০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সাড়ে চার মাস পর হরমুজ পার হলো পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ঢাকা ওয়াসার ২০২৪-২৫ বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসি গঠন করল পাঁচ সদস্যের কমিটি ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত ১০, আক্রান্ত ৫ হাজার ৩৯ গাঁজা অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের তীব্র সংঘর্ষ,多人 আহত চলতি অর্থবছরে বিটিভির আয় ৮ কোটি, ব্যয় ২৫৪ কোটি: তথ্যমন্ত্রী ঢাকা-সহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আর্জি: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলুন

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ রি-ইমাজিনড

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ১৯৭৯ সালের অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর কালজয়ী গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ এখন পুরোভাবে নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স এই গানের নতুন সংস্করণটির নাম রেখেছেন ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’—যা গাজার চলমান সংকটে প্রতিবাদ ও সহমর্মিতার স্বপ্নে তৈরি একটি রূপান্তর।

এই বিশেষ প্রজেক্টে রজার ওয়াটার্সের সঙ্গে পেশাগত ওজন দিয়েছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। তারা মূল গানের ব্যক্তিগত অসাড়তার থিমকে বদলে গ্লোবাল শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের বার্তায় রূপান্তর করেছেন। পুরোনো গানটির পরিচিত ব্যাকগ্রাউন্ড—১৯৭৭ সালে একটি লাইভ অনুষ্ঠানের আগে ওয়াটার্সের তীব্র পেটব্যথা ও ইনজেকশনের অভিজ্ঞতা—এবার নতুন প্রসঙ্গ পেয়েছে: ব্যক্তিগত বিস্মৃতির বদলে সংগ্রাম ও আত্মচেতনার একটি ডাকে।

রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি গানের কয়েকটি লাইনে সরাসরি প্রতিবাদী রূপ দিয়েছেন। মূল লাইনগুলো পাল্টে রাখা হয়েছে—‘আমি কখনই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না’—এভাবে গানটি নাগরিক অধিকার, সমতা ও ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবি তুলে ধরে। গানটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের স্মরণে নির্মিত—একজন মায়ের কল্পিত কথোপকথন ও শোককে কেন্দ্র করে।

গল্প বলার ভিজুয়াল শক্তি বাড়াতে গানের সঙ্গে প্রায় ৯ মিনিট দীর্ঘ একটি শর্ট ফিল্মও তৈরি করা হয়েছে, যার প্রধান চিত্রস্বরূপ গাজার ধ্বংসস্তূপ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এই গান ও শর্ট ফিল্মটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়—সেই মঞ্চেই রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি সরাসরি পারফর্ম করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটির ভিডিও মুক্তি পায়।

এই ভাসমান ও মানবিক উদ্যোগের সব আয় সরাসরি দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে, যারা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। সংগীতপ্রেমী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে এই প্রচেষ্টা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে এবং যুদ্ধবিরোধী সুর ও ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় একগুচ্ছ আলোচনা বাড়িয়েছে।

সংগীত ও চিত্রায়ণের এই মিলিত প্রতিবাদ একদিকে ইতিহাসের একটি আইকনিক গানকে নতুন ব্যঞ্জন দিয়েছে, অন্যদিকে কণ্ঠ দিয়েছে নিপীড়িত মানুষের কাহিনি—একটি সরাসরি আহ্বান বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ রি-ইমাজিনড

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ১৯৭৯ সালের অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর কালজয়ী গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ এখন পুরোভাবে নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স এই গানের নতুন সংস্করণটির নাম রেখেছেন ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’—যা গাজার চলমান সংকটে প্রতিবাদ ও সহমর্মিতার স্বপ্নে তৈরি একটি রূপান্তর।

এই বিশেষ প্রজেক্টে রজার ওয়াটার্সের সঙ্গে পেশাগত ওজন দিয়েছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। তারা মূল গানের ব্যক্তিগত অসাড়তার থিমকে বদলে গ্লোবাল শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের বার্তায় রূপান্তর করেছেন। পুরোনো গানটির পরিচিত ব্যাকগ্রাউন্ড—১৯৭৭ সালে একটি লাইভ অনুষ্ঠানের আগে ওয়াটার্সের তীব্র পেটব্যথা ও ইনজেকশনের অভিজ্ঞতা—এবার নতুন প্রসঙ্গ পেয়েছে: ব্যক্তিগত বিস্মৃতির বদলে সংগ্রাম ও আত্মচেতনার একটি ডাকে।

রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি গানের কয়েকটি লাইনে সরাসরি প্রতিবাদী রূপ দিয়েছেন। মূল লাইনগুলো পাল্টে রাখা হয়েছে—‘আমি কখনই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না’—এভাবে গানটি নাগরিক অধিকার, সমতা ও ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবি তুলে ধরে। গানটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের স্মরণে নির্মিত—একজন মায়ের কল্পিত কথোপকথন ও শোককে কেন্দ্র করে।

গল্প বলার ভিজুয়াল শক্তি বাড়াতে গানের সঙ্গে প্রায় ৯ মিনিট দীর্ঘ একটি শর্ট ফিল্মও তৈরি করা হয়েছে, যার প্রধান চিত্রস্বরূপ গাজার ধ্বংসস্তূপ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এই গান ও শর্ট ফিল্মটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়—সেই মঞ্চেই রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি সরাসরি পারফর্ম করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটির ভিডিও মুক্তি পায়।

এই ভাসমান ও মানবিক উদ্যোগের সব আয় সরাসরি দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে, যারা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। সংগীতপ্রেমী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে এই প্রচেষ্টা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে এবং যুদ্ধবিরোধী সুর ও ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় একগুচ্ছ আলোচনা বাড়িয়েছে।

সংগীত ও চিত্রায়ণের এই মিলিত প্রতিবাদ একদিকে ইতিহাসের একটি আইকনিক গানকে নতুন ব্যঞ্জন দিয়েছে, অন্যদিকে কণ্ঠ দিয়েছে নিপীড়িত মানুষের কাহিনি—একটি সরাসরি আহ্বান বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য।