১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিমা খাতের তীব্র লেনদেনে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে

এক কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারবাজার ফের শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডে ফিরেছে। গত সোমবারের ঢালাও দরপতির ধাক্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ক্রয় ও বিশেষত বিমা খাতের তীব্র লেনদেন বাজারকে ইতিবাচক করে তোলে। দিনভর বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপর সাধারণ ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, যা অন্য খাতেও ইতিবাচক সেঞ্চুরি ছড়িয়েছে এবং মূল্যসূচক ও লেনদেনে বড় রকমের উল্লম্ফন এসেছে। এই ওঠানামার ফলে গত ১১ কার্যদিবসে বাজার ১০ দিনই প্রশস্তভাবে উর্ধ্বমুখী রেকর্ড করল।

মঙ্গলবার লেনদেন শুরু থেকেই বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে চাপ ছাড়া ক্রয়ের ধারা ছিল। মোট ৫৬টি বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টির শেয়ারের দাম বাড়েছে, যা পুরো বাজারে আস্থার সঞ্চার করে। ঢাকায় লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১০০টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স 이날 ৩৬ পয়েন্ট বাড়ে এবং দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে। একই সঙ্গে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

মূল্যসূচকের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বেড়েছে। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে থাকে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেন তালিকার শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক—এর শেয়ারবাজার লেনদেন মূল্য ছিল ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তালিকার পরবর্তী স্থানে ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। শীর্ষ দশে ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মাসহ অন্যান্য কৃতিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষিত শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়েছে। পাশাপাশি ‘জেড’ গ্রুপের ৫৩টি ও মাঝারি মানের ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে—সিএএসপিআই সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে উঠেছে। সিএসইতে মোট ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দর বেড়েছে এবং মোট লেনদেন ছিল ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাজার দ্রুত পতন কাটিয়ে ওঠার পেছনে মূল চালিকা শক্তি ছিল ক্রেতাদের সক্রিয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অনুকূল প্রবাহ—বিশেষ করে বিমা খাতের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি ও বড় মূলধনী শেয়ারের ওপর বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক। সামগ্রিকভাবে এদিন বাজারে ফিরে এসেছে আস্থা, যা ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

বিমা খাতের তীব্র লেনদেনে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

এক কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারবাজার ফের শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডে ফিরেছে। গত সোমবারের ঢালাও দরপতির ধাক্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ক্রয় ও বিশেষত বিমা খাতের তীব্র লেনদেন বাজারকে ইতিবাচক করে তোলে। দিনভর বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপর সাধারণ ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, যা অন্য খাতেও ইতিবাচক সেঞ্চুরি ছড়িয়েছে এবং মূল্যসূচক ও লেনদেনে বড় রকমের উল্লম্ফন এসেছে। এই ওঠানামার ফলে গত ১১ কার্যদিবসে বাজার ১০ দিনই প্রশস্তভাবে উর্ধ্বমুখী রেকর্ড করল।

মঙ্গলবার লেনদেন শুরু থেকেই বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে চাপ ছাড়া ক্রয়ের ধারা ছিল। মোট ৫৬টি বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টির শেয়ারের দাম বাড়েছে, যা পুরো বাজারে আস্থার সঞ্চার করে। ঢাকায় লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১০০টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স 이날 ৩৬ পয়েন্ট বাড়ে এবং দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে। একই সঙ্গে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

মূল্যসূচকের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বেড়েছে। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে থাকে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেন তালিকার শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক—এর শেয়ারবাজার লেনদেন মূল্য ছিল ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তালিকার পরবর্তী স্থানে ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। শীর্ষ দশে ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মাসহ অন্যান্য কৃতিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষিত শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়েছে। পাশাপাশি ‘জেড’ গ্রুপের ৫৩টি ও মাঝারি মানের ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে—সিএএসপিআই সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে উঠেছে। সিএসইতে মোট ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দর বেড়েছে এবং মোট লেনদেন ছিল ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাজার দ্রুত পতন কাটিয়ে ওঠার পেছনে মূল চালিকা শক্তি ছিল ক্রেতাদের সক্রিয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অনুকূল প্রবাহ—বিশেষ করে বিমা খাতের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি ও বড় মূলধনী শেয়ারের ওপর বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক। সামগ্রিকভাবে এদিন বাজারে ফিরে এসেছে আস্থা, যা ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে।