০৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ রি-ইমাজিনড

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ১৯৭৯ সালের অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর কালজয়ী গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ এখন পুরোভাবে নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স এই গানের নতুন সংস্করণটির নাম রেখেছেন ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’—যা গাজার চলমান সংকটে প্রতিবাদ ও সহমর্মিতার স্বপ্নে তৈরি একটি রূপান্তর।

এই বিশেষ প্রজেক্টে রজার ওয়াটার্সের সঙ্গে পেশাগত ওজন দিয়েছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। তারা মূল গানের ব্যক্তিগত অসাড়তার থিমকে বদলে গ্লোবাল শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের বার্তায় রূপান্তর করেছেন। পুরোনো গানটির পরিচিত ব্যাকগ্রাউন্ড—১৯৭৭ সালে একটি লাইভ অনুষ্ঠানের আগে ওয়াটার্সের তীব্র পেটব্যথা ও ইনজেকশনের অভিজ্ঞতা—এবার নতুন প্রসঙ্গ পেয়েছে: ব্যক্তিগত বিস্মৃতির বদলে সংগ্রাম ও আত্মচেতনার একটি ডাকে।

রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি গানের কয়েকটি লাইনে সরাসরি প্রতিবাদী রূপ দিয়েছেন। মূল লাইনগুলো পাল্টে রাখা হয়েছে—‘আমি কখনই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না’—এভাবে গানটি নাগরিক অধিকার, সমতা ও ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবি তুলে ধরে। গানটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের স্মরণে নির্মিত—একজন মায়ের কল্পিত কথোপকথন ও শোককে কেন্দ্র করে।

গল্প বলার ভিজুয়াল শক্তি বাড়াতে গানের সঙ্গে প্রায় ৯ মিনিট দীর্ঘ একটি শর্ট ফিল্মও তৈরি করা হয়েছে, যার প্রধান চিত্রস্বরূপ গাজার ধ্বংসস্তূপ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এই গান ও শর্ট ফিল্মটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়—সেই মঞ্চেই রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি সরাসরি পারফর্ম করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটির ভিডিও মুক্তি পায়।

এই ভাসমান ও মানবিক উদ্যোগের সব আয় সরাসরি দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে, যারা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। সংগীতপ্রেমী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে এই প্রচেষ্টা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে এবং যুদ্ধবিরোধী সুর ও ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় একগুচ্ছ আলোচনা বাড়িয়েছে।

সংগীত ও চিত্রায়ণের এই মিলিত প্রতিবাদ একদিকে ইতিহাসের একটি আইকনিক গানকে নতুন ব্যঞ্জন দিয়েছে, অন্যদিকে কণ্ঠ দিয়েছে নিপীড়িত মানুষের কাহিনি—একটি সরাসরি আহ্বান বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ রি-ইমাজিনড

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ১৯৭৯ সালের অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর কালজয়ী গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ এখন পুরোভাবে নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স এই গানের নতুন সংস্করণটির নাম রেখেছেন ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’—যা গাজার চলমান সংকটে প্রতিবাদ ও সহমর্মিতার স্বপ্নে তৈরি একটি রূপান্তর।

এই বিশেষ প্রজেক্টে রজার ওয়াটার্সের সঙ্গে পেশাগত ওজন দিয়েছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। তারা মূল গানের ব্যক্তিগত অসাড়তার থিমকে বদলে গ্লোবাল শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের বার্তায় রূপান্তর করেছেন। পুরোনো গানটির পরিচিত ব্যাকগ্রাউন্ড—১৯৭৭ সালে একটি লাইভ অনুষ্ঠানের আগে ওয়াটার্সের তীব্র পেটব্যথা ও ইনজেকশনের অভিজ্ঞতা—এবার নতুন প্রসঙ্গ পেয়েছে: ব্যক্তিগত বিস্মৃতির বদলে সংগ্রাম ও আত্মচেতনার একটি ডাকে।

রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি গানের কয়েকটি লাইনে সরাসরি প্রতিবাদী রূপ দিয়েছেন। মূল লাইনগুলো পাল্টে রাখা হয়েছে—‘আমি কখনই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না’—এভাবে গানটি নাগরিক অধিকার, সমতা ও ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবি তুলে ধরে। গানটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের স্মরণে নির্মিত—একজন মায়ের কল্পিত কথোপকথন ও শোককে কেন্দ্র করে।

গল্প বলার ভিজুয়াল শক্তি বাড়াতে গানের সঙ্গে প্রায় ৯ মিনিট দীর্ঘ একটি শর্ট ফিল্মও তৈরি করা হয়েছে, যার প্রধান চিত্রস্বরূপ গাজার ধ্বংসস্তূপ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এই গান ও শর্ট ফিল্মটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়—সেই মঞ্চেই রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি সরাসরি পারফর্ম করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটির ভিডিও মুক্তি পায়।

এই ভাসমান ও মানবিক উদ্যোগের সব আয় সরাসরি দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে, যারা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। সংগীতপ্রেমী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে এই প্রচেষ্টা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে এবং যুদ্ধবিরোধী সুর ও ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় একগুচ্ছ আলোচনা বাড়িয়েছে।

সংগীত ও চিত্রায়ণের এই মিলিত প্রতিবাদ একদিকে ইতিহাসের একটি আইকনিক গানকে নতুন ব্যঞ্জন দিয়েছে, অন্যদিকে কণ্ঠ দিয়েছে নিপীড়িত মানুষের কাহিনি—একটি সরাসরি আহ্বান বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য।