১০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্য ল্যানসেট: বিশ্বজুড়ে ১২০ কোটি মানুষ মানসিক সমস্যায়

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসাময়িকী দ্য ল্যানসেট এবার উদ্বেগজনক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে — বর্তমানে পৃথিবীতে ১২০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ১৯৯০ সালের তুলনায় এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি, যা সংখ্যার্থেই ভীতিকর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উদ্বেগজনিত সমস্যা (অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার) এবং মারাত্মক বিষণ্নতা (মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার)। গবেষকরা বলছেন, এই দুই রোগ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে উঠছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হচ্ছে তরুণদের ওপর এই চাপ বেশি পাওয়া যাচ্ছে — বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি। কিশোর-কিশোরীরা বাইরের হাসি-আনন্দের আড়ালে নীরবে ভীতিসহ নানা চাপ, দুশ্চিন্তা ও একাকীত্ব লালন করছে।

লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্যও আছে। জরিপে দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও খাওয়াজনিত সমস্যার প্রবণতা বেশি; আর পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অটিজম ও এডিএইচডি বা আচরণগত সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এই পরিস্থিতির কারণ নিয়ে গবেষকদের মতামত মিশ্র। ড. ডামিয়ান স্যান্টোমাউরো বলেন, এর পেছনে একক কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ড. রবার্ট ট্রেস্টম্যান মনে করেন, এখন মানুষ আগের চেয়ে নিজের কষ্ট নিয়ে বেশি কথা বলছে — আগে যেসব অনুভূতি চাপা পড়ত, এখন সেগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

তবে সবাই এই ব্যাখ্যায় একমত নন। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, আধুনিক সমাজে সাধারণ চাপকেও দ্রুত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে; আগে দুরন্ত বলত যে শিশুটির আচরণ, এখন সহজেই এডিএইচডির লেবেল 붙ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশাল ওষুধ শিল্পের ভূমিকা — অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের বাজার হচ্ছে মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলারের; এই শিল্পের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে আধুনিক জীবনযাপন নিজেই মানুষকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ক্লান্ত করছে: দীর্ঘ সময় স্ক্রিন নোরঘণ্টা, ঘুমের অভাব, ব্যায়ামের कमी, প্রক্রিয়াজাত খাবার, একাকীত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন নেতিবাচক সংবাদ—সব মিলিয়ে মনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হচ্ছে। সোশ্যাল মেডিয়াও বড় কারণ—অনেক তরুণ অন্যের সাজানো জীবন ঘন্টার পর ঘন্টা দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে, যা হতাশা বাড়ায় এবং আত্মবিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যাই নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় সংকেত। মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা প্রসার, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং তরুণদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন — না হলে সমস্যার কবে শেষ হবে বলা কঠিন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

দ্য ল্যানসেট: বিশ্বজুড়ে ১২০ কোটি মানুষ মানসিক সমস্যায়

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসাময়িকী দ্য ল্যানসেট এবার উদ্বেগজনক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে — বর্তমানে পৃথিবীতে ১২০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ১৯৯০ সালের তুলনায় এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি, যা সংখ্যার্থেই ভীতিকর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উদ্বেগজনিত সমস্যা (অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার) এবং মারাত্মক বিষণ্নতা (মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার)। গবেষকরা বলছেন, এই দুই রোগ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে উঠছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হচ্ছে তরুণদের ওপর এই চাপ বেশি পাওয়া যাচ্ছে — বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি। কিশোর-কিশোরীরা বাইরের হাসি-আনন্দের আড়ালে নীরবে ভীতিসহ নানা চাপ, দুশ্চিন্তা ও একাকীত্ব লালন করছে।

লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্যও আছে। জরিপে দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও খাওয়াজনিত সমস্যার প্রবণতা বেশি; আর পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অটিজম ও এডিএইচডি বা আচরণগত সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এই পরিস্থিতির কারণ নিয়ে গবেষকদের মতামত মিশ্র। ড. ডামিয়ান স্যান্টোমাউরো বলেন, এর পেছনে একক কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ড. রবার্ট ট্রেস্টম্যান মনে করেন, এখন মানুষ আগের চেয়ে নিজের কষ্ট নিয়ে বেশি কথা বলছে — আগে যেসব অনুভূতি চাপা পড়ত, এখন সেগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

তবে সবাই এই ব্যাখ্যায় একমত নন। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, আধুনিক সমাজে সাধারণ চাপকেও দ্রুত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে; আগে দুরন্ত বলত যে শিশুটির আচরণ, এখন সহজেই এডিএইচডির লেবেল 붙ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশাল ওষুধ শিল্পের ভূমিকা — অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের বাজার হচ্ছে মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলারের; এই শিল্পের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে আধুনিক জীবনযাপন নিজেই মানুষকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ক্লান্ত করছে: দীর্ঘ সময় স্ক্রিন নোরঘণ্টা, ঘুমের অভাব, ব্যায়ামের कमी, প্রক্রিয়াজাত খাবার, একাকীত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন নেতিবাচক সংবাদ—সব মিলিয়ে মনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হচ্ছে। সোশ্যাল মেডিয়াও বড় কারণ—অনেক তরুণ অন্যের সাজানো জীবন ঘন্টার পর ঘন্টা দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে, যা হতাশা বাড়ায় এবং আত্মবিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যাই নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় সংকেত। মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা প্রসার, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং তরুণদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন — না হলে সমস্যার কবে শেষ হবে বলা কঠিন।