০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে: ইকবাল হাসান মাহমুদ কুনমিং—চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক ও তিস্তায় ব্যারেজসহ চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র কিছু অংশ রূপ বদলেছে, কিছু পালিয়েছে

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ওই সময়ে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘‘বাণিজ্যকেন্দ্র’’ গড়ে ওঠে যা দেশীয় সম্পদ ব্যাপকভাবে লুটে নেয়—এদের তিনিোজ ‘‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’’ নামে অভিহিত করছেন।

রনি বলেন, এই ‘‘কোম্পানি’’ মূলত কয়েকটি শক্তিশালী অংশ দিয়ে গঠিত ছিল। প্রথমত, কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ি গোষ্ঠী ছিলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বিভাগের এমন সদস্যরাও ছিলেন যারা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা স্বজনতার কারণে সুবিধাভোগী হয়েছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের একটি বড় চক্র নানা জরিপ বা রিপোর্টের নামে কোটি কোটি টাকা টেনে নিয়ে নিজেদের মতো করে খরচ করেছিল।

অর্থনৈতিক লুটপাটের উদাহরণ দিতে গিয়ে রনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল 100 বিলিয়ন ডলারের মতো, ইউনূস সরকারের ওই ১৮ মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় 120 বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—অতিরিক্ত 20 বিলিয়ন ডলার বা আনুমানিক আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় খরচ হয়েছে? একই সাথে তিনি দাবি করেন, বড় ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ মওকুফ ও পুনর্গঠনসহ নানা কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে বিশেষ ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় দেখালেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো প্রকল্পগত উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি। তিনি বলছেন, বড় অংকের হিসাব-নিকাশ পাওয়ার বদলে পরিকল্পনাহীন ব্যয় ও দুর্নীতির ছড়াছড়ি হয়েছে।

ভিডিওর শেষ অংশে গোলাম মাওলা রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা কালে এই দলের শীর্ষরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শনে যে কৌশলগুলো ব্যবহার করেছেন, তার ফলে এখন তাদের মধ্যে নৈতিক শক্তি বা ‘মোরাল কারেজ’ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এর ফলেই, রনির দাবি, ‘‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’’র অনেকেই নিজেদের চেহারা বদলে দিয়েছেন—কেউ বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন, কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে নিয়েছেন এবং একাংশ বিচার এড়াতে দেশে থেকে পালিয়ে গেছেন।

রনি এই অভিযোগগুলোর প্রমাণ ও পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে আরও তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন, যাতে জনগণের চোখের সামনে গঠনমূলক হিসাব-নিকাশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র কিছু অংশ রূপ বদলেছে, কিছু পালিয়েছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ওই সময়ে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘‘বাণিজ্যকেন্দ্র’’ গড়ে ওঠে যা দেশীয় সম্পদ ব্যাপকভাবে লুটে নেয়—এদের তিনিোজ ‘‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’’ নামে অভিহিত করছেন।

রনি বলেন, এই ‘‘কোম্পানি’’ মূলত কয়েকটি শক্তিশালী অংশ দিয়ে গঠিত ছিল। প্রথমত, কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ি গোষ্ঠী ছিলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বিভাগের এমন সদস্যরাও ছিলেন যারা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা স্বজনতার কারণে সুবিধাভোগী হয়েছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের একটি বড় চক্র নানা জরিপ বা রিপোর্টের নামে কোটি কোটি টাকা টেনে নিয়ে নিজেদের মতো করে খরচ করেছিল।

অর্থনৈতিক লুটপাটের উদাহরণ দিতে গিয়ে রনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল 100 বিলিয়ন ডলারের মতো, ইউনূস সরকারের ওই ১৮ মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় 120 বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—অতিরিক্ত 20 বিলিয়ন ডলার বা আনুমানিক আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় খরচ হয়েছে? একই সাথে তিনি দাবি করেন, বড় ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ মওকুফ ও পুনর্গঠনসহ নানা কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে বিশেষ ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় দেখালেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো প্রকল্পগত উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি। তিনি বলছেন, বড় অংকের হিসাব-নিকাশ পাওয়ার বদলে পরিকল্পনাহীন ব্যয় ও দুর্নীতির ছড়াছড়ি হয়েছে।

ভিডিওর শেষ অংশে গোলাম মাওলা রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা কালে এই দলের শীর্ষরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শনে যে কৌশলগুলো ব্যবহার করেছেন, তার ফলে এখন তাদের মধ্যে নৈতিক শক্তি বা ‘মোরাল কারেজ’ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এর ফলেই, রনির দাবি, ‘‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’’র অনেকেই নিজেদের চেহারা বদলে দিয়েছেন—কেউ বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন, কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে নিয়েছেন এবং একাংশ বিচার এড়াতে দেশে থেকে পালিয়ে গেছেন।

রনি এই অভিযোগগুলোর প্রমাণ ও পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে আরও তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন, যাতে জনগণের চোখের সামনে গঠনমূলক হিসাব-নিকাশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।