০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

রূপগঞ্জে কোরবানির খাটিয়া ও হোগলা বিক্রিতে জমজমাট বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জে কোরবানির আনুষঙ্গিক পণ্যের চাহিদা তীব্র বেড়েছে। পশুর হাটের ব্যস্ততার পাশাপাশি খাটিয়া, হোগলা, প্লাস্টিক খাট ও মাংস কাটার গাছের গুঁড়ি বিক্রিতেও জমজমাট হাতছে। শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও বাজারের মোড়ে এসব পসরা থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে নানা আকার ও দামের খাটিয়া দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাটিয়ার দাম সাধারণত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে তেঁতুল কাঠ দিয়ে তৈরি খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

ঈদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গাছের গুঁড়ির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তেঁতুল, নিম, করইসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠের গুঁড়ি হাট-বাজার ও সড়কের ধারে বিক্রি হচ্ছে। এক ফুট থেকে দেড় ফুট দৈর্ঘ্যের এসব গুঁড়ির দাম সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, তেঁতুল কাঠ কঠিন ও টেকসই হওয়ায় মাংস কাটার জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী।

স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম জানান, “কোরবানির জন্য খাটিয়া লাগবেই, আমি ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুলের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক বলেন, “আগে কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করত, এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে।”

কয়েকজন স-মিল মালিক বলেছেন, সব ধরনের কাঠই গুণগতভাবে ভালো গুঁড়ি দেয় না। তেঁতুল কাঠ সবচেয়ে শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এর কদর বেশি। অন্য কাঠ ব্যবহার করলে গুঁড়ি উঠে মাংসের মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তেঁতুলের গুঁড়ি যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করলে তা বেশ দিন টেকে।

তেঁতুল গাছ বর্তমানে সহজে মেলেনা, পাওয়াও গেলে দামে বেশি পড়ে—এটি স-মিল মালিকদের বক্তব্য। ফলে গাছ সংগ্রহ করে স-মিলে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি বানিয়ে বাজারজাত করতে হয় এবং খরচ বাড়ে। মৌসুমি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, তিনি ছোট, মাঝারি ও বড়—এই তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করছেন এবং দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

মুড়াপাড়া বাজারে হোগলা বিক্রেতা আসলাম মিয়া জানান, হোগলার দামও এইবার বাড়েছে। নানা চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর ফলে সরবরাহ সংকটে পড়া গেছে; ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ করায় এবং বুনন খরচ বেড়ে গেছে। তার দোকানে বড় আকারের হোগলা ২০০–৩০০ টাকা এবং মাঝারি আকারেরটি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রূপগঞ্জের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বললেন, “গরু কেনা শেষ, শুধু গুঁড়ি বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ মান ভালো বলে ৩৫০ টাকায় একটি কেধাম।” তিনি বলেন, পশু জবাইয়ের পরে পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটতে গুঁড়ির ব্যবহার অনেক কার্যকর।

নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কয়েক বছরের মধ্যে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়েছে, তাই তেঁতুল কাঠের গুঁড়ির দাম বাড়েছে। তবুও এখন মানুষ মাংস কাটার পরিচ্ছন্নতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

কোরবানির মৌসুমে রূপগঞ্জে কেবল পশু হাটই নয়—খাটিয়া, হোগলা ও গুঁড়িসহ আনুষঙ্গিক পণ্যের বাজারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের এই সরগরম কাজকর্মে ঈদের আনন্দ ও অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য দুটোই দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

রূপগঞ্জে কোরবানির খাটিয়া ও হোগলা বিক্রিতে জমজমাট বাজার

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জে কোরবানির আনুষঙ্গিক পণ্যের চাহিদা তীব্র বেড়েছে। পশুর হাটের ব্যস্ততার পাশাপাশি খাটিয়া, হোগলা, প্লাস্টিক খাট ও মাংস কাটার গাছের গুঁড়ি বিক্রিতেও জমজমাট হাতছে। শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও বাজারের মোড়ে এসব পসরা থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে নানা আকার ও দামের খাটিয়া দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাটিয়ার দাম সাধারণত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে তেঁতুল কাঠ দিয়ে তৈরি খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

ঈদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গাছের গুঁড়ির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তেঁতুল, নিম, করইসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠের গুঁড়ি হাট-বাজার ও সড়কের ধারে বিক্রি হচ্ছে। এক ফুট থেকে দেড় ফুট দৈর্ঘ্যের এসব গুঁড়ির দাম সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, তেঁতুল কাঠ কঠিন ও টেকসই হওয়ায় মাংস কাটার জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী।

স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম জানান, “কোরবানির জন্য খাটিয়া লাগবেই, আমি ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুলের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক বলেন, “আগে কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করত, এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে।”

কয়েকজন স-মিল মালিক বলেছেন, সব ধরনের কাঠই গুণগতভাবে ভালো গুঁড়ি দেয় না। তেঁতুল কাঠ সবচেয়ে শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এর কদর বেশি। অন্য কাঠ ব্যবহার করলে গুঁড়ি উঠে মাংসের মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তেঁতুলের গুঁড়ি যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করলে তা বেশ দিন টেকে।

তেঁতুল গাছ বর্তমানে সহজে মেলেনা, পাওয়াও গেলে দামে বেশি পড়ে—এটি স-মিল মালিকদের বক্তব্য। ফলে গাছ সংগ্রহ করে স-মিলে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি বানিয়ে বাজারজাত করতে হয় এবং খরচ বাড়ে। মৌসুমি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, তিনি ছোট, মাঝারি ও বড়—এই তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করছেন এবং দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

মুড়াপাড়া বাজারে হোগলা বিক্রেতা আসলাম মিয়া জানান, হোগলার দামও এইবার বাড়েছে। নানা চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর ফলে সরবরাহ সংকটে পড়া গেছে; ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ করায় এবং বুনন খরচ বেড়ে গেছে। তার দোকানে বড় আকারের হোগলা ২০০–৩০০ টাকা এবং মাঝারি আকারেরটি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রূপগঞ্জের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বললেন, “গরু কেনা শেষ, শুধু গুঁড়ি বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ মান ভালো বলে ৩৫০ টাকায় একটি কেধাম।” তিনি বলেন, পশু জবাইয়ের পরে পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটতে গুঁড়ির ব্যবহার অনেক কার্যকর।

নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কয়েক বছরের মধ্যে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়েছে, তাই তেঁতুল কাঠের গুঁড়ির দাম বাড়েছে। তবুও এখন মানুষ মাংস কাটার পরিচ্ছন্নতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

কোরবানির মৌসুমে রূপগঞ্জে কেবল পশু হাটই নয়—খাটিয়া, হোগলা ও গুঁড়িসহ আনুষঙ্গিক পণ্যের বাজারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের এই সরগরম কাজকর্মে ঈদের আনন্দ ও অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য দুটোই দেখা যাচ্ছে।