০৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অর্থনীতির গতি ফিরাতে রোডশো — বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গ্রিন কনসার্নসের উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে রোড ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ল — হতাহতের খবর নেই শহীদ জিয়ার সার্ক-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি সরকারের মূল পথ: তথ্যমন্ত্রী দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে গেছে বিইআরসি প্রত্যাহার করল ০–৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বকীয়তার প্রতীক: মির্জা ফখরুল বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ মুহিদুল ইসলাম মো. মুহিদুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান বাজেট ও সংস্কারে স্বাস্থ্যখাত: পরিবর্তনের পথে

পপগুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী: স্মরণে বিশেষ আয়োজন

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অগ্রদূত ও ‘পপগুরু’ হিসেবে খ্যাত আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না—একজন সমাজচিন্তক, বিদ্রোহী কণ্ঠ ও নতুন সাংস্কৃতিক ভাষার নির্মাণকারীরূপে বাংলাদেশের সংগীতপরিমণ্ডলে অমোচনীয় ছাপ রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার আবহে আজম খান গঠন করেছিলেন ঐতিহাসিক ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। গিটার হাতে তিনি এমন এক সুর ও ভাবনার ধারার সূচনা করেছিলেন, যা শহরের জীবন, তরুণদের উত্তেজনা, প্রেম এবং স্বাধীনতার আকাক্সিক্ষার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তার গানগুলো—“রেললাইনের বস্তিতে”, “আসি আসি বলে তুমি”, “আলাল ও দুলাল”—নগরজীবনের বাস্তবতাকে সরাসরি এবং মানবিকভাবে উপস্থাপন করেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাহিনি সহজ ভাষায় গাইতে পারাটাই ছিল তার সফলতার মূল রহস্য।

আজম খানের সংগীতধারা ছিলেন বিদ্রোহী তবু কোমল, প্রতিকূলতাকে সুরের মধ্যে মানবিকভাবে ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের বহু শিল্পীর পথপ্রদর্শক হয়েছেন। তার সৃষ্ট সুর, কথ্য ভাষা ও স্টেজ উপস্থিতি তরুণদের কাছে আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

পপগুরুর স্মরণে চ্যানেল আই আজ বিশেষ অনুষ্ঠান সংগ্রহ করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সম্প্রচারিত হবে ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’—এতে ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা স্মৃতিচারণ ও জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করবেন অপু মাহফুজ, পরিচালনা করছেন ইফতেখার মুনিম।

এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘তারকাকথন’-এর বিশেষ পর্বে অংশ নিচ্ছেন তার কন্যা অরণী খান এবং পরিচিত সংগীতশিল্পী ফুয়াদ নাসের বাবু ও পার্থ মজুমদার, যারা আজম খানের ব্যক্তিত্ব ও সংগীতজীবনের অজানা কিছু গল্প শেয়ার করবেন বলে প্রতীক্ষা রইল।

আজম খান фізিকভাবে নেই, কিন্তু তার গান, দর্শন ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা প্রতিটি শ্রোতা ও সুরকারের হৃদয়ে অম্লান। বাংলাদেশের ব্যান্ড ইতিহাসে তিনি চিরকালই এক অদ্বিতীয় নাম ও অনন্য উচ্চারণ হয়ে থাকবেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের সব আয়োজন বিনোদনপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে একটি নতুন আবেগ ও স্মৃতির সঞ্চার করবে—এটাই প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রিন কনসার্নসের উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে রোড ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ

পপগুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী: স্মরণে বিশেষ আয়োজন

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অগ্রদূত ও ‘পপগুরু’ হিসেবে খ্যাত আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না—একজন সমাজচিন্তক, বিদ্রোহী কণ্ঠ ও নতুন সাংস্কৃতিক ভাষার নির্মাণকারীরূপে বাংলাদেশের সংগীতপরিমণ্ডলে অমোচনীয় ছাপ রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার আবহে আজম খান গঠন করেছিলেন ঐতিহাসিক ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। গিটার হাতে তিনি এমন এক সুর ও ভাবনার ধারার সূচনা করেছিলেন, যা শহরের জীবন, তরুণদের উত্তেজনা, প্রেম এবং স্বাধীনতার আকাক্সিক্ষার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তার গানগুলো—“রেললাইনের বস্তিতে”, “আসি আসি বলে তুমি”, “আলাল ও দুলাল”—নগরজীবনের বাস্তবতাকে সরাসরি এবং মানবিকভাবে উপস্থাপন করেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাহিনি সহজ ভাষায় গাইতে পারাটাই ছিল তার সফলতার মূল রহস্য।

আজম খানের সংগীতধারা ছিলেন বিদ্রোহী তবু কোমল, প্রতিকূলতাকে সুরের মধ্যে মানবিকভাবে ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের বহু শিল্পীর পথপ্রদর্শক হয়েছেন। তার সৃষ্ট সুর, কথ্য ভাষা ও স্টেজ উপস্থিতি তরুণদের কাছে আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

পপগুরুর স্মরণে চ্যানেল আই আজ বিশেষ অনুষ্ঠান সংগ্রহ করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সম্প্রচারিত হবে ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’—এতে ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা স্মৃতিচারণ ও জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করবেন অপু মাহফুজ, পরিচালনা করছেন ইফতেখার মুনিম।

এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘তারকাকথন’-এর বিশেষ পর্বে অংশ নিচ্ছেন তার কন্যা অরণী খান এবং পরিচিত সংগীতশিল্পী ফুয়াদ নাসের বাবু ও পার্থ মজুমদার, যারা আজম খানের ব্যক্তিত্ব ও সংগীতজীবনের অজানা কিছু গল্প শেয়ার করবেন বলে প্রতীক্ষা রইল।

আজম খান фізিকভাবে নেই, কিন্তু তার গান, দর্শন ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা প্রতিটি শ্রোতা ও সুরকারের হৃদয়ে অম্লান। বাংলাদেশের ব্যান্ড ইতিহাসে তিনি চিরকালই এক অদ্বিতীয় নাম ও অনন্য উচ্চারণ হয়ে থাকবেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের সব আয়োজন বিনোদনপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে একটি নতুন আবেগ ও স্মৃতির সঞ্চার করবে—এটাই প্রত্যাশা।