প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পেয়েছে TVF-এর অন্যতম আলোচিত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’—এবং এবার এসেছে দ্বিতীয় সিজন। হালকা হাস্যরস, গ্রামীণ জীবনের খুঁটিনাটি এবং হৃদস্পন্দন দেয় এমন আবেগঘন মুহূর্তের মিশেলে সিরিজটি ভারতের প্রান্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক বাস্তবসম্মত ছবি দাঁড় করিয়েছে। ‘ভাটকান্দি’ নামের কাল্পনিক এক গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলা গল্পটি শুধুই বিনোদন নয়, পাঠ দিয়েছে আরও নানা সামাজিক বাস্তবতার ওপর।
দ্বিতীয় সিজনটি প্রথম সিজনের ঠিক পর থেকেই শুরু হয়—ভাটকান্দির করোনা-ঝেলার মতো সময়ের পর ধসে পড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আবারও ধীরে ধীরে সেবায় ফিরছে এবং গ্রামের মানুষের আস্থাও ফিরে আসছে। তরুণ ডাক্তার ডা. প্রভাত সিনহার (আমোল পরাশর) দৃষ্টি এই কেন্দ্রকে একটি আদর্শ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষা ঘিরেই মূল কাহিনি ঘুরে বেঘোরে। কিন্তু চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, স্থানীয় রাজনীতি এবং গ্রামীণ সমাজে গড়া বিভিন্ন কুসংস্কার—এসবই তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পরিচালক লালিতম তিওয়ারির নির্দেশনায় এই সিজনের অন্যতম শক্তি হলো এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ। গ্রামীণ জীবনের ছন্দ, নানান সম্পর্ক ও দৈনন্দিন টানাপোড়েন সংলাপে খুবই সাবলীলভাবে উঠে এসেছে। হাস্যরস কৃত্রিম নয়—চরিত্র ও পরিস্থিতি থেকেই তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মায়, ফলে দর্শক সহজেই সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি, ভুল তথ্যের বিস্তার এবং সামাজিক কলঙ্কের মতো জটিল বিষয়গুলোকে সিরিজ গুরুত্ব দিয়ে দেখিয়েছে, কিন্তু কখনও অতিরিক্ত দাবিপূর্ণ বা বকুনি ধরার মতো হয়ে ওঠে নি।
কারিগরি দিক থেকেই সিরিজ প্রশংসার দাবিদার। ক্যামেরা গ্রাম্য সরলতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উষ্ণতা দিয়ে ধরা দিয়েছে, আর প্রোডাকশন ডিজাইন সেখানে বিশ্বাসযোগ্যতা যোগ করেছে—যা দর্শককে পুরো কাহিনির ভিতরে টেনে নিয়ে যায়। যদিও মাঝে মাঝে সম্পাদনার কারণে বেশ কয়েকটি পর্বে গল্পের গতিবেগ কিছুটা ধীর মনে হতে পারে, তবু সার্বিকভাবে সহজ ও সাবলীল গল্পবলির ধরন দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
অভিনয়ে আমোল পরাশর (ডা. প্রভাত) আবারও সিরিজের প্রধান আকর্ষণ; তিনি চরিত্রের আশাবাদ ও পরিবর্তনচেষ্টাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিনয় পাঠক তাঁর স্বভাবসুলভ ব্যঙ্গাত্মক উপস্থিতি দিয়ে গল্পে তীব্রতা যোগ করেছেন। আনন্দেশ্বর দ্বিবেদী, আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর ও দিনেশ লাল যাদব—তারা প্রত্যেকেই নিজের চরিত্রে প্রাসঙ্গিক ও প্রভাবশালী অভিনয় উপহার দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’ সিজন টু—শক্তিশালী অভিনয়, সূক্ষ্ম ও প্রাসঙ্গিক হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বার্তার সমন্বয়ে—গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জটিলতা ও মানবিক দিকগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছে। যে দর্শকরা গ্রামের বাস্তবতা, সামাজিক চ্যালেঞ্জ ও ছোটখাটো আশার গল্প দেখতে চান, তাদের জন্য এটি দেখার মতো এক উষ্ণ, চিন্তার উদ্রেককারী ধারাবাহিক।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























