১০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালীতে সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতা–কর্মী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ-অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের তৃতীয় দফার অভিযানে আরও ১৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে পূর্বের গ্রেপ্তারসহ এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সোমবার (৮ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে এ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনার পেছনের সূত্রটা গত শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ও বিকেলে শুরু হয়। সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে প্রায় হাজারো নেতা-কর্মী বাঁধেরহাট বাজার জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন ও সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, যা স্থানীয় জনজীবনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

পরের দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ঘটনার জের ধরে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে কমান্ড অবস্থান নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, করায় কর্তৃপক্ষ–বিবাদে ওই দিন কিছু নেতাকর্মী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই রাতেই ছাত্রদল অক্ষে পাল্টা কর্মসূচি নেন; তারা একত্র হয়ে কালাদরাপ ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তার অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাঁধেরহাটে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ১১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

একই ঘটনায় ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদস্থানের অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে।

পূর্বের অভিযানে পুলিশ পৃথক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করে আসছিল; তৃতীয় দফার এ অভিযানে আরও ১৮ জন গ্রেপ্তার হয়ে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা এখন ৬৫—পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

নোয়াখালীতে সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতা–কর্মী গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ-অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের তৃতীয় দফার অভিযানে আরও ১৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে পূর্বের গ্রেপ্তারসহ এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সোমবার (৮ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে এ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনার পেছনের সূত্রটা গত শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ও বিকেলে শুরু হয়। সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে প্রায় হাজারো নেতা-কর্মী বাঁধেরহাট বাজার জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন ও সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, যা স্থানীয় জনজীবনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

পরের দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ঘটনার জের ধরে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে কমান্ড অবস্থান নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, করায় কর্তৃপক্ষ–বিবাদে ওই দিন কিছু নেতাকর্মী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই রাতেই ছাত্রদল অক্ষে পাল্টা কর্মসূচি নেন; তারা একত্র হয়ে কালাদরাপ ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তার অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাঁধেরহাটে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ১১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

একই ঘটনায় ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদস্থানের অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে।

পূর্বের অভিযানে পুলিশ পৃথক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করে আসছিল; তৃতীয় দফার এ অভিযানে আরও ১৮ জন গ্রেপ্তার হয়ে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা এখন ৬৫—পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।