। তার মতে, ‘‘জ্বালানি বাজার বৈশ্বিক; হরমুজ বন্ধ থাকায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাদা করে রাখতে পারবে না।’’

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে—কারণ বিশ্ব জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথে বহন হয়। ইতোমধ্যে সরবরাহে ব্যাঘাত দেখা দেয়ায় তেলের দাম বারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে এবং বহু দেশ চাপের মুখে পড়েছে।

গত এক মাসে ট্রাম্প এই সংকট নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন—কখনও বেসামরিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি, আবার কখনও তিনি বলছেন প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, তবে তা তাদের বর্তমান প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষে নেই।

সেনেটর মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, বর্তমান সামরিক লক্ষ্যগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্জিত হবে; এরপর হরমুজ ইস্যুতে ইরান নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, নইলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট তা নিশ্চিত করবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে—নতুন সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি বিমানবাহী রণতরী ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, হরমুজ প্রণালী বিশেষত এশিয়া ও ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা মিত্র দেশগুলোকে (যেমন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা) এই জলপথ রক্ষায় নেতৃত্ব দিতে উৎসাহিত করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি দেশ নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে।

প্রশাসনের আশা কূটনীতি ও কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তেহরানকে চাপ দিয়ে তর্কিত অঞ্চল দ্রুত স্বাভাবিক করা, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে—হরমুজ দ্রুত সচল না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ছোঁয়া খাদ্য ও প্রযুক্তি পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে এবং চাপ আরো বাড়তে পারে।