০৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিপিবি: জনস্বাস্থ্যের বদলে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দাবি করেছে, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু-মৃত্যুর ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলাফল। দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া ও হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সময়সীমা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আয়োজনে বিক্ষোভ ও সমাবেশে এসব বক্তব্য উঠে আসে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান।

সমাবেশ শেষে হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্যের তত্ত্বাবধানকারী মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯ মে-এর মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; তা না হলে অবস্থানসহ ঘেরাও উদ্যোগসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকার বিদায় নেওয়ার পরও স্বাস্থ্য খাতে বিপুল তহবিল থাকা সত্ত্বেও শিশুদের টিকা কেনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার বদলে নিজেদের সুবিধা, অনিয়মের মামলা প্রত্যাহার ও ব্যক্তিস্বার্থে বেশি ব্যস্ত ছিল। ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনলে কমিশন পাবেন না—এই আশঙ্কার কারণেও টিকা কেনা হয়নি এমন কথাও তিনি বলেন। রুহিন প্রিন্স বর্তমানে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু দুর্ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেন।

সিপিবির প্রেসিডিয়ামের সদস্য রাগীব আহসান মুন্না হামে মৃত্যুর জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করেন। তিনি বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তদবিরমূলকভাবে দায়ী করছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে চার শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে; বেসরকারি হিসাব হলে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বহু পরিবার সন্তান হারিয়ে শোক ও বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে।

হাসান হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাম নিয়ে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা ও তৎপরতা দেখা যায়নি। তিনি মনে করান, সময়মতো সচেতনতা ও টিকার ব্যবস্থা থাকলে অনেক মৃত্যু রোধ করা যেত।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল। স্মারকলিপি পাঠ করেন সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল এবং সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সদস্য লাকী আক্তার।

সিপিবির দাবি, দাবি না মানা হলে তারা আরও তীব্র আন্দোলনের ঘোষণা দেবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

সিপিবি: জনস্বাস্থ্যের বদলে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দাবি করেছে, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু-মৃত্যুর ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলাফল। দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া ও হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সময়সীমা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আয়োজনে বিক্ষোভ ও সমাবেশে এসব বক্তব্য উঠে আসে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান।

সমাবেশ শেষে হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্যের তত্ত্বাবধানকারী মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯ মে-এর মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; তা না হলে অবস্থানসহ ঘেরাও উদ্যোগসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকার বিদায় নেওয়ার পরও স্বাস্থ্য খাতে বিপুল তহবিল থাকা সত্ত্বেও শিশুদের টিকা কেনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার বদলে নিজেদের সুবিধা, অনিয়মের মামলা প্রত্যাহার ও ব্যক্তিস্বার্থে বেশি ব্যস্ত ছিল। ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনলে কমিশন পাবেন না—এই আশঙ্কার কারণেও টিকা কেনা হয়নি এমন কথাও তিনি বলেন। রুহিন প্রিন্স বর্তমানে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু দুর্ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেন।

সিপিবির প্রেসিডিয়ামের সদস্য রাগীব আহসান মুন্না হামে মৃত্যুর জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করেন। তিনি বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তদবিরমূলকভাবে দায়ী করছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে চার শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে; বেসরকারি হিসাব হলে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বহু পরিবার সন্তান হারিয়ে শোক ও বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে।

হাসান হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাম নিয়ে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা ও তৎপরতা দেখা যায়নি। তিনি মনে করান, সময়মতো সচেতনতা ও টিকার ব্যবস্থা থাকলে অনেক মৃত্যু রোধ করা যেত।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল। স্মারকলিপি পাঠ করেন সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল এবং সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সদস্য লাকী আক্তার।

সিপিবির দাবি, দাবি না মানা হলে তারা আরও তীব্র আন্দোলনের ঘোষণা দেবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেবে।