০৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে: ইকবাল হাসান মাহমুদ কুনমিং—চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক ও তিস্তায় ব্যারেজসহ চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

স্পেসএক্স আইপিওর পর ইলন মাস্ক হলেন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইলন মাস্ক বিশ্বে প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার ইতিহাস রচনা করেছেন। প্রযুক্তি খাতে তার সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধিই এমন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়েছে—যে পরিমাণ ধন আগে সাধারণত বড় কোনো দেশের জিডিপি বা বিশাল ক্ষতিপূরণ-ঋণের মাত্রায়ই দেখা যেত, এখন তা একক ব্যক্তির কাছে সঞ্চিত।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী স্পেসএক্সের সফল আইপিওর পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন (১,১০০ বিলিয়ন) ডলারে। ২০২৬ সালের জুনের বিনিময় হার অনুযায়ী এটিকে বাংলাদেশি মুদ্রায় করলে প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। বিশ্বের অনেক মানুষের জীবনযাত্রা কষাকষিতে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তির এত সম্পদকে অনেকে বৈষম্যের এক চরম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এক ট্রিলিয়ন সংখ্যা কল্পনাও করা কঠিন: একটির পর বারোটি শূন্য লাগবে। যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের নোটগুলো একের পর এক লম্বালম্বিভাবে সাজানো হতো, সেগুলো প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতো—যা পৃথিবী থেকে চাঁদে প্রায় ২০০ বার বেশী দূরত্ব এবং সৌরজগতীয় কিছু দূরত্বকেও ছাড়িয়ে যায়।

ইউএস সেনসাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে нынোমানুসারে প্রায় ৮২০ কোটি মানুষ বাস করে। এই এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি সমানভাবে ভাগ করা হতো, প্রত্যেকে পেতেন প্রায় ১২২ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো। একইসঙ্গে এই একক সম্পদ মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মাত্র ২১টি দেশই এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অতিক্রম করতে পেরেছে।

আরও কিছু তুলনামূলক কল্পনা করার উপকরণ আছে: যুক্তরাষ্ট্রে এই সম্পদ দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ মধ্যমানের বাড়ি একবারে কেনা সম্ভব; তেলের বাজারে এই টাকা দিয়ে চড়া দামে প্রায় ২৪ হাজার ৩০০ কোটি গ্যালন তেল কেনা যায়—পর্যাপ্ত যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি প্রায় দুই বছর চালানো যেতে পারে। (উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন তেলের দাম চার ডলারের ওপরে উঠেছে।)

ধনসম্পদের প্রতিযোগিতায় মাস্ক এখন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে বহু সামনে। ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের তুলনায় মাস্ক বর্তমানে লক্ষাধিক কোটি ডলারে এগিয়ে। এমনকি তালিকার পরবর্তী চতুর্থ-ও পাচঁজনের মোট সম্পদ একত্রিত করেও মাস্কের একক সম্পদের কাছাকাছি পৌঁছাতে সময় লাগবে।

তবে এ সম্পদের পরিমাণ শেয়ারবাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল, তাই ভবিষ্যতে এটি দ্রুত পরিবর্তিতও হতে পারে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই—২০২৪ সালে যখন মাস্কের সম্পদ ছিল অপেক্ষাকৃত কম—স্পেসএক্সের আইপিও সেই সম্পদের পরিধিকে রকেটের গতিতে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে এই বিশাল সম্পদ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কৃতিত্ব ও সম্ভাবনার প্রতীক হলেও, একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অসমতার তীব্রতা ও বিতর্কও নতুন করে উসকে দিয়েছে। আমাদের সমাজের জন্য এই ধারণাগুলোকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে—একা ব্যক্তির সম্পদের জমা, নাকি জনগণের কল্যাণে বিনিয়োগ—এই প্রশ্নগুলো এখন তীব্রভাবে উত্থাপিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী

স্পেসএক্স আইপিওর পর ইলন মাস্ক হলেন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইলন মাস্ক বিশ্বে প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার ইতিহাস রচনা করেছেন। প্রযুক্তি খাতে তার সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধিই এমন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়েছে—যে পরিমাণ ধন আগে সাধারণত বড় কোনো দেশের জিডিপি বা বিশাল ক্ষতিপূরণ-ঋণের মাত্রায়ই দেখা যেত, এখন তা একক ব্যক্তির কাছে সঞ্চিত।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী স্পেসএক্সের সফল আইপিওর পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন (১,১০০ বিলিয়ন) ডলারে। ২০২৬ সালের জুনের বিনিময় হার অনুযায়ী এটিকে বাংলাদেশি মুদ্রায় করলে প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। বিশ্বের অনেক মানুষের জীবনযাত্রা কষাকষিতে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তির এত সম্পদকে অনেকে বৈষম্যের এক চরম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এক ট্রিলিয়ন সংখ্যা কল্পনাও করা কঠিন: একটির পর বারোটি শূন্য লাগবে। যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের নোটগুলো একের পর এক লম্বালম্বিভাবে সাজানো হতো, সেগুলো প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতো—যা পৃথিবী থেকে চাঁদে প্রায় ২০০ বার বেশী দূরত্ব এবং সৌরজগতীয় কিছু দূরত্বকেও ছাড়িয়ে যায়।

ইউএস সেনসাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে нынোমানুসারে প্রায় ৮২০ কোটি মানুষ বাস করে। এই এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি সমানভাবে ভাগ করা হতো, প্রত্যেকে পেতেন প্রায় ১২২ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো। একইসঙ্গে এই একক সম্পদ মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মাত্র ২১টি দেশই এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অতিক্রম করতে পেরেছে।

আরও কিছু তুলনামূলক কল্পনা করার উপকরণ আছে: যুক্তরাষ্ট্রে এই সম্পদ দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ মধ্যমানের বাড়ি একবারে কেনা সম্ভব; তেলের বাজারে এই টাকা দিয়ে চড়া দামে প্রায় ২৪ হাজার ৩০০ কোটি গ্যালন তেল কেনা যায়—পর্যাপ্ত যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি প্রায় দুই বছর চালানো যেতে পারে। (উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন তেলের দাম চার ডলারের ওপরে উঠেছে।)

ধনসম্পদের প্রতিযোগিতায় মাস্ক এখন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে বহু সামনে। ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের তুলনায় মাস্ক বর্তমানে লক্ষাধিক কোটি ডলারে এগিয়ে। এমনকি তালিকার পরবর্তী চতুর্থ-ও পাচঁজনের মোট সম্পদ একত্রিত করেও মাস্কের একক সম্পদের কাছাকাছি পৌঁছাতে সময় লাগবে।

তবে এ সম্পদের পরিমাণ শেয়ারবাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল, তাই ভবিষ্যতে এটি দ্রুত পরিবর্তিতও হতে পারে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই—২০২৪ সালে যখন মাস্কের সম্পদ ছিল অপেক্ষাকৃত কম—স্পেসএক্সের আইপিও সেই সম্পদের পরিধিকে রকেটের গতিতে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে এই বিশাল সম্পদ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কৃতিত্ব ও সম্ভাবনার প্রতীক হলেও, একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অসমতার তীব্রতা ও বিতর্কও নতুন করে উসকে দিয়েছে। আমাদের সমাজের জন্য এই ধারণাগুলোকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে—একা ব্যক্তির সম্পদের জমা, নাকি জনগণের কল্যাণে বিনিয়োগ—এই প্রশ্নগুলো এখন তীব্রভাবে উত্থাপিত হচ্ছে।