০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সিপিডি: প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন আয়ের ওপর করের বোঝা অনুপাতে বেশি বেড়েছে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পানিসম্পদ মন্ত্রী সরকার এনবিআরকে দুইভাগ করে নীতি ও ব্যবস্থাপনা আলাদা করবে: অর্থমন্ত্রী পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার শিক্ষামন্ত্রীকে উপহার দিলেন এক হাজার ফুটবল অর্থনীতি ও কূটনীতিতে নতুন দ্বার খুলছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যে সংস্কার: চার বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করবে সরকার মালয়েশিয়ায় ‘অপস কুতিপ’ অভিযানে ১১৮ বাংলাদেশি আটক ২২,৩৫২ প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কী করা যাবে: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া পার্টি’

শ্যামনগরে অনলাইন জুয়ার ছোবলে তরুণ সমাজ বিপন্ন

স্যামনগরকে গ্রাস করেছে অনলাইন জুয়ার এক বিস্তৃত নেশা; স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা যুবসমাজকে এর জালে বাঁধছে। উপজেলার তরুণ, ছাত্র ও বেকারদের একটি বড় অংশ এই নেশায় নিমজ্জিত হওয়ায় সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং কয়েকজন আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে—স্থানীয়রা এভাবেই অভিযোগ করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত এবং এর বড় অংশই তরুণ। করোনাকালের পর এ প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা গেছে, লাখো মানুষ অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের প্রকোপ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। অনেকে জমিজমা বিক্রি করে, শেষ সঞ্চয় গাটিয়ে ঋণে ডুবছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত বেটিং সিন্ডিকেটগুলো কিশোর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত হাজির করছে নতুন শিকার।

স্থানীয়রা জানান, সিকে৪৪৪, সিবি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিকিয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮ ও লাইনবেটসহ দেশি-বিদেশি নানা বেটিং অ্যাপ দিয়ে জুয়ার কার্যক্রম চলছে। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল মুদ্রা মাধ্যমগুলোর সহজ লেনদেন সুবিধা থেকেও সরাসরি টাকার আকস্মিক আদানপ্রদান বেড়েছে, ফলে আসক্তি আরো গভীর হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে যে অনলাইন জুয়ার কারণে এলাকায় আত্মহত্যা, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ঋণগ্রস্ততা ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় শ্যামনগরের নওয়াবেঁকী এলাকায় এক সরকারি চাকরিজীবী এনজিও থেকে নেন ৪০ হাজার টাকা ঋণ—জুয়ায় তা হারিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঋণের টাকা পরিশোধে অক্ষমতায় এক কলেজছাত্রকে হত্যার মতো ঘটনায় নাম জড়িয়েছে।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়ার কারণে চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহ বেড়েছে; অনেক তরুণ জুয়ার টাকাসোগাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, অনলাইন জুয়া ও মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা আবেদন করছেন—অ্যাপ ও লেনদেনের কঠোর পর্যবেক্ষণ, সচেতনতা কর্মসূচি, আর্থিক সহায়তা-পরামর্শ ও আসক্তদের পুনর্বাসন ছাড়া এ বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে না। প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃত্ব মিলিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে জোরালোভাবে অনুভূত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

শ্যামনগরে অনলাইন জুয়ার ছোবলে তরুণ সমাজ বিপন্ন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্যামনগরকে গ্রাস করেছে অনলাইন জুয়ার এক বিস্তৃত নেশা; স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা যুবসমাজকে এর জালে বাঁধছে। উপজেলার তরুণ, ছাত্র ও বেকারদের একটি বড় অংশ এই নেশায় নিমজ্জিত হওয়ায় সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং কয়েকজন আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে—স্থানীয়রা এভাবেই অভিযোগ করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত এবং এর বড় অংশই তরুণ। করোনাকালের পর এ প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা গেছে, লাখো মানুষ অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের প্রকোপ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। অনেকে জমিজমা বিক্রি করে, শেষ সঞ্চয় গাটিয়ে ঋণে ডুবছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত বেটিং সিন্ডিকেটগুলো কিশোর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত হাজির করছে নতুন শিকার।

স্থানীয়রা জানান, সিকে৪৪৪, সিবি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিকিয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮ ও লাইনবেটসহ দেশি-বিদেশি নানা বেটিং অ্যাপ দিয়ে জুয়ার কার্যক্রম চলছে। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল মুদ্রা মাধ্যমগুলোর সহজ লেনদেন সুবিধা থেকেও সরাসরি টাকার আকস্মিক আদানপ্রদান বেড়েছে, ফলে আসক্তি আরো গভীর হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে যে অনলাইন জুয়ার কারণে এলাকায় আত্মহত্যা, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ঋণগ্রস্ততা ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় শ্যামনগরের নওয়াবেঁকী এলাকায় এক সরকারি চাকরিজীবী এনজিও থেকে নেন ৪০ হাজার টাকা ঋণ—জুয়ায় তা হারিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঋণের টাকা পরিশোধে অক্ষমতায় এক কলেজছাত্রকে হত্যার মতো ঘটনায় নাম জড়িয়েছে।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়ার কারণে চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহ বেড়েছে; অনেক তরুণ জুয়ার টাকাসোগাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, অনলাইন জুয়া ও মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা আবেদন করছেন—অ্যাপ ও লেনদেনের কঠোর পর্যবেক্ষণ, সচেতনতা কর্মসূচি, আর্থিক সহায়তা-পরামর্শ ও আসক্তদের পুনর্বাসন ছাড়া এ বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে না। প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃত্ব মিলিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে জোরালোভাবে অনুভূত হচ্ছে।