০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মালয়েশিয়ায় ‘অপস কুতিপ’ অভিযানে ১১৮ বাংলাদেশি আটক ২২,৩৫২ প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কী করা যাবে: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া পার্টি’ শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের মূল: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান বাজেট বিলে: প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’ থাকলেও কার্যকর পার্টনার হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা দাবি করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার কেবল ‘সহায়ক’: তথ্যমন্ত্রী

ফিফা ঘোষণা করল ক্লাবগুলোর জন্য ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ক্লাবগুলোর জন্য ৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। জাতীয় দলে খেলোয়াড় হারানোর ফলে ক্লাবগুলো যে আর্থিক ও কাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তা পুরোদমে পুষিয়ে দিতে এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের সম্পর্ককে সবল রাখতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফিফার প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, এই তহবিল ‘ফিফা ক্লাব বেনেফিটস প্রোগ্রাম’ আওতায় ব্যয় করা হবে। মোট অর্থের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি মূল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর জন্য আলাদা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে, এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে ক্লাবগুলোর জন্য আলাদা অনুদান করা হচ্ছে—বাছাইপর্বের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৫ মিলিয়ন ডলার ক্লাব ফুটবলের মানোন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তায় ব্যয় হবে।

নতুন নিয়মমালার ফলে ক্লাবগুলোর আয় আগের তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চিত এবং সুরক্ষিত হবে। ফিফা জানিয়েছে, কোনো খেলোয়াড় যদি তাঁর দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন এবং দলের সঙ্গে গ্রুপপর্বেই বিদায় করেন তবুও সংশ্লিষ্ট ক্লাবটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। প্রাক্কলিত হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরুর পর্যায়ে বাদ পড়া দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাবগুলো রয়েছে করবৎ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে—যার ফলে খেলোয়াড় ছড়ানো ও তাদের অনুপস্থিতিজনিত ক্ষতি অনেকটাই কমবে।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিফার এই পদক্ষেপ ক্লাব ও জাতীয় দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করবে। বড় টুর্নামেন্টের সময় খেলোয়াড়দের ইনজুরি ঝুঁকি, দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতি এবং কৌশলগত ক্ষতির কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ প্রশমিত করতে এটি কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি ক্লাবগুলোর অবদানের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করবে, যার ফলে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি পুর্বের যেকোনো আসনের চেয়ে বেশি হবে। এই ঘোষণা সেই বিস্তারকে সামনে রেখেই করা হয়েছে—ফিফা আশা করে বৃহত্তর তহবিলের ফলে কেবল বড় ক্লাব নয়, বিশ্বের ছোট ও মাঝারি মানের ক্লাবগুলোও আর্থিকভাবে সহায়তা পাবে এবং স্বচ্ছন্দভাবে তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে পাঠাতে সক্ষম হবে।

ফিফা জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে তহবিল এর চূড়ান্ত বণ্টন প্রক্রিয়া, যোগ্য ক্লাবের তালিকা এবং বিস্তারিত নির্বাচনী মানদণ্ড প্রকাশ করা হবে। ফিফার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে পেশাদার ক্লাব ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও সফল ও সমতামূলক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ফিফা ঘোষণা করল ক্লাবগুলোর জন্য ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ক্লাবগুলোর জন্য ৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। জাতীয় দলে খেলোয়াড় হারানোর ফলে ক্লাবগুলো যে আর্থিক ও কাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তা পুরোদমে পুষিয়ে দিতে এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের সম্পর্ককে সবল রাখতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফিফার প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, এই তহবিল ‘ফিফা ক্লাব বেনেফিটস প্রোগ্রাম’ আওতায় ব্যয় করা হবে। মোট অর্থের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি মূল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর জন্য আলাদা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে, এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে ক্লাবগুলোর জন্য আলাদা অনুদান করা হচ্ছে—বাছাইপর্বের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৫ মিলিয়ন ডলার ক্লাব ফুটবলের মানোন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তায় ব্যয় হবে।

নতুন নিয়মমালার ফলে ক্লাবগুলোর আয় আগের তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চিত এবং সুরক্ষিত হবে। ফিফা জানিয়েছে, কোনো খেলোয়াড় যদি তাঁর দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন এবং দলের সঙ্গে গ্রুপপর্বেই বিদায় করেন তবুও সংশ্লিষ্ট ক্লাবটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। প্রাক্কলিত হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরুর পর্যায়ে বাদ পড়া দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাবগুলো রয়েছে করবৎ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে—যার ফলে খেলোয়াড় ছড়ানো ও তাদের অনুপস্থিতিজনিত ক্ষতি অনেকটাই কমবে।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিফার এই পদক্ষেপ ক্লাব ও জাতীয় দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করবে। বড় টুর্নামেন্টের সময় খেলোয়াড়দের ইনজুরি ঝুঁকি, দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতি এবং কৌশলগত ক্ষতির কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ প্রশমিত করতে এটি কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি ক্লাবগুলোর অবদানের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করবে, যার ফলে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি পুর্বের যেকোনো আসনের চেয়ে বেশি হবে। এই ঘোষণা সেই বিস্তারকে সামনে রেখেই করা হয়েছে—ফিফা আশা করে বৃহত্তর তহবিলের ফলে কেবল বড় ক্লাব নয়, বিশ্বের ছোট ও মাঝারি মানের ক্লাবগুলোও আর্থিকভাবে সহায়তা পাবে এবং স্বচ্ছন্দভাবে তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে পাঠাতে সক্ষম হবে।

ফিফা জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে তহবিল এর চূড়ান্ত বণ্টন প্রক্রিয়া, যোগ্য ক্লাবের তালিকা এবং বিস্তারিত নির্বাচনী মানদণ্ড প্রকাশ করা হবে। ফিফার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে পেশাদার ক্লাব ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও সফল ও সমতামূলক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।