১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইসরায়েল বেথলেহেমের কাছে ৩০ হেক্টর ফিলিস্তিনি জমি দখলের সামরিক আদেশ জারি

আনাদোলুর বরাতে জানানো হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের নিকটবর্তী ৩০ হেক্টর (প্রায় ৭৪ একর) ফিলিস্তিনি জমি ‘জনস্বার্থে’ অধিগ্রহণের অজুহাতে দখলের জন্য সামরিক আদেশ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মোয়াদ শাবান বলেছেন, বেথলেহেমের জাবাল আল-ফুরিদিস এলাকায় এই জমি অধিগ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে সেখানে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান উন্নয়ন করা হবে।

শাবান বলেন, বছরের শুরু থেকে এটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা তৃতীয় জমি অধিগ্রহণের আদেশ। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল সম্পত্তি দাবি নয়; এগুলো বাস্তবে ফিলিস্তিনি জমির ওপর আরও দৃঢ় ও স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে সুবিধা করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের মধ্যে ইতোমধ্যেই ওই এলাকা সংলগ্ন ১৭.১ হেক্টর (প্রায় ৪২ একর) জমিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে ঘোষণা করেছে। শাবান অভিযোগ করেছেন যে প্রত্নতাত্ত্বিক উন্নয়নের যুক্তি দেখিয়েই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্য পরিবর্তন করে বসতি স্থাপনের পক্ষে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে জমির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বাড়ানো। ১৯৯৫ সালের অসলো II চুক্তি অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ নিয়ে গঠিত এরিয়া সি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারের তথ্য মতে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে এমন একটি পদক্ষেপ অনুমোদন করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের বিশাল অংশ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করার সুযোগ দেবে।

বক্তারা সতর্ক করছেন, এই নীতির ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর স্থায়ী ও একতরফা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে সহিংসতা তীব্র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২৬ মে পর্যন্ত সংঘর্ষ ও অভিযানগুলোতে অন্তত ১ হাজার ১৬৮ জন নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত, প্রায় ২৩ হাজার গ্রেপ্তার এবং প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইসরায়েল বেথলেহেমের কাছে ৩০ হেক্টর ফিলিস্তিনি জমি দখলের সামরিক আদেশ জারি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আনাদোলুর বরাতে জানানো হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের নিকটবর্তী ৩০ হেক্টর (প্রায় ৭৪ একর) ফিলিস্তিনি জমি ‘জনস্বার্থে’ অধিগ্রহণের অজুহাতে দখলের জন্য সামরিক আদেশ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মোয়াদ শাবান বলেছেন, বেথলেহেমের জাবাল আল-ফুরিদিস এলাকায় এই জমি অধিগ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে সেখানে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান উন্নয়ন করা হবে।

শাবান বলেন, বছরের শুরু থেকে এটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা তৃতীয় জমি অধিগ্রহণের আদেশ। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল সম্পত্তি দাবি নয়; এগুলো বাস্তবে ফিলিস্তিনি জমির ওপর আরও দৃঢ় ও স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে সুবিধা করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের মধ্যে ইতোমধ্যেই ওই এলাকা সংলগ্ন ১৭.১ হেক্টর (প্রায় ৪২ একর) জমিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে ঘোষণা করেছে। শাবান অভিযোগ করেছেন যে প্রত্নতাত্ত্বিক উন্নয়নের যুক্তি দেখিয়েই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্য পরিবর্তন করে বসতি স্থাপনের পক্ষে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে জমির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বাড়ানো। ১৯৯৫ সালের অসলো II চুক্তি অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ নিয়ে গঠিত এরিয়া সি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারের তথ্য মতে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে এমন একটি পদক্ষেপ অনুমোদন করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের বিশাল অংশ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করার সুযোগ দেবে।

বক্তারা সতর্ক করছেন, এই নীতির ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর স্থায়ী ও একতরফা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে সহিংসতা তীব্র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২৬ মে পর্যন্ত সংঘর্ষ ও অভিযানগুলোতে অন্তত ১ হাজার ১৬৮ জন নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত, প্রায় ২৩ হাজার গ্রেপ্তার এবং প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।