০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সিইসি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ শপথফরম দাখিল করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসান অপরাধ ১৪ জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ সরকারের উদ্যোগ: কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ শিগগিরই তালিকায় থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চেহারা প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের নতুন পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী ১৫ জেলায় ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা: ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝঁড়ো হাওয়া

এনবিআর চালু করতে যাচ্ছে বছরব্যাপী ত্রৈমাসিক কর রিটার্ন ব্যবস্থা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বছরজুড়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর রিটার্ন দাখিলের নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্কারকে রাজস্ব কাঠামোর আধুনিকায়ন ও দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নতুন ব্যবস্থায় পুরো বছরকে চার কোয়ার্টারে ভাগ করে রিটার্ন নেওয়া হবে এবং প্রতিটি কোয়ার্টারের উপর আলাদা প্রণোদনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের আচরণে প্রভাব ফেলবে। প্রথম কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন দেবে তাদের ইনসেন্টিভ বা রিবেট দেওয়া হবে; দ্বিতীয় কোয়ার্টারে রেগুলার হার প্রযোজ্য থাকবে; তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টায় যথাক্রমে কিছুটা বেশি ও আরও বেশি পরিমাণ পরিশোধ করার বিধান থাকবে। এ নীতিই কর্পোরেট ট্যাক্স ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হবে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, যেসব কাঠামোগত পরিবর্তন পরিকল্পনায় আছে তার মধ্যে রয়েছে সম্পদ কর পুনঃপ্রবর্তন এবং উত্তরাধিকার কর চালুর বিষয়ও। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত সামাজিক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ব্যয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী অবকাঠামোর চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

কর ফাঁকি রোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এনবিআর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করে ট্যাক্স রিটার্নে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারটি মূল তথ্য আনা হবে—ব্যাংকে ৩০ জুন তারিখে ক্লোজিং ব্যালেন্স কত, সারাবছর মোট মুনাফা কত, কত ট্যাক্স কর্তন হয়েছে এবং ব্যাংক কোন চার্জ করেছে। এই তথ্য রিটার্নে অটোমেটিকভাবে চলে আসবে এবং করদাতাই তা দেখতে পারবেন; এনবিআর অফিসারদের সরাসরি এক্সেস থাকবে না। এতে করদাতাদের বারবার ব্যাংক সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ঝামেলা কমবে।

এনবিআর জেলা বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা ও ভাড়া আয় শনাক্ত করছে। রাজস্ব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের অনাবশ্যক প্রবণতা বন্ধ করে এখন iBAS সিস্টেম ও ট্রেজারির রেকর্ডের ওপর ভর করে ডেটা ব্যবহার করা হবে।

ভ্যাট ক্ষেত্রেও বড় বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে: আনুমানিক ২ লাখ কোটি টাকার খুচরা লেনদেনের বিপরীতে নিবন্ধিত ভ্যাটদাতা মাত্র ৮ লাখ, যেখানে সম্ভাব্য ভ্যাটদাতার সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এই বিশাল ফাঁক কমাতে নিবন্ধনের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চেয়ারম্যান প্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানান, ইতোমধ্যে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ৯০ দিন সময় বাড়ানোর জন্য ২০ হাজার ইলেকট্রনিক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে, যা নতুন টাস্কফোর্স ও বাস্তবায়িত পদক্ষেপগুলোর ফলাফল বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

এনবিআরের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে করসংগ্রহে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে, করদাতাদের জন্য নিয়ম মেনে চলা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ঘাটতি কমে সমাজকল্যাণমূলক ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

এনবিআর চালু করতে যাচ্ছে বছরব্যাপী ত্রৈমাসিক কর রিটার্ন ব্যবস্থা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বছরজুড়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর রিটার্ন দাখিলের নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্কারকে রাজস্ব কাঠামোর আধুনিকায়ন ও দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নতুন ব্যবস্থায় পুরো বছরকে চার কোয়ার্টারে ভাগ করে রিটার্ন নেওয়া হবে এবং প্রতিটি কোয়ার্টারের উপর আলাদা প্রণোদনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের আচরণে প্রভাব ফেলবে। প্রথম কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন দেবে তাদের ইনসেন্টিভ বা রিবেট দেওয়া হবে; দ্বিতীয় কোয়ার্টারে রেগুলার হার প্রযোজ্য থাকবে; তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টায় যথাক্রমে কিছুটা বেশি ও আরও বেশি পরিমাণ পরিশোধ করার বিধান থাকবে। এ নীতিই কর্পোরেট ট্যাক্স ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হবে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, যেসব কাঠামোগত পরিবর্তন পরিকল্পনায় আছে তার মধ্যে রয়েছে সম্পদ কর পুনঃপ্রবর্তন এবং উত্তরাধিকার কর চালুর বিষয়ও। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত সামাজিক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ব্যয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী অবকাঠামোর চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

কর ফাঁকি রোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এনবিআর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করে ট্যাক্স রিটার্নে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারটি মূল তথ্য আনা হবে—ব্যাংকে ৩০ জুন তারিখে ক্লোজিং ব্যালেন্স কত, সারাবছর মোট মুনাফা কত, কত ট্যাক্স কর্তন হয়েছে এবং ব্যাংক কোন চার্জ করেছে। এই তথ্য রিটার্নে অটোমেটিকভাবে চলে আসবে এবং করদাতাই তা দেখতে পারবেন; এনবিআর অফিসারদের সরাসরি এক্সেস থাকবে না। এতে করদাতাদের বারবার ব্যাংক সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ঝামেলা কমবে।

এনবিআর জেলা বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা ও ভাড়া আয় শনাক্ত করছে। রাজস্ব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের অনাবশ্যক প্রবণতা বন্ধ করে এখন iBAS সিস্টেম ও ট্রেজারির রেকর্ডের ওপর ভর করে ডেটা ব্যবহার করা হবে।

ভ্যাট ক্ষেত্রেও বড় বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে: আনুমানিক ২ লাখ কোটি টাকার খুচরা লেনদেনের বিপরীতে নিবন্ধিত ভ্যাটদাতা মাত্র ৮ লাখ, যেখানে সম্ভাব্য ভ্যাটদাতার সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এই বিশাল ফাঁক কমাতে নিবন্ধনের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চেয়ারম্যান প্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানান, ইতোমধ্যে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং ৯০ দিন সময় বাড়ানোর জন্য ২০ হাজার ইলেকট্রনিক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে, যা নতুন টাস্কফোর্স ও বাস্তবায়িত পদক্ষেপগুলোর ফলাফল বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

এনবিআরের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে করসংগ্রহে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে, করদাতাদের জন্য নিয়ম মেনে চলা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ঘাটতি কমে সমাজকল্যাণমূলক ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।