০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উদ্বোধন রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই রামিসা হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি বাতিল ঘোষণা—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রূপগঞ্জে কোরবানির গরম: খাটিয়া ও হোগলা বিক্রিতে Zuschuss বাড়তি ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহার আগমন ঘনিয়ে আসায় রূপগঞ্জে কোরবানির প্রস্তুতি তুঙ্গে। পশুর হাটের কোলাহলের সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি এবং বাজারের মোড়ে কোরবানির আনুষঙ্গিক পণ্য—মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া, গাছের গুঁড়ি ও হোগলা—থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে।

অস্থায়ী এসব দোকানে ক্রেতা- বিক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাটিয়ার দাম সাধারণত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত, তবে তেঁতুল কাঠের খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এক ফুট থেকে সোয়া ফুট পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের গাছের গুঁড়ি সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম জানান, “কোরবানির দিন মাংস কাটার জন্য খাটিয়া দরকার। তাই এ বছর ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক বলেন, “আগে মূলত কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করতেন। এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার জন্য খাটিয়া কিনছেন।”

উপজেলার কয়েকজন স-মিল (সাও মিল) মালিক জানিয়েছে, সব ধরনের গাছ দিয়ে ভালো গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল কাঠ শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অন্যান্য গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাংস কাটলে কাঠের গুঁড়ি উঠে মাংস নোংরা বা মানহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তেঁতুল কাঠ সহজে নষ্টও হয়ে না; ঠিকমতো পরিষ্কার করে রাখলে বহুবার ব্যবহার করা যায়।

তেঁতুলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন এই কাঠের দামও একটু বেশি। স-মিল থেকে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বাজারজাত করতে হয়—যেটাও খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, “গত কয়েক বছরে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তেঁতুলের গুঁড়ির দাম একটু বেশি।”

মৌসুমি গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা জানান, তিনি ছোট, মাঝারি ও বড়—এই তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করেন। “সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি, দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।”

হোগলারও চাহিদা রয়েছে। মুড়াপাড়া বাজারের হোগলা বিক্রেতা আসলাম মিয়া বলেন, “এবার হোগলার দাম বেড়েছে। বিশেষত কিছু চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ ও বুননের খরচ বাড়ছে।” তাঁর দোকানে বড় আকারের হোগলা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং মাঝারি আকারের প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রূপগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বলেন, “গরু কেনা শেষ; শুধু গুঁড়ি কেনাই বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি কিনলাম। জবাইয়ের পরে পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার জন্য এগুলো খুব কার্যকর।”

বাজারে এই আনুষঙ্গিক পণ্যের জোরালো উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে এক প্রকার উৎসাহ প্রকাশ করছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের এই চাহিদা মেটাতে তারা পর্যাপ্ত স্টক রাখতে পারবেন—তবে কাঠের সরবরাহ ও পরিবহন খরচ কেমন থাকবে, সেটাই ভবিষ্যতের মূল চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু

রূপগঞ্জে কোরবানির গরম: খাটিয়া ও হোগলা বিক্রিতে Zuschuss বাড়তি ভিড়

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আগমন ঘনিয়ে আসায় রূপগঞ্জে কোরবানির প্রস্তুতি তুঙ্গে। পশুর হাটের কোলাহলের সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি এবং বাজারের মোড়ে কোরবানির আনুষঙ্গিক পণ্য—মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া, গাছের গুঁড়ি ও হোগলা—থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে।

অস্থায়ী এসব দোকানে ক্রেতা- বিক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাটিয়ার দাম সাধারণত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত, তবে তেঁতুল কাঠের খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এক ফুট থেকে সোয়া ফুট পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের গাছের গুঁড়ি সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম জানান, “কোরবানির দিন মাংস কাটার জন্য খাটিয়া দরকার। তাই এ বছর ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক বলেন, “আগে মূলত কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করতেন। এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার জন্য খাটিয়া কিনছেন।”

উপজেলার কয়েকজন স-মিল (সাও মিল) মালিক জানিয়েছে, সব ধরনের গাছ দিয়ে ভালো গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল কাঠ শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অন্যান্য গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাংস কাটলে কাঠের গুঁড়ি উঠে মাংস নোংরা বা মানহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তেঁতুল কাঠ সহজে নষ্টও হয়ে না; ঠিকমতো পরিষ্কার করে রাখলে বহুবার ব্যবহার করা যায়।

তেঁতুলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন এই কাঠের দামও একটু বেশি। স-মিল থেকে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বাজারজাত করতে হয়—যেটাও খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, “গত কয়েক বছরে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তেঁতুলের গুঁড়ির দাম একটু বেশি।”

মৌসুমি গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা জানান, তিনি ছোট, মাঝারি ও বড়—এই তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করেন। “সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি, দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।”

হোগলারও চাহিদা রয়েছে। মুড়াপাড়া বাজারের হোগলা বিক্রেতা আসলাম মিয়া বলেন, “এবার হোগলার দাম বেড়েছে। বিশেষত কিছু চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ ও বুননের খরচ বাড়ছে।” তাঁর দোকানে বড় আকারের হোগলা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং মাঝারি আকারের প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রূপগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বলেন, “গরু কেনা শেষ; শুধু গুঁড়ি কেনাই বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি কিনলাম। জবাইয়ের পরে পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার জন্য এগুলো খুব কার্যকর।”

বাজারে এই আনুষঙ্গিক পণ্যের জোরালো উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে এক প্রকার উৎসাহ প্রকাশ করছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের এই চাহিদা মেটাতে তারা পর্যাপ্ত স্টক রাখতে পারবেন—তবে কাঠের সরবরাহ ও পরিবহন খরচ কেমন থাকবে, সেটাই ভবিষ্যতের মূল চ্যালেঞ্জ।